ক্যান্সার রোগী কাঁদছেন! দিন মজুরের তিনমাসের শিশু শিরদাঁড়ার সমস্যা নিয়ে বাড়ি ফিরছে। আহত খালাসির ছেলেটি স্টিচ পেয়েছে , ব্যন্ডেজ করে দেওয়া হয়েছে। এরপরেও আবার চিকিৎসা চাইছে। কি সাহস ভাবা যায়! দুই বাচ্চার বাবার ডায়ালসিস করানোর ছিল। তাকে পারমিশন নিতে হবে তবে তিনি চিকিৎসা পাবেন। 
আরে মশাই আপনারা হাই প্রোফাইল নন — কেন ভুলে যান বুলন তো। আপনাদের ৫ – ৭ মিনিটের পরীক্ষা করে দিই, এটা বড় কথা নয় কি? আবার ঢিল ছুড়ছেন! 
আমার কটা প্রশ্ন আছে!!!
এই এত ছেলেমেয়েরা প্রতি বছর ডাক্তার হওয়ার পরীক্ষা দেন তারা কি জেনে পরীক্ষাটা দেন যে তাঁরা সেবা কাজে নিযুক্ত হচ্ছেন । সেটা মনে হয় না। আমরা জানি হস্টেলের পরিকাঠামো খারাপ । বর্ষাকালে কি ভাবে জল জমে মশা হয় সেটা সকলের জানা। খাবার ভালো নয়। ইত্যাদি। ইত্যাদি। ইত্যাদি। 
কিন্তু একজন জুনিয়র ডাক্তারকে আউটডোরে ২০০ রোগী দেখতে হয় । এ নিয়েও ক্ষোভ আছে। এর কি কারণ, কোন বীজ লুকিয়ে আছে এর জন্য তা নিশ্চয়ই জুনিয়র ডাক্তারদের অজানা নয়। পরিবহ আঘাত পেয়েছে, খুব দুঃখ জনক ঘটনা। এটা কখনওই কাম্য নয় কোনও একজন মানুষও বিনা দোষে বিনা কারণে আঘাত পাবেন। 
কিন্তু এটা কি হচ্ছে! 
না, আমার গর্বিত হওয়ার মত বা ফলাও করে বলার মত কোনও ডাক্তার আমার বাড়িতে নেই। দুরসম্পর্কের থাকলেও আমার জানা নেই। তবে হ্যাঁ, সরকারের ২৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে তৈরী হওয়া ডাক্তার , যারা আমাদের সর্বকালের ভগবান । তাঁরা যখন গ্রামের সরকারি হেলথ সেন্টার বা হাসপাতালের চাকরি ছেড়ে দেন, তাদের জায়গায় যাদের জায়গা নিতে হয়! যাদের আমরা কোয়াক বলে থাকি। তেমন দু একজন আমার পরিবারেও আছেন। তাঁরা অত্যন্ত সাধারণ মানুষ । তাঁদের কাছে সুট প্যান্ট পরা রোগীরা আসেন না। আসেন খেটে খাওয়া মানুষ গুলো। সানগ্নাস পরা কেতা দুরস্ত নারী নয় , কাঁকে ছেলে নিয়ে মা ঠাকুমা বোনেরা আসেন। সেই মানুষ গুলো যখন কোনো গ্রামে যায় কিংবা বাজারে বেরোন তখন অনেকেই ছুটে আসেন , ডাক্তারবাবুকে দেখবে বলে। না তাদের সিকিউরিটি গার্ড লাগে না! তাঁরা স্যাম্পেনের বোতল গিফ্টে পান না । যা পান তা নিপাট ভালোবাসা । তাঁরা জেলায় জেলায় ছড়িয়ে আছেন। তাঁদের আমার সশ্রদ্ধ প্রণাম । পড়াশুনা করা সমস্ত সরকারি ডাক্তাররা যখন নিজের ধর্মের কথা ভুলে পথে নামছেন তখন তাঁরা নীরবে কাজ করে চলেছেন। 
ডাক্তারবাবুরা আপনারা আন্দোলন চালিয়ে যান । নিশ্চয়ই চালাবেন। চার দিন কেন চারমাস চালান !! সাধারণ ছাপোষা গরীব , নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষ গুলো নাই বা চিকিৎসা পেল। উচ্চবিত্তের হাসপাতাল সর্বত্রই খোলা । সেখানে সব ডাক্তারবাবু বা ডাক্তার দিদি রা আছেন । আছেন তাঁদের নিজের চেম্বারে । চিন্তা নেই । তারা কিন্তু ধর্মঘটে যান নি ! ইস্তফা ও দেননি!!!

By aamarvlog

শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, রান্না সহ আরও নানা কিছু। আমার ব্লগ- হাবি জাবি নয়। যোগাযোগ- ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ- 9434312482 ই-মেইল- [email protected]

Feedback is highly appreciated...

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: