কাউন্সিলরদের ঠিক করে দেওয়া লোকজনদেরই ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে, ক্ষোভে সগরভাঙ্গা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের গেটে তালা

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটিও সাবস্ক্রাইব করে রাখুন বিভিন্ন আপডেট পাওয়ার জন্য।

দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর, ২৮ মে ২০২১: কাউন্সিলরদের ঠিক করে দেওয়া লোকজনদেরই ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। অথচ ভোর থেকে লাইনে থেকেও ভ্যাকসিন মিলছে না। ক্ষোভে শুক্রবার সকালে সাগরভাঙ্গা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের গেটে তালা দিয়ে দেওয়া হয়। কোকওভেন থানা থেকে পুলিশ এসেও সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পারেনি। উল্টে পুলিশকে ঘিরেই বিক্ষোভ শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত ঘন্টা তিনেক পরে আবার শুরু হয় ভ্যাকসিন দেওয়া।

বৃহস্পতিবার থেকে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতাল এবং পুরসভার স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে ১৮-৪৪ বছর বয়সীদের ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ দেওয়া শুরু হয়েছে। সাগরভাঙ্গায় পুরসভার ৫ নম্বর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শুক্রবার ভোর থেকে লাইন দিতে শুরু করেন অনেকে। কিন্তু তাঁদের না দিয়ে কাউন্সিলরদের কাছ থেকে সই করে কাগজ নিয়ে আসা বাইরে থেকে আসা মানুষজনকে ভ্যাকসিন দেওয়া হতে থাকে বলে অভিযোগ।

শুরু হয়ে যায় বিক্ষোভ। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। ভিতরে আটকে থাকেন ভ্যাকসিন দিতে আসা পুরসভার স্বাস্থ্যকর্মীরা। আবার বাইরে থেকে ভিতরে ঢুকতে গিয়ে বাধা পান স্বাস্থ্যকর্মী মুক্তা দাস চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের তো কাজ করতে হবে। ভিতরে ঢুকতেই হবে।’’ পুলিশ এলে ভ্যাকসিন নিয়ে কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে স্বজনপোষণের অভিযোগ তুলে পুলিশকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ শুরু হয়।

তাপস পাল নামে একজন বলেন, ‘‘ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছিল। হঠাৎ ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েকজনের নাম ডাকা শুরু হয়। জিজ্ঞেস করায় জানতে পারি, তাঁদের পাঠিয়েছেন কাউন্সিলর। আমরা ভোর ৪ টা থেকে লাইন দিয়ে ভ্যাকসিন পাব না। আর বাইরে থেকে এসে ভ্যাকসিন নিয়ে যাবে, এটা চলবে না।’’ পিয়ালী শীল নামে আর একজন বলেন, ‘‘আগে থেকে কেন জানানো হয়নি যে শুধু কাউন্সিলরদের পাঠানো নাম থেকেই ভ্যাকসিন দেওয়া হবে? ভোর ৪ টা থেকে লাইন দিয়েছি। এখন ১১ টার সময় তা জানানো হচ্ছে। ভ্যাকসিন না নিয়ে কিছুতেই যাব না।’’

বরো চেয়ারম্যান সুনীল চট্টোপাধ্যায় স্বজনপোষণের অভিযোগ মানেননি। তাঁর দাবি, এখন স্পেশাল ক্যাটাগরিতে শুধু হকারদের ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। সেজন্য কাউন্সিলর বা চেম্বার অফ কমার্সের সার্টিফিকেট আনতে হচ্ছে তাঁদের। দু’দিন পর থেকে সবাইকে ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হবে। তখন আর এসব লাগবে না। তাঁর এই মন্তব্যের পরেও ক্ষোভ মেটেনি। তাঁদের সাফ বক্তব্য, ওসব চলবে না। সবাইকে ভ্যাকসিন দিতে হবে। শেষ পর্যন্ত বরো চেয়ারম্যান নোটিশ দিয়ে জানান,  প্রতি ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলরের পাঠানো ২০ জনকে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। ২৫-৩১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এবং ৩৯-৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা শ্যামপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভ্যাকসিন পাবেন। এরপর ফের শুরু হয় ভ্যাকসিন প্রদান।

 

aamarvlog

শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, রান্না সহ আরও নানা কিছু। আমার ব্লগ- হাবি জাবি নয়। যোগাযোগ- ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ- 9434312482 ই-মেইল- [email protected]

Feedback is highly appreciated...

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: