ভোটের মুখে তুমুল বিতর্কিত পোস্ট তৃণমূল জেলা পরিষদের সদস্যের, চাঞ্চল্য

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটিও সাবস্ক্রাইব করে রাখুন বিভিন্ন আপডেট পাওয়ার জন্য।

দুর্গাপুর দর্পণ, বর্ধমান, ২৭ মার্চ ২০২১ঃ ভোটের মুখে সোশ্যাল মিডিয়ায় ফের বিতর্কিত পোস্ট করে দলের বিড়ম্বনা বাড়িয়েছেন পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের তৃণমূল সদস্য নুরুল হাসান। আগেও তিনি এমন পোস্ট করায় দলের তরফে সতর্ক করা হয়েছিল তাঁকে। তবে তিনি যে বদলাননি, ফের তা প্রমাণ হয়ে গিয়েছে নতুন পোস্টে। মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে জেলা, রাজ্য নেতৃত্ব, কাউকেই ছেড়ে কথা বলেননি এই পোস্টে।

তিনি লিখেছেন, “জেলা পরিষদ জিতে প্রথম বার সদস্য হয়ছি তখন, কাজ‌ শুরু করেছি তখন, হঠাৎ বিকালে তদানীন্তন SP সাহেবের ফোন নুরুল কোথায় আছো, বললাম sir জেলা পরিষদে আছি, বললো দেখা করো তুমি, কোথায় দেখা করবো,বললো আধ ঘন্টার মধ্যে ‌তুমি বাইপাসে চলে এসো আমি কলকাতা থেকে ফিরছি ওখানেই কথা বলবো আমি কথা মতো পুলিশ লাইনে গিয়ে ফোন করলাম sir পুলিশ লাইনের কাছে আছি এখানে থাকবো না বাইপাস যাবো,বললো, না‌ ওখানেই থাকো, কিছুক্ষণ পড়েই এলেন,বললো CM তোমাকে গ্রেপ্তার করতে বলেছেন। বললাম কি অপরাধ আমার, CM এর কাছে ‌কেও অভিযোগ করেছে তুমি টাকা তুলে দোতলা বাড়ি করছো, আমি অবাক হয়ে গেলাম। বললাম আমাদের পাড়ায় দুটি মাত্র দোতলা বাড়ি ছিল (এখন‌ অনেক) একটি আমার বাবার আর একটা অদুত দা র। আমি জন্ম থেকেই দোতলা বাড়িতে থাকি, তদন্ত করুন। আমার কথা‌ শুনে গ্রেপ্তার না করে বললো ঠিক আছে যাও আমি তদন্ত করে রিপোর্ট না দেওয়া পর্যন্ত তুমি জেলা পরিষদ ঢুকবে না। আমি দেখলাম আমি তো কোনো অপরাধ করিনি জেলা পরিষদ কেন ঢুকবো না, একদিন পর আমি জেলা পরিষদ গেলাম দেখলাম সভাধিপতি সহ আমার দলের লোকরা আমাকে এড়িয়ে চলছে, কথা বলতে চাইছে না। খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। তদন্তে সব মিথ্যা প্রমাণিত হয়।”

তিনি আরও লিখেছেন, “দলের নির্দেশে জেলা পরিষদের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করলাম, নমিনেশন পত্র দাখিল করার শেষ দিনের আগের দিন রাত ২ টায় বিশাল পুলিশ বাহিনী আমাদের বাড়িতে হামলা,সে দিন আমি বাড়িতে ছিলাম না, ছিলাম বর্ধমান ভবনে, শুনলাম এখানেও পুলিশ আস্তে পারে,অত রাতে এখান‌ থেকে কি করে বেরোবো সব গেট বন্ধ, কোথায় যাবো আমি,ঐ রাতে কাকে ফোনে পাবো আমি, ভাবতে ভাবতেই একজন শুভানুধ্যায়ী কে ফোন করলাম, ফোনে পেয়েও গেলাম,শুনেই বললো এখনি চলে আয় আমি দাঁড়াচ্ছি,ঐ গভীর রাতেই কোন রকমে বর্ধমান ভবনের রেলিং টপকে পাশেই ওনার বাড়ি ছিল চুপি চুপি ঢুকে পড়লাম। আমার মা,ভাই কাঁদতে কাঁদতে ফোন করছে আমাকে, আমি জানি না আমার অপরাধ কি,কি অপরাধে আমাকে গ্রেপ্তার করতে এসেছে,পরে জানলাম এক নেতার কথায় আমাকে আটকে রাখতে বলা হয়েছিল যাতে আমি নমিনেশন করতে না পারি, তার ইচ্ছা ছিল আমাকে দাঁড়াতে না দেওয়া তার ইচ্ছামত একজন কে প্রার্থী করা, সেই নেতা জানতো না আমি আগেই নমিনেশন করে ফেলেছি। সে দিন মা বলেছিল তোর দলের নেতারাই যদি এইরকম ব্যবহার করে তুই কেনো এই দল করছিস ছেড়ে দে রাজনীতি, তবুও ছাড়িনি..”। তিনি লিখেছেন, “আমাকে মার্ডার কেসে ১ নং আসামি করা হলো, জেলা নেতা থেকে রাজ্য নেতার দরজায় দরজায় ঘুরেছি, জেলা নেতা তো ঘরে থেকেও‌ বলেছে নাই আর রাজ্য নেতার কথা আর বললাম না।”

বাম আমলের চেয়ে তৃণমূলের আমলেই যে তাঁকে অনেক বেশিবার মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হয়েছে সেই দাবি করেছেন তিনি পোস্টে। তিনি লিখেছেন, সিপিএম আমলে যত না মামলা হয়েছে, তার চেয়ে বেশি অত্যাচারিত হয়েছি আমাদের আমলে। মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হয়েছে। এই দলটার জন্য ঘাম, রক্ত দিয়েছি। চোখের সামনে দেখছি, যাঁরা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাঁরা দলটাকে নিয়ে ব্যবসা করছেন।

সংখ্যালঘু প্রভাবিত ব্লকের জেলা পরিষদের সদস্য হওয়ার পরেও বিধানসভা নির্বাচনের কমিটিতে তাঁর ঠাঁই না পাওয়া নিয়ে সরব হয়েছেন তিনি। নিজের বুথে জিততে না পারা নেতাদের রাখা হয়েছে বলে তোপ দেগেছেন তিনি। তাঁর জেলা পরিষদের প্রার্থী হওয়া আটকাতেও চক্রান্ত করা হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেছেন তিনি।  সব মিলিয়ে প্রকাশ্যে স্বীকার না করলেও বিধানসভা ভোটের মরসুমে বর্ধমানের তৃণমূল নেতৃত্ব যে এই ঘটনায় বিব্রত তা বলাই বাহুল্য!

aamarvlog

শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, রান্না সহ আরও নানা কিছু। আমার ব্লগ- হাবি জাবি নয়। যোগাযোগ- ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ- 9434312482 ই-মেইল- [email protected]

Feedback is highly appreciated...

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: