লকডাউনে বদলাচ্ছে ব্যবসার ধরণ, সঙ্গী ফেসবুক লাইভ

কোভিড পরিস্থিতিতে দ্রুত বদলাচ্ছে ব্যবসার ধরণ। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে এই প্রবণতা দেখা দিয়েছে ভীষণভাবে। বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই মেয়েদের বিভিন্ন গ্রুপে শুরু হয়ে যায় অনলাইনে কেনাকাটা।

এই কেনাকাটার প্রধান হোস্ট ৯০% ক্ষেত্রে মহিলারা। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আছে তাঁদের দোকান। করোনা পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই ভরসা রাখছেন ফেসবুক লাইভে। 

ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে এই ব্যবসায়ীরা রয়েছেন। এক এক দিন এক এক গ্রুপে তাঁরা ফেসবুক লাইভে প্রোগ্রাম করছেন। কেউ আবার একটা গ্রুপেই আছেন। সেখানেই নিয়মিত ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে কেনা-বেচা করে থাকেন। বিশেষত, লাইফস্টাইল বিষয়ক জিনিসপত্র কেনাবেচা হয়। ছোটদের পোশাক, বড়দের নাইটি, কাফতান, পার্টিওয়ার, শাড়ি,  ছেলেদের পাঞ্জাবী, শার্ট কিছুই বাদ নেই। এমনকি গিফটের জিনিসপত্রও। জুয়েলারি, ব্যাগ,  ছাতা,  সুগন্ধী সামগ্রী,  রান্নাঘরের জিনিসপত্র ইত্যাদি নানা ধরণের মার্কেটিং চলছে অনলাইনে।

এভাবেই চলছে কেনাকাটা। ছবি- ফেসবুক।

বাড়িতে বহুদিনের পারিবারিক দোকান। তাঁরা ক্রেতাদের সঙ্গে কথোপকথনের মাধ্যমেই জিনিসপত্র বিক্রি করে থাকেন। এতেই তাঁরা সাবলীল। লাইভে এসে এই ভাবে একা কথা বলে জিনিস বিক্রিতে অনেকেই আড়ষ্ট। কিন্তু তাঁদেরই ছেলে-মেয়েরা মুশকিল আসান হয়ে এগিয়ে এসেছেন। তাঁরা সব নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়ে। তাঁরাই ফেসবুকের বিভিন্ন পেজে যোগ দিচ্ছেন। বড়দের উৎসাহ দিচ্ছেন এই লাইভে জিনিসপত্র বিক্রিতে।

তনুশ্রী সাহা জানিয়েছেন,  শ্যাওড়াফুলিতে তাঁর বাড়ি  ও কাপড়ের দোকান। ফেসবুক লাইভে প্রথমে লজ্জা পেতেন। কিন্তু মেয়ের উৎসাহে এখন অনেকটা ধাতস্ত। ক্রেতাদের অনেকে বলেছেন,  কোভিডের জন্য বাইরে বেরনো একেবারে বন্ধ। খুব প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়াই ভালো। এক্ষেত্রে অনলাইনে ভরসা রাখতে হচ্ছে।

ই-কমার্স সাইটে বড় বড় কোম্পানির স্যাম্পেলের ছবি থাকে ঠিকই। কিন্তু চোখে না দেখে কিনতে পছন্দ করেন না অনেকে। লাইভে চোখে দেখে কিনবার সুযোগ থাকে। ফেসবুক লাইভে সামগ্রী পছন্দ হল। এরপর হোয়াটসঅ্যাপে কেনাকাটার বিষয় চূড়ান্ত হল, কিভাবে দাম মেটাবেন, সেটাও ঠিক হয়ে গেল। দরকার হলে সামগ্রীর স্টিল ছবিও এসে গেল হোয়াটসঅ্যাপে। শিপিং চার্জ লাগে ঠিকই, কিন্তু বাড়িতে বসেই পছন্দ করে সামগ্রী কিনতে পারা যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে,  কোভিড পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা বেশ সমস্যায় পড়েছেন। এই রাজ্যের মেয়েরা বেশ সাহসী। তাঁরাই বেশীর ভাগ লাইভে এসে সামগ্রী বিক্রি করছেন। দুপুরে খাওয়া-দাওয়ার পর শুরু হচ্ছে ফেসবুক লাইভ। চলছে বিকাল পর্যন্ত। এখানে ক্রেতাদের অধিকাংশই মহিলা। মেয়েরা মেয়েদের নির্ভর করতে পারছেন। ফলে দুদিক থেকেই কেনাবেচায় সুবিধাই হচ্ছে। দুপুরে মহিলারা অবসর পান। তাই এসময়কেই বেছে নিচ্ছেন,  বেশীর ভাগ ব্যবসায়ীরা।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন,  এবার পুজোয় বেশীর ভাগ বিক্রিও ফেসবুক লাইভ  থেকেই হবে বলে আশা করছেন ওই ব্যবসায়ীরা।

aamarvlog

শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, রান্না সহ আরও নানা কিছু। আমার ব্লগ- হাবি জাবি নয়। যোগাযোগ- ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ- 9434312482 ই-মেইল- [email protected]

Feedback is highly appreciated...

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: