pix of a boy is busy with laptops

‘বেশি মোবাইল ঘেঁটো না। চোখ খারাপ হয়ে যাবে।’

‘একটানা ল্যাপটপে চোখ রেখো না। অন্তত আধঘন্টা পর পর চেয়ার ছেড়ে উঠে গিয়ে কয়েক পা ঘুরে এসে ফের ল্যাপটপে বসো।’

এসব উপদেশ শুনেই বরাবর বড় হচ্ছে খুদেরা। কিন্তু গত তিন মাসে পরিস্থিতি একেবারেই বদলে গিয়েছে। টানা প্রায় একঘন্টা ধরে মোবাইল বা ল্যাপটপের সামনে বসে ক্লাস করছে বাড়ির খুদেটি। অথচ বাবা-মা কিছুই বলতে পারছেন না। কারণ, এ’ছাড়া যে আর উপায় নেই। কবে স্কুল খুলবে তার ঠিক নেই। তাই চোখের কি হবে তা আর ভাবছেন না তাঁরা।

পড়ুয়াদের চোখের যত্ন নিন। Pix of a boy is busy with laptops
A boy is busy with laptops

বিভিন্ন স্কুল পৌনে একঘন্টা করে অনলাইনে এক একটি করে ক্লাস নিচ্ছে। মোবাইল বা ল্যাপটপের সামনে বসে অ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ গড়ে তোলা থেকে ক্লাস শেষ হওয়ার পরে মোবাইল বা ল্যাপটপ বন্ধ করা পর্যন্ত সময়টা প্রায় একঘন্টা হয়ে যায়। অর্থাৎ, প্রায় একঘন্টা পর্যন্ত টানা মোবাইল বা ল্যাপটপের স্ক্রিনে চোখ রাখতে হচ্ছে পড়ুয়াদের। আর এমন ক্লাস সারা দিনে ৩-৪ টি পর্যন্ত হচ্ছে কোনও কোনও স্কুলের। শুধু ক্লাস নয়, হোমওয়ার্ক, ক্লাস টেস্ট সবই হচ্ছে অনলাইনের মাধ্যমে। আবার তাদের অধিকাংশের অবসর বিনোদনের অন্যতম মাধ্যমও হল মোবাইল। ফলে স্কুলের অনলাইন ক্লাস ছাড়াও আরও বহুক্ষণ চোখ থাকছে মোবাইলের স্ক্রিনে।

পড়ুয়াদের চোখের যত্ন নিন। মনোবিদরা জানাচ্ছেন, এই পরিস্থিতিতে অনলাইন ক্লাস বাদে বাকি সময় বাচ্চাকে মোবাইল বা ল্যাপটপ থেকে দূরে রাখতে হবে। মোবাইল থেকে দূরে রাখতে গেলে বাচ্চাদের বই পড়ার উপর জোর দিতে হবে। ঘরে বসে খেলা যায় যেমন ক্যারাম বা এই ধরণের খেলায় বাচ্চাদের উৎসাহ দিতে হবে। বাড়ির ছোটখাটো কাজে তাদের লাগানো যেতে পারে। স্কুল না থাকায় বাচ্চাদের রোজকার রুটিনের পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। বাবা-মায়েদের এদিকে নজর দিতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ে রাতে বিছানায় যাওয়া, সকালে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠা, নিদিষ্ট সময়ে পড়তে বসা দরকার।

পড়ুয়াদের চোখের যত্ন নিন। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, দিনের পর দিন এভাবে ঘন্টার পর ঘন্টা মোবাইল আর ল্যাপটপের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকার দরুণ নানা রকম সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে পড়ুয়ারা। চক্ষু বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, স্ক্রিন থেকে খুব সামান্য মাত্রার হলেও তড়িৎ-চুম্বকীয় রেডিয়েশন ছড়ায়। ক্লাস করার সময় পড়ুয়াদের পুরো মনযোগটা থাকে স্ক্রিনের উপরে। চোখের পাতা ফেলার কথা মনেই থাকে না। ফলে ‘চোখ’ ড্রাই হয়ে যায়। তাই তাঁদের পরামর্শ, ক্লাস শুরুর ১০-১৫ মিনিট আগে একটি ‘লুব্রিকেটিং এজেন্ট’ চোখে দিলে চোখ ভিজে থাকবে।

লকডাউনে বেরোতে না পেরে সময় কাটানোর জন্য ক্লাসের আগে-পরেও পড়ুয়ারা মোবাইল ব্যবহার করছে বহুক্ষণ ধরে। এর প্রভাব স্নায়ুতন্ত্রে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বেশিক্ষণ মোবাইল ব্যবহার করলে বিছানায় গিয়ে ঘুম আসতে সমস্যা হয়। ঘুম হলেও তা গভীর হয় না। মনোসংযোগে ঘাটতি হয়। কেউ কিছু বললে তা মন দিয়ে শুনতে পারে না। তাঁরা আরও জানাচ্ছেন, অনেক বাচ্চা আসছে মাথা ধরার সমস্যা নিয়ে। অনেকের চোখের ‘পাওয়ার’ বেড়ে যাচ্ছে।

পড়ুয়াদের চোখের যত্ন নিন। আসলে, একটানা কাজ করার সময় চোখের বিশ্রাম দরকার। দূরের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকা দরকার। চক্ষু বিশেষজ্ঞরা আরও জানাচ্ছেন, বাচ্চাদের চোখ বড়দের মতো পরিণত নয়। টানা মোবাইলের ব্যবহারে চাপ পড়ছে চোখের উপর। এই পরিস্থিতি দীর্ঘদিন চললে বাচ্চাদের অনেকেরই চোখের সমস্যা দেখা দেবে বলে আশঙ্কা রয়েছে। তাই ছোটদের দিনে দুটি এবং উঁচু ক্লাসে ৩-৪ টির বেশি ক্লাস না হলেই ভাল।

টানা ক্লাস করে পড়ুয়াদের কারওর চোখ জ্বালা করে, কারওর চোখ দিয়ে জল পড়ে। এর ফলে দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি হচ্ছে। ক্লাস শেষ হওয়ার পরে কলের জল দিয়ে ঝাপটা মেরে চোখ ধুয়ে নিতে হবে।

By aamarvlog

শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, রান্না সহ আরও নানা কিছু। আমার ব্লগ- হাবি জাবি নয়। যোগাযোগ- ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ- 9434312482 ই-মেইল- [email protected]

Feedback is highly appreciated...

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: