কাজ হারানোর আশঙ্কায় রাজ্যের সাড়ে ৬ হাজার কম্পিউটার শিক্ষক

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটিও সাবস্ক্রাইব করে রাখুন বিভিন্ন আপডেট পাওয়ার জন্য।

দুর্গাপুরঃ রাজ্যের প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কম্পিউটার শিক্ষক রয়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়। তাঁরা হাতে মাত্র মাসে সাত হাজার টাকা বেতন পান। পার্শ্বশিক্ষক, কলেজের আংশিক সময়ের শিক্ষকদের রাজ্য সরকার ৬০ বছর পর্যন্ত স্থায়ী করেছে। সেখানে কম্পিউটার শিক্ষকদের নিয়ে সরকারের তরফে কোনও উচ্চবাচ্য নেই। আগামীতে নতুন শিক্ষানীতি চালু হলে কাজ থাকবে কি না তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তাঁরা।

কয়েক বছর আগে রাজ্য সরকারি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের কম্পিউটার বিষয়ে শিক্ষাদানের জন্য ২০১৩ সালে চালু হয় “আইসিটি স্কুল প্রজেক্ট”। সরকারিভাবে এই প্রকল্প দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয় ওয়েবেল সংস্থাকে। ধাপে ধাপে চলেছে শিক্ষক নিয়োগ। শিক্ষক নিয়োগের দায়িত্ব ওয়েবেল আবার দিয়ে রেখেছে তিন বেসরকারি সংস্থাকে। সেগুলি হল IL&FS (বর্তমানে যার পরিবর্তিত নাম SchoolNet), ExtraMarks এবং ACES। অভিযোগ, এই তিন সংস্থা বঞ্চিত করে চলেছে কম্পিউটার শিক্ষকদের।

ভিডিওতে দেখুন

ছাত্র-ছাত্রীদের কম্পিউটার বিষয়ে শিক্ষাদান প্রধান কাজ হলেও স্কুলে কোনও শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলে তাঁর ক্লাস নেওয়া এমনকি রাজ্যের সমস্ত সরকারি প্রকল্পের কাজও তাঁরা করে থাকেন। অথচ প্রতি মুহূর্তে চাকরি হারাবার আশঙ্কায় থাকেন তাঁরা। অভিযোগ, ACES সংস্থা করোনা আবহের মধ্যে জুন মাসে উত্তরবঙ্গের প্রায় শ’খানেক শিক্ষক-শিক্ষিকাকে ছাঁটাই করে দিয়েছে।

কম্পিউটার শিক্ষকদের আশঙ্কা, একই পথে হাঁটতে চলেছে IL&FS বা SchoolNet। এবার প্রায় সাড়ে তিনশো জনের ছাঁটাই হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বারবার জানানো সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত সরকারি দফতর থেকে কোনও সমাধান সূত্র আসেনি। দিদিকে বলো বিভাগে অভিযোগ জানিয়েছিলেন জামুড়িয়ার রাজীব অধিকারী, অণ্ডালের সৌরভ সরকার, দুর্গাপুরের বিমলা মাহাতো, কাঁকসার অর্পিতা রায়, শেখ সেলিম, ফরিদপুরের মহম্মদ আজহারউদ্দিনরা। সৌরভবাবু বলেন, ৭৩ বছর হয়ে গেল দেশ স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু আমরা আজও পরাধীন। আমরা প্রতি মুহূর্তে লড়াই করছি নিজেদের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য।

খুব কম বেতনে কাজ করতে হয় কম্পিউটার শিক্ষকদের। বর্ধিত বেতন ১০০০০ টাকা এবং বার্ষিক ৩% ইনক্রিমেন্ট এর ১৪ অগস্ট ২০১৯ সালের সরকারি নির্দেশ নামা থাকা সত্ত্বেও তিন বেসরকারি সংস্থা সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে তাঁদের হাতে মাত্র সাত হাজার টাকা তুলে দেয় বলে অভিযোগ। অথচ ২০১৯ সালের ৯ জানুয়ারির সরকারি নির্দেশ নামা অনুযায়ী রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সংস্থাপিছু বরাদ্দ করা হয় বছরে প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ।

কম্পিউটার শিক্ষকদের সংগঠন WBICTSCWA এর রাজ্য সভাপতি স্বরূপ পান জানান, আর্থিক অভাবের জন্য অনেক অভিভাবকই তাদের সন্তানদের ভর্তি করতে পারেন না বেসরকারি স্কুলে। সরকারি স্কুলই তাঁদের একমাত্র ভরসা। কিন্তু এখনও রাজ্যের সমস্ত স্কুলে চালু হয়নি ছাত্র-ছাত্রীদের বিনামূল্যে কম্পিউটার সাক্ষরতার এই আইসিটি প্রজেক্ট। এখনও সরকারি মর্যাদা পায়নি কম্পিউটার বিষয়টি। তৈরি হয়নি কোনও নির্দিষ্ট সিলেবাস।

WBICTSCWA এর রাজ্য কমিটির সদস্য বিট্টু নন্দী জানান, আগামী দিনে চালু হতে চলেছে জাতীয় শিক্ষানীতি। এর ফলে আরও আশঙ্কায় পড়ে গিয়েছেন কম্পিউটার শিক্ষকেরা। এই পরিস্থিতিতে তাঁদের একমাত্র দাবী বেসরকারি সংস্থাগুলিকে সরিয়ে দিয়ে তাঁদের উপযুক্ত বেতন দিয়ে স্থায়ীকরণ করা হোক। পার্শ্বশিক্ষক, কলেজের আংশিক সময়ের শিক্ষকদের মতো তাঁদেরও ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত চাকরি সুনিশ্চিত করা হোক।

 

https://durgapur24x7.com/ict-computer-teachers-want-to-meet-cm-to-fulfil-their-demand-before-state-election/

aamarvlog

শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, রান্না সহ আরও নানা কিছু। আমার ব্লগ- হাবি জাবি নয়। যোগাযোগ- ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ- 9434312482 ই-মেইল- [email protected]

Feedback is highly appreciated...

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: