কোভিড পরিস্থিতিতে জুতোর মাপ দিতে স্কুলে এল প্রাথমিক বিভাগের পড়ুয়ারা, বিতর্ক

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটিও সাবস্ক্রাইব করে রাখুন বিভিন্ন আপডেট পাওয়ার জন্য।

দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুরঃ করোনা পরিস্থিতিতে স্কুল খুলতে পারছে নাশিক্ষা দফতর। অথচ সেই দফতর থেকেই জুতো বিলির জন্য পড়ুয়াদের জুতোর মাপ চেয়ে পাঠানোয় স্কুলে আসতে হল পড়ুয়াদের। এই ঘটনায় দফতরের দ্বিচারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবকেরা।

তাঁরা বলেন, ‘‘যেখানে ২ ফেব্রুয়ারি শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় স্বয়ংসাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন, নবম থেকে দ্বাদশ পর্যন্ত ক্লাস শুরুর কথা ভাবনা চিন্তাকরা হলেও প্রাথমিক বিভাগ এখনই খোলার কোনও চিন্তাভাবনা নেই। মিড ডি মিলের সামগ্রীওআনতে হয় অভিভাবকদের। সেখানে কিভাবে জুতোর মাপ দিতে স্কুলে ডেকে পাঠানো হল প্রাথমিকের পড়ুয়াদের, তা বোধগম্য হচ্ছে না।’’

মঙ্গলবার ২ ফেব্রুয়ারি জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের অফিস থেকে নির্দেশিকাপাঠিয়ে জানানো হয়, বুধবার ৩ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১ টার মধ্যে প্রি-প্রাইমারি থেকেচতুর্থ শ্রেণীর পড়ুয়াদের জুতোর মাপ নিয়ে জমা দিতে হবে।  পশ্চিম বর্ধমানের বহু স্কুলের প্রথমিক শিক্ষকদেরদাবি, ‘‘লিখিত কোনও নির্দেশিকা আসেনি। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭ টা ৫০ মিনিটে নির্দেশ আসে। কিন্তু এত অল্প সময়ে সবার পায়ের মাপ দিতে গেলে বাচ্চাদেরস্কুলে ডাকতে হয়। অথচ কোভিড পরিস্থিতিতে তার নিয়ম নেই।’’

যদিও জানা গিয়েছে, বেশকিছু স্কুলে এদিন পড়ুয়াদের ডেকে পাঠিয়ে জুতোর মাপ নেওয়া হয়। আবার কিছু স্কুলে পায়ের মাপ অনুমান করে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। জুতো আদৌ পায়ে গলবে কি না বা পায়ের থেকে বড় হবে কি না সেটা জুতো আসার পরেই বোঝা যাবে! পুরুলিয়া জেলায় অবশ্য লিখিত নির্দেশিকা এসেছে। বুধবার ৩ ফেব্রুয়ারি দুপুর১ টার মধ্যে পড়ুয়াদের জুতোর মাপ জমা দিতে বলা হয়েছিল। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মাপনা দিলে জুতো দেওয়া হবে না বলেও জানানো হয়। পূর্ব বর্ধমানে আবার নোটিশ বা হোয়াটসঅ্যাপ,কোথাও কিছু জানানো হয়নি। পুরুলিয়ার বালুভাষা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক চন্দনচট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘এত কম সময়ে পড়ুয়াদের সবার মাপ জোগাড় করা সম্ভব নয়। আবার পড়ুয়াদেরস্কুলে ডেকে পাঠানোর কোনও নির্দেশ পাইনি। তাই আন্দাজ মতো একটি তালিকা পাঠানোহয়েছে।’’

পশ্চিম বর্ধমানের নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সম্পাদক অনির্বাণবাগচী বলেন, ‘‘কোভিড পরিস্থিতিতে পড়ুয়ারা স্কুলে আসেনি। প্রি-প্রাইমারির পড়ুয়াদেরঅভিভাবকেরা ভর্তি করে দিয়ে গেছেন। তাদের আমরা চোখেও দেখিনি। হাতে সময় পেলেস্বাস্থ্যবিধি মেনে জুতোর সঠিক মাপ পাঠাতে পারতাম।’’ উস্থির সম্পাদক ভাস্কর ঘোষবলেন, ‘‘বাচ্চাদের পায়েরমাপ না নিয়ে জুতো সরবরাহ করা হলে তা যদি সঠিক মাপের না হয়, সরকারের আসল উদ্দেশ্যকি সফল হবে? তাছাড়া, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ কি সরকারি তথ্য আদান প্রদানেরমাধ্যম হতে পারে? এই প্রশ্নও কিন্তু থেকে যাচ্ছে।’’

পশ্চিম বর্ধমানের প্রাথমিকজেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক দেবব্রত পাল বলেন, ‘‘যাঁরা তথ্য পাঠাতে পারেন নি তাঁদেরজন্য সময় বাড়ানো হবে। পড়ুয়ারা কেউ জুতো পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবে না।’’

aamarvlog

শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, রান্না সহ আরও নানা কিছু। আমার ব্লগ- হাবি জাবি নয়। যোগাযোগ- ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ- 9434312482 ই-মেইল- [email protected]

Feedback is highly appreciated...

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: