ধুমধাম করে পুতুলের বিয়ে দিয়ে বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টায় স্বপ্নছন্দম

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটিও সাবস্ক্রাইব করে রাখুন বিভিন্ন আপডেট পাওয়ার জন্য।

দুর্গাপুরঃ পুতুলের বিয়ে নিয়ে মেতে উঠছে স্বপ্নছন্দমের ছেলে-মেয়েরা। স্বপ্নছন্দমের ১৫ জন শিক্ষার্থী ও তাঁদের মায়েরা পুতুলের বিয়েতে অংশ নিয়েছিলেন সাগ্রহে। বুধবার ছিল মেহেন্দি অনুষ্ঠান। ধুমধাম করে বিয়ে হল বৃহস্পতিবার।

আবহমানকাল ধরে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যের সঙ্গে ওতোপ্রতোভাবে মিশে ছিল পুতুল খেলার সংস্কৃতি। যদিও আধুনিক সময়ে বাচ্চাদের মধ্যে পুতুল খেলার রেওয়াজ ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। তবে অতীতে এক বাড়ির ছেলে পুতুলের সঙ্গে অন্য বাড়ির মেয়ে পুতুলের বিয়ের আয়োজনে অভিভাবকেরাও সানন্দে অংশ নিতেন। খাওয়া-দাওয়া, জাঁকজমক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো।

পুতুল বিয়ের সম্পূর্ণ ভিডিও দেখুন

বরণডালা সাজানো হচ্ছে

কনের তত্ব

আলতা পরার অনুষ্ঠান

বিয়েবাড়ির হুল্লোড়

কয়েক বছর আগেও মোবাইলের রমরমা ছিল না। ছিল না কেবল চ্যানেলে ঠাসা টিভির সিরিয়াল। লেপের তলায় ঠাকুমার কাছে রূপকথার গল্প শুনেই শিশুমন বিকশিত হত। আর ছিল পুতুল খেলা। তখন পড়াশোনা ছিল ঠিকই কিন্তু competition ছিল না। তাই রান্না-বাটি খেলার অবসর ছিল ছোটদের। রান্না-বাটির গন্ডিতে বড়দের অনুকরণে আনাজ কাটা থেকে গোয়ালঘর, পুকুর পাড় যেমন থাকত ঠিক তেমনই থাকত পুতুলের ছেলে-মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা। সব নিয়ম মেনে বিয়ে দেওয়া হত ছেলে-মেয়েদের।

আধুনিকতার হাত ধরে শিক্ষা এসেছে ঠিকই কিন্তু হারিয়ে গেছে শৈশব। পড়ার ফাঁকে সময় কই পুতুল খেলার! পুতুলের বিয়ে তো দূরের কথা। লকডাউনের দীর্ঘ নয় মাসে বাড়ির ছোটরা স্কুলে যাচ্ছে না। অনলাইন ক্লাস চললেও মোবাইলে আসক্তি বাড়ছে তাদের। প্রতিদিন নিত্য নতুন ভাবনা ভাবতে হচ্ছে- কিভাবে তাদের সময় কাটবে তা নিয়ে। কেউ ইউটিউব চ্যানেল খুলেছে কেউ আবার নতুন নতুন রান্না করে বড়দের তাক লাগাচ্ছে।

এসবের মধ্যে দুর্গাপুরের স্বপ্নচ্ছন্দম অন্যরকম ভাবনাচিন্তা নিয়ে এগিয়েছে। সংস্থার পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয়েছিল পুতুলের বিয়ের। স্বপ্নচ্ছন্দমে মূলত আবৃত্তি, নাটক, গল্পপাঠ শেখানো হয়। লকডাউনে দীর্ঘ দিন এখানকার ছেলে-মেয়েরা আসেনি। কম বেশি সকলেরই মন খারাপ। একটু একটু করে এবার ক্লাস শুরু হচ্ছে। সংস্থার কর্ণধার কাকলি দাসগুপ্ত পুতুল বিয়ের পরিকল্পনা করেন। ছেলেমেয়েরাও রাজি হয়ে যায়। সমস্ত আচার-নিয়ম মেনেই আয়োজন করা হয় পুতুলের বিয়ে।

বিয়ের দুদিন আগে থেকে তত্ত্ব সাজানো, মেহেন্দির অনুষ্ঠান, বিয়ের গান তো ছিলই। বিয়ের দিন ছিল গায়ে হলুদ, আলতা পরার অনুষ্ঠান। কেউ সেজেছেন পুরোহিত, কেউ আবার বাদক, কেউ নাপিত বৌ, কেউ আবার মেয়ের মাসি। যেন সত্যিকারের বিয়ের অনুষ্ঠান! ফুলঝোড়ের কাছে শরৎপল্লির ”স্বপ্নছন্দম”এর বাড়িতে বিয়ে উপলক্ষে ছিল সাজো সাজো রব।
সৃজনী মাইতি ও অঙ্কিতা দাসের ছেলে ও মেয়ের বিয়ে। যাবতীয় আয়োজনের দায়িত্বে ছিলেন সৃজনী, অস্মিতা, রিজিতা, কুনাল, কুশল, শুভ্র, প্রিয়াংসি, জয়তী, অঙ্কিতা, রুহানি, অরিজিৎ, সঞ্জীব, কৌশানি’রা। বিয়ের গান পরিবেশন করেন মধুছন্দা চৌধুরী।

বিয়ের দিন সকালে জলখাবার ছিল ছোটদের পছন্দের পাস্তা ও মিষ্টি। আর দুপুরের মেনুতে ছিল পোলাও, আলুর দম, মিষ্টি দই। সৃজনী ও অঙ্কিতার মা সুকন্যা ও রুম্পা বলেন, ‘‘কাকলিদির উদ্যোগেই মূলত এত আয়োজন। দীর্ঘ লকডাউনে মধ্যে কটাদিন আনন্দেই কাটল সবার।’’ কাকলী বলেন, ‘‘বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্যকে নিজের মতো করে আমাদের বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করতে হবে। তবেই তো নতুন প্রজন্ম এসব জানতে পারবে।’’

(খবর ভালো লাগলে শেয়ার করবেন)

https://durgapur24x7.com/a-family-of-durgapur-tamed-a-turtle-name-toto/

aamarvlog

শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, রান্না সহ আরও নানা কিছু। আমার ব্লগ- হাবি জাবি নয়। যোগাযোগ- ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ- 9434312482 ই-মেইল- [email protected]

Feedback is highly appreciated...

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: