কিভাবে ‘সর্বতো মঙ্গল রাধে’ গানটির শিল্পী হয়ে গেলেন অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী?

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটিও সাবস্ক্রাইব করে রাখুন বিভিন্ন আপডেট পাওয়ার জন্য।
দুর্গাপুর দর্পণ ডেস্কঃ ‘সর্বত মঙ্গল রাধে’ গানটি গেয়েছেন বাংলাদেশের অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী ও শিল্পী মেহের আফরোজ শাওন। গানটি এপার বাংলা, ওপার বাংলা, দুই বাংলাতে তো বটেই, সারা পৃথিবীর বাঙালি কুলে গানটি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। কিন্তু বিখ্যাত ওই গানটির সঙ্গে অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীর জড়িয়ে পড়া কিন্তু নেহাতই কাকতালীয়!

গানটির কথা সবাই জানেন। গানের কথাগুলি রইল এখানে।
সর্বত মঙ্গল রাধে বিনোদিনী রাই, বৃন্দাবনের বংশীধারী ঠাকুর কানাই। একলা রাধে জল ভরিতে যমুনাতে যায়, পেছন থেকে কৃষ্ণ তখন আড়ে আড়ে চায়।
জল ভর জল ভর রাধে ও গোয়ালের ঝি, কলস আমার পূর্ণ কর রাধে বিনোদী। কালো মানিক হাত পেতেছে চাঁদ ধরিতে চায়, বামন কি আর হাত বাড়ালে চাঁদের দেখা পায়।
কালো কালো করিস্ না লো ও গোয়ালের ঝি, আমায় বিধাতা করেছে কালো আমি করব কি। এক কালো যমুনার জল সব লোকই খায়, আগে কালো আমি কৃষ্ণ সকল রাধে চায়।
এই কথা শুনিয়া কানাই বাঁশি হাতে নিল, সর্প হয়ে কালো বাঁশি রাধেকে দ‌ংশিল। বামপায়ে দংশিল রাধের বামপায়ে ধরিল, মরলাম মরলাম বলে রাধে জমিনে পরিল।
মরবে না মরবে না রাধে মন্ত্র ভাল জানি, দু-একখানা ঝাড়া দিয়ে বিষ করিব পানি। এমন অঙ্গের বিষ যে ঝাড়িতে পারে, সোনার এই যৌবনখানি দান করিব তারে।
এই কথা শুনিয়া কানাই বিষ ঝাড়িয়া দিল, ঝেড়ে-ঝুড়ে রাধে তখন গৃহবাসে গেল। গৃহবাসে গিয়ে রাধে আড়ে পেঁচায় চুল, কদম ডালে থাইক্কা কানাই ফিক্কা মারে ফুল।
বিয়া নাকি কর কানাই বিয়া নাকি কর, পরের রমনি দেখে জ্বালায় জ্বলে মর। বিয়াতো করিব রাধে বিয়াতো করিব, তোমার মত সুন্দর রাধে কোথায় গেলে পাব।
আমার মত সুন্দর রাধে যদি পেতে চাও, গলায় কলস বেঁধে যমুনাতে যাও। কোথায় পাব হার কলসি কোথায় পাব দড়ি, তুমি হও যমুনা রাধে আমি ডুবে মরি।

pix of chanchal choudhury and shawan

এবার চলুন জানা যাক কিভাবে অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী যুক্ত হলেন এই গানটির সঙ্গে। সোশ্যাল মিডিয়ায় চঞ্চল লিখেছেন, ‘হঠাৎ একদিন রাতে…..সংগীত শিল্পী পার্থ বড়ুয়া আমাকে ফোন করে বললেন….“চঞ্চল, তোর কাছে একটা জিনিস চাইবো, না করতে পারবি না”। আমি বললাম, বলেন দাদা কি চান আমার কাছে? পার্থ দা বললেন, “আগে কথা দে, না করতে পারবি না। তাহলে বলবো”। আমি একটু ভয়ই পেয়ে গেলাম…এত দাবী নিয়ে, তুই করে কথা বলে পার্থ দা, সচরাচর কোন অগ্রজ যেটা কখনও বলে না।

তুই ডাক টা আমার ভালো লাগে। পার্থদার সাথে অনেক দিনের পরিচয় থাকলেও, ‘আয়নাবাজির’ পর থেকে সম্পর্ক, দাবী, ভালোবাসা সবই বেড়েছে। আমি ভাবলাম, দাদা হয়তো কোন নাটক বা সিনেমার জন্য, কারো হয়ে আমার শিডিউল চাইবেন। নাটক হলে সমস্যা নেই, কিন্তু সিনেমা হলে পরে তো আমার পক্ষে, না জেনে না বুঝে দাদাকে কথা দেওয়া ঠিক হবে না। এদিকে আমি কথা না দেওয়া পর্যন্ত, পার্থদা কোন ভাবেই বলবেন না, উনি কি চান।

শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েই বললাম…“ঠিক আছে দাদা, কথা দিলাম, যা বলবেন করে দেবো” তারপর উনি বললেন, ”চঞ্চল, তুই একটা গান করে দিবি,’ সর্বত মঙ্গল রাধে’…লোক গান। আমি মিউজিক কম্পোজ করবো। গানটা তুই শাওনের সাথে ডুয়েট করবি”।

কেউ গানের কথা বললেই বিব্রত বোধ করি। যেহেতু গানে আমার কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই, খুবই ভয়ও পাই গান গাইতে। যদিও আগে যখন এই জ্ঞানটুকু হয়নি, তখন গ্রামের হাতুরে ডাক্তারের ফোঁড়া কাটার গল্পের মতই হুট হাট করে গান গেয়ে ফেলতাম…যাই হোক, কথা যেহেতু পার্থদাকে দিয়েই ফেলেছি, গান তো গেয়ে দিতেই হবে।
তারপর…….এফডিসি তে শুটিং/রেকর্ডিং হলো বিশাল যজ্ঞে। এরকম অভিজ্ঞতা আমার জীবনে প্রথম। গান টা রিলিজ হলো ইউটিউবে। পার্থদাই প্রথম ফোন করে বললেন, “গান টা তোরা ভালো গাইছিস, ফেসবুকে শেয়ার দিস”।

আপনাদেরও যদি গানটা ভালো লাগে, শেয়ার দিতে পারেন…..তবে আপনাদের কাছে অনুরোধ একটাই, আমার গাওয়া অখাদ্য গানকে কেউ সংগীত শিল্পীর গান হিসেবে বিবেচনা করবেন না….কারন আমার প্রধান কর্মটি অভিনয় করা, মাঝে মধ্যে পরিস্থিতির স্বীকার হয়ে, আর গান গাওয়ার লোভে গাই….পারি না পারি, গানের প্রতি আমার ভালোবাসা ছোট বেলা থেকেই….এক বেলা না খেলেও আমার চলে, কিন্তু গান না শুনে আমার একদিনও চলে না।

aamarvlog

শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, রান্না সহ আরও নানা কিছু। আমার ব্লগ- হাবি জাবি নয়। যোগাযোগ- ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ- 9434312482 ই-মেইল- [email protected]

Feedback is highly appreciated...

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: