6 Tips for Reducing Body Odor. pix of a happy young couple

6 Tips for Reducing Body Odor. ঘামের দুর্গন্ধ দূর করুন ঘরোয়া উপায়ে। ঘামের গন্ধে কমবেশী সকলেই নাজেহাল। রাস্তা-ঘাটে, অফিসে নানান সমস্যায় পড়তে হয়, গায়ের দুর্গন্ধের জন্য। প্রিয়জনের কাছেও অপ্রস্তুতে পড়তে হয়। কারো সঙ্গে কথা বলতে গিয়েও আত্মবিশ্বাসের অভাবের কারণ হয়ে ওঠে এই দুর্গন্ধ।

pix of a happy young couple
                                             

ঘামে দুর্গন্ধ কেন হয়

প্রথমে জানতে হবে কেন হয় এই দুর্গন্ধ। শরীরে দুই রকমের গ্রন্থি থাকে। যা থেকে ঘাম তৈরী হয়। এক্রিন গ্রন্থি ও অ্যপোক্রিন গ্রন্থি। এক্রিন গ্রন্থি থেকে তৈরী ঘামে কোনও গন্ধ হয় না। ব্যায়াম করলে বা পরিশ্রম করলে এই গ্রন্থি থেকে ঘাম তৈরী হয়। অ্যপোক্রিন গ্রন্থি থেকে বগল বা যে কোনও সংযোগ স্থল থেকে ঘাম তৈরী হয়। অবাঞ্ছিত লোম থেকেও ঘামের সৃষ্টি হয়। এই ঘামে থাকে এক ধরণের প্রোটিন। যা ব্যকটেরিয়ার সংস্পর্শে এসে দুর্গন্ধ তৈরী করে।  

কি কি কারণে গায়ে দুর্গন্ধ হয়

পারফিউম

গায়ে দুর্গন্ধ থাকলে, ফিচ ফিচ করে খানিক পারফিম লাগিয়ে নিলেই কেল্লা ফতে। এমনটাই ধারণা সকলের। কিন্ত বাস্তবে বিষয়টা পুরোটাই উল্টো। পারফিউম মাখলেও দুর্গন্ধ তৈরী হতে পারে। কারণ দুগর্ন্ধ সৃষ্টি ব্যকটেরিয়া দূর করার কোনও উপাদান পারফিউমের মধ্যে থাকে না। উল্টে ব্যকটেরিয়া তৈরী হয় এবং দুর্গন্ধ তৈরী হয়।

ওষুধ

যারা নিয়মিত বিভিন্ন ওষুধ খায়, তাদের শরীরেও দুর্গন্ধ তৈরী হতে পারে। কারণ ওষুধে বিভিন্ন রকম রাসায়নিক থাকে, তা থেকেই ঘামে দুর্গন্ধ ছড়ায়।

অপুষ্টি

সুষম খাওয়া দাওয়া করতে হবে নিয়মিত। ম্যাগনেসিয়াম জাতীয় খাবারের অভাব থেকে গায়ে দুর্গন্ধ বার হয়। কাজু, ব্রাজিল নাট, পেস্তা বাদাম, সূর্যমূখির বীজ, গাঢ় সবুজ শাকে প্রচুর পরিমানে ম্যাগনেশিয়াম থাকে। খাদ্য তালিকায় কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কম থাকলেও গায়ে দুর্গন্ধ হতে পারে।

সিনথেটিক কাপড়

সুতির কাপড় নরম হয়। তাই ঘাম শরীরে জমতে না দিয়ে শুষে নেয়। কিন্তু সিনথেটিক কাপড় ঘাম শুষে নিতে পারে না। ফলে গায়ে ঘাম জমে গন্ধ তৈরী হয়। যাদের খুব ঘাম হয়, তাদের রেয়ন ও পলিয়েস্টারের কাপড় এড়িয়ে চলা উচিত। এবং সুতির কাপড় পরা উচিত। তাহলে গায়ে ঘামের দুর্গন্ধ তৈরি হবে না।

প্রস্রাব আটকে রাখলে

বিশেষজ্ঞদের দাবি, প্রস্রাবে শরীরের বিষাক্ত পদার্থ থাকে। প্রস্রাব দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রাখলেও ঘামে দুর্গন্ধ গন্ধ বের হয়। শরীরের বর্জ্য পদার্থ জমে, গায়ে ঘামের দুর্গন্ধ তৈরি হয়।

মিষ্টি খেলে

মিষ্টি খেলেও গায়ে ঘামের দুর্গন্ধ হয়। কারণ মিষ্টি খেলে শরীরে ইস্ট তৈরী হয়। অ্যালকোহলের মধ্যে চিনি মিশিয়ে যে খাওয়ার তৈরী, সেই খাওয়ার খেলে ইস্ট থেকেই গায়ে দুর্গন্ধ তৈরি করে। আবার তেল-ঝাল মিশ্রিত খাওয়ার খেলেও, ঘামে দুর্গন্ধ তৈরি হয়।

প্রতিকার

6 Tips for Reducing Body Odor. ঘামের দুর্গন্ধ দূর করুন ঘরোয়া উপায়ে

১) যে সব স্থানে ঘামের দুর্গন্ধ হয়, সেই সব জায়গা নিয়মিত পরিস্কার করতে হবে। অবাঞ্ছিত লোম ওয়াক্সিন বা শেভিং করে পরিষ্কার করা হলে দুর্গন্ধ হবে না। কারণ গোপন স্থানের চুলে ঘাম জমে ব্যকটেরিয়া তৈরী হয়। যা থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায়।

২) এক মগ জলে আধ কাপ ভিনিগার বা চায়ের লিকার মিশিয়ে নিতে হবে। বগল, শরীরের ভাঁজ, গোপন স্থান, ঘাড়, গলা, হাঁটুর পেছন অংশে সেই মিশ্রণ পাতলা কাপড় ভিজিয়ে পরিস্কার করে নিলে দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। 

৩) বাইরে থেকে এসে অবশ্যই জামাকাপড় ধুয়ে ফেলুন। রোদের জায়গায় ভালো করে শুকিয়ে তারপর পর দিন পরুন। তাহলে দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। বাড়িতে থাকা কালিন ঘামে ভেজা কাপড় জামা পরে থাকলেও দুর্গন্ধ বের হয়। ঘামে ভিজে গেলে অবশ্যই পরিস্কার জামা পরুন ।

৪)  নিয়মিত নারকেল তেল মাখলে, গায়ের দুর্গন্ধ দূর হয়।

৫) বেশি ঘামের সমস্যা থাকলে বাঁধাকপি, মাছ, পাঁঠার মাংস প্রভৃতি কম পরিমানে খেতে হবে।

৬) শরীরের বিভিন্ন সংযোগস্থলে পুদিনা পাতা লাগালে ঘামের দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। নিমপাতা দিয়েও সমস্যা মিটতে পারে সহজেই। জানতে হলে পড়ুন- Benefits of neem. নিমের উপকারিতা

এই সমস্ত ব্যবস্থা নিতে পারলে গায়ের দুর্গন্ধ থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া যাবে। তাই দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। সচেতনতাই এই সমস্যা থেকে মুক্তির প্রধান চাবিকাঠি।

By aamarvlog

শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, রান্না সহ আরও নানা কিছু। আমার ব্লগ- হাবি জাবি নয়। যোগাযোগ- ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ- 9434312482 ই-মেইল- [email protected]

Feedback is highly appreciated...

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: