অবসর নিয়েছেন, ফেয়ারওয়েল নেননি, স্কুলের সঙ্গে নাড়ির যোগ নন্দাদি-র

অন্ডাল গার্লস হাইস্কুলের প্রাক্তন শিক্ষিকা অঞ্জলি চট্টোরাজ। ওরফে সকলের নন্দাদি। ছাত্র-ছাত্রী থেকে অভিভাবক-অভিভাবিকা, সবাই তাঁকে চেনেন প্রিয় শিক্ষিকা হিসাবে। কিন্তু আজ দুর্গাপুর দর্পণে তাঁকে দেখা যাবে এক অন্য রূপে।

দুর্গাপুর দর্পণের জন্য তিনি সন্দেশ তৈরির রেসিপি পাঠিয়েছেন। প্রতিবেদনের নীচের দিকে রয়েছে ভিডিও-র লিঙ্ক।

বাবা সদানন্দ চট্টোরাজ বদলির চাকরি করতেন। ছোট্ট নন্দা ও তার ছয় ভাই-বোন বাবা-মায়ের সঙ্গে নানান জায়গায় থাকতেন। কখনও রামপুরহাট তো কখনও নিশ্চিন্দপুর। তবে পরবর্তীতে বাবার অবসরের পর থেকে দুর্গাপুরের স্থায়ী বাসিন্দা।

স্কুলের পড়াশোনা রানিগঞ্জ গাঁধী মেমোরিয়াল স্কুলে। তারপর টিডিবি কলেজ। কলেজ শেষ হতে বাবার সঙ্গে এলেন অন্ডালে। সেই বছরেই রানিগঞ্জ সিহারসোল গার্লস স্কুলে পড়ানোর ডাক পান। প্রথমে নিমরাজি হলেও পরে কাজে যোগ দেন। সেই শিক্ষকতার শুরু। অন্ডাল থেকে রোজ যাতায়াত করতেন রানিগঞ্জের এই স্কুলে।

এক বছর পর তিনি ডাক পান অন্ডাল গার্লস হাইস্কুলে। কয়েক বছর এখানে পড়ানোর পর দুর্গাপুরে সেইলের একটি স্কুলে পড়ানো শুরু করেন। এই সময় তিনি সকালে সেইলের স্কুলে পড়াতেন এবং তারপর যেতেন অন্ডাল গার্লস স্কুলে বিনা পারিশ্রমিকে ছাত্রীদের ফিজিক্যাল এডুকেশনের ক্লাস নিতে।

সেলাইয়ের কাজ

কিন্তু বছর খানেকের মধ্যে স্কুল সংক্রান্ত সেইলের কিছু সমস্যার জন্য তিনি স্কুল ছেড়ে দেন। এরপর তিনি যখন আবারও অন্ডাল গার্লস স্কুলে পাকাপাকিভাবে ফিরে আসেন তখন তাকে নতুন শিক্ষিকা হিসাবে স্কুলে যোগ দিতে হয়। এর ফলে কর্মজীবনে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। কিন্ত শিক্ষিকা জানিয়েছেন, সেই ক্ষতি তিনি হাসিমুখে মেনে নিয়েছেন ছাত্রীদের ভালোবাসার বিনিময়ে। তাঁর কথায়, ছাত্রীরাই আমার অক্সিজেন। তাদের ভালবাসায় আমি আপ্লুত।

২০০৪ সালে তিনি অবসর নিয়েছেন। কিন্তু স্কুল থেকে তিনি ফেয়ালয়েল নেননি। কারণ, স্কুল না গেলেও স্কুলের সঙ্গে তাঁর নাড়ির টান। এমনটাই তিনি মনে করেন। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের অবসরের পরে তিনি আজও ব্যস্ত থাকেন ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে। প্রতিদিন বিকেল ৪ টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়িতে বিভিন্ন ক্লাসের ছেলে-মেয়েদের তিনি টিউশন পড়ান।

অবসর সময়ে গাছ লাগানো, সেলাই করা সহ নানা কিছু নিয়ে ব্যস্ত রাখেন নিজেকে। কখনও শাড়িতে, কখনও বা টেবিল ক্লথ ভরিয়ে তোলেন নানান স্টিচের ডিজাইনে। নানান ক্রিয়েটিভিটিতে নিজেকে ব্যস্ত রাখেন। এখন মাটি ছাড়া ধনে গাছ তৈরীতে মন দিয়েছেন। খেতে ও খাওয়াতে তিনি ভীষণ ভালবাসেন। মাঝে মধ্যে তিনি রান্না করেন।

সন্দেশ তৈরির রেসিপি

দেখুন ভিডিও- https://youtu.be/D1glAucjA7s

উপকরণ

চিনি আধ কাপ। লিকুইড দুধ আধ কাপ। গুঁড়ো দুধ ২ কাপ। ঘি এক টেবিল চামচ। এলাচ গুঁড়ো সামান্য। সামান্য আমন্ড কুচি।

প্রণালী

একটি বাটিতে চিনি, তরল দুধ, ঘি ভালো করে প্রথমে মিশিয়ে নিতে হবে। এরপর গুঁড়ো দুধ একটু একটু করে মিশিয়ে মিশ্রণ রেডি করতে হবে। মিশ্রণটিকে ভালো করে ফেটাতে হবে।

কড়াই আভেনে বসাতে হবে। ঘি দিতে হবে। এবার মিশ্রণটিকে কড়াইয়ে ঢেলে দিতে হবে। হালকা আঁচে নাড়তে হবে। ক্রমাগত নাড়তে নাড়তে যখন ঘন হয়ে আসবে পুরো মিশ্রণটি, তখন এলাচ গুঁড়ো দিতে হবে। আবারও মিশ্রনটিকে ভাল করে নাড়তে হবে। পুরো মিশ্রণটি ঘন হয়ে আসবে এবং একটি মন্ড তৈরি হবে।

এবার মন্ডটিকে বাটার পেপারের উপর রাখতে হবে। উপর থেকে মন্ডটিকে কাগজ দিয়ে ঢেকে দিতে হবে (ভিডিও দেখুন)। এবার উপর থেকে বেলনা দিয়ে বেলতে হবে। পেপার খুললে দেখা যাবে রুটির মত আকৃতি হয়েছে। এবার ছোট গোল বাটি দিয়ে গোল গোল করে কেটে নিতে হবে।

গোলাকার আকৃতির সন্দেশ গুলিকে আলাদা পাত্রে তুলে রাখতে হবে। প্রত্যেক সন্দেশের ওপর আমন্ড কুচি দিয়ে দিতে হবে। এভাবেই বাড়িতে খুব সহজে দারুণ সন্দেশ বানিয়ে ফেলতে পারেন আপনি।

aamarvlog

শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, রান্না সহ আরও নানা কিছু। আমার ব্লগ- হাবি জাবি নয়। যোগাযোগ- ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ- 9434312482 ই-মেইল- [email protected]

Feedback is highly appreciated...

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: