How to plant chandramallika flower. গাছ ভর্তি চন্দ্রমল্লিকা কিভাবে পাবেন

How to plant Chandramallika flower. গাছ ভর্তি চন্দ্রমল্লিকা কিভাবে পাবেন

How to plant chandramallika flower. চন্দ্রমল্লিকা শীতকালিন ফুল। সিজন flower, আর নির্দিষ্ট মরসুমেই এই গাছগুলির যত্ন করতে হয়। চারা রোপন থেকে মাটি তৈরী, গাছের যত্ন সবই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মরসুমি ফুলের গাছের জন্য। মরসুমি ফুলের ক্ষেত্রে নিরবিচ্ছিন্নভাবে যত্ন করতে হবে। সামান্য ভুলে রুগ্ন গাছে কুঁড়ি আসতে শুরু করতে পারে। ফলে বেশি ফুল পাওয়া যাবে না। এই গাছের চারা লাগানোর উপযুক্ত সময় হল সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে অক্টোবরের শুরু। সঠিক ভাবে যত্ন করলে নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ফুল আসতে শুরু করবে। গাছের কিভাবে যত্ন করতে হবে তা নিয়েই আলোচনা করব এখানে।bunch of chandramallika flowers

মাটি তৈরী

চন্দ্রমল্লিকার মাটি তৈরী করতে লাগবে ২ ভাগ দোঁয়াশ মাটি, এক ভাগে বেলে মাটি ও এক ভাগ ভার্মি কম্পোস্ট ( varmi compost) সার। বেলে মাটি হাতের কাছে না থাকলে মিহি বালি ব্যবহার করতে হবে। varmi compost এর বদলে ভালো পচা গোবর সার ব্যবহার করা যেতে পারে। গোবর সার মাটিতে ব্যবহারের ক্ষেত্রে লক্ষ রাখতে হবে যেন সঠিকভাবে পচা হয়। নতুবা মাটিতে পোকা লাগতে পারে। এই তিনটি উপাদান ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে। একটি টবের মাটিতে ১ চামচ হাড় গুঁড়ো, ১ চামচ ফসফেট, ১ চামচ সালফেট অফ পটাশ(SOF), ১ চামচ ম্যাগনেশিয়াম সালফেট, ১ চামচ শিং কুচি, ১ চামচ হাড়কুচি, ২ চামচ নিমখোল ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে। এছাড়াও ৪ চামচ বাদাম খোল, ৪ চামচ তিসি খোল, খড়ি মাটি ২ চামচ দিতে হবে। এবার এই মিশ্রণে জল স্প্রে করে আবার ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। এবার একটি পাত্রে রেখে দিতে হবে এক সপ্তাহ ধরে। সাত দিন পর আবার মাটি আলগা করে সামান্য জল স্প্রে করতে হবে।আবারও সাত দিন মাটি রেখে দিতে হবে। এই সময় যেন জল না পড়ে এই মাটিতে। সাত দিন পর মাটি আলগা করে দুঘন্টা রেখে দিতে হবে।

টব তৈরী-

চন্দ্রমল্লিকা ফুলের জন্য ৮ ইঞ্চির টব নিতে হবে। অবশ্যই টবে যেন ছিদ্র থাকতে হবে। এই ছিদ্রের ওপর খোলাম কুচি দিতে হবে ড্রেনিং তৈরীর জন্য। এর ওপর কিছুটা বালি দিতে হবে। তার ওপরে তৈরী করা মাটি দিয়ে টবটি ভরতে হবে। ৩ ইঞ্চি ফাঁকা রেখে মাটি ভরতে হবে। এবার মাটিতে চন্দ্রমল্লিকার চারা বসাতে হবে। ঝাড়িতে করে সামান্য জল দিতে হবে। বিকেলে চারা গাছ বসানোর উপয়ুক্ত সময়। তাতে চারা গাছ ভালো থাকে। সারা রাতের শিশিরে গাছ সতেজ থাকে। প্রথম কয়েকদিন গাছ ছায়ায় রাখতে হবে।

চারা গাছ-

চন্দ্রমল্লিকার চারা নার্সারি থেকেও কিনে আনতে পারেন নতুবা নিজেও তৈরী করতে পারেন। আগের বছরের গাছ অনেকেই ফেলে দেন। সেই গাছ ফেলে দেবেন না। এই মাদার গাছ থেকেই চারা গাছ তৈরী করা যায়। মাটি তৈরী করতে ১৪ দিন মত সময় লাগে। সেই সময়েই আপনি চন্দ্র মল্লিকার চারা তৈরী করে নিতে পারবেন। এ জন্য লাগবে রুটিন হরমোন। আধ চামচ রুটিন হরমোন আধ গ্লাস জলে গুলে নিতে হবে। এবার মাদার গাছের ছোটো ছোটো ডাল কেটে গ্লাসের জলে চুবিয়ে রাখতে হবে। ডালের নিচের দিকের পাতা ছাড়িয়ে নিতে হবে। পাঁচ মিনিট ভিজিয়ে রেখে মাটি ভর্তি টবে পুঁতে দিতে হবে। এই টবের মাটিতে যেন বালির ভাগ বেশি হয়। নিয়মিত অল্প অল্প জল দিতে হবে। ১০ দিন পরে গাছ তুলতে গেলে দেখা যাবে প্রত্যেক গাছে শিকড় বেরিয়েছে। এই ভাবে গাছ তৈরী করলে বেশি ভালো ফুল পাওয়া যায়।

চারা নির্বাচন-

Snowball, কোকা প্রজাতি গাছে বেশ বড় ফুল হয়ে থাকে। gambit, dorriz, কোকা সেনকিং, কোকা ইয়ামা, স্পাইডার এই প্রজাতির গাছগুলি চাষ করা যেতে পারে।

গাছের খাবার-

টবে গাছ সতেজ হয়ে উঠলে বোঝা যাবে গাছটি বেঁচে গেছে। এক টব থেকে অন্য টবে দেওয়ার সময় শিকড়ে টান লাগলে প্রথমে একটু ঝিমিয়ে যায় গাছ। তাই ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। এবার গাছ লাগানোর এক সপ্তাহ পরে খোল জল দিতে হবে। কিভাবে বানাবেন খোল জল? সরষের খোল ও নিম খোল সাত দিন পচিয়ে নিতে হবে। এই জলে DAP ও এক বালতি জল মিশিয়ে গাচের গোঁড়ায় দিতে হবে। কেউ চাইলে সরষের খোলের সঙ্গে পুঁটি জাতীয় মাছ ২৫০ গ্রাম পচতে দেওয়া যাতে পারে। এই খাদ্য গাছের জন্য ভীষণ ভালো। সপ্তাহে একবার সোডিয়াম নাইট্রেট ৫০ গ্রাম, পটাশিয়াম সালফেট ১০ গ্রাম, সুপার ফসফেট ১০ গ্রাম গাছের গোড়ায় গিতে হবে। এই খাবার ফুল ফোটা অবধি চালিয়ে যেতে হবে। কুঁড়ি এলে গাছের যত্ন নিতে হবে ভালো করে । এতে ফুল ভালো হবে। ফুল অনেকদিন থাকবে।

গাছ ছাঁটাই-

চন্দ্রমল্লিকা গাছে বেশি ফুল পেতে হলে গাছের ডগা কাটতে হবে। মূল গাছে ভালো ফুল হয় না। তাই গাছ তিন ইঞ্চি হলে প্রধান ডাল ভেঙে দিতে হবে। এবার চার পাশ থেকে আগা বের হবে, সেবারতে দিতে হবে। চারপাঁচটি ডাল একসঙ্গে বেরে উঠবে। এর পর যখন কুঁড়ি আসবে তখন কুড়ি ভেঙে দিতে হবে। প্রত্যেক ডালের কঁড়ি একদম ছোট থাকার সময়ই ভেঙে দিতে হবে। এতে প্রত্যেক ডগাতেই পাঁচ থেকে সাতটা এমন কি তারও অধিক কুঁড়ি আসতে পারে। এবং সঠিক খাবার পেলে গাছ ভরে ফুল হবে। গাছ বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কাঠের খুঁটি দিতে হবে। এতে ডাল বেঁকে যাবে না।

কীটনাশক-

চন্দ্রমল্লিকা গাছে ফাঙ্গাস আক্রমণ হয়। তাই অ্যান্টি ফাঙ্গাস ওষুধ দিতে হবে নিয়ম করে। তাহলে গাছে সংক্রমণ হবে না।
বৃষ্টির জল চন্দ্রমল্লিকার জন্য ক্ষতিকর। তাই বৃষ্টির হলে এই গাছে জল পড়বে না এমন জায়গায় রাখতে হবে। তবে সূর্যের আলো ও শিশির ভীষণ ভালো চন্দ্রমল্লিকার জন্য। তাই খোলা জায়গায় গাছ রাখতে হবে। সামান্য যত্নেই সুন্দর ও প্রচুর চন্দ্রমল্লিকা পাওয়া যাবে। How to plant chandramallika flower.

আরও পড়ুন- কিভাবে খুব সহজে টবে ডালিয়া চাষ করবেন

আরও পড়ুন- সত্যজিৎ রায়ের ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’ এর বিখ্যাত খেরোর খাতা এখন আপনার হাতের মুঠোয়

নিজের বাড়িকে কিভাবে কুঞ্জ বানিয়েছেন এক শিক্ষক, দেখুন সেই ভিডিও

aamarvlog

শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, রান্না সহ আরও নানা কিছু। আমার ব্লগ- হাবি জাবি নয়। যোগাযোগ- ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ- 9434312482 ই-মেইল- [email protected]

Feedback is highly appreciated...

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: