Hepatitis হেপাটাইটিস বা Cirrhosis সিরোসিস অফ লিভার থেকে বাঁচার উপায় সচেতনতা

লিভারের রোগ জলন্ত সমস্যা হিসাবে দেখা দিয়েছে এদানিং। তা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে না পারলে সমুহ বিপদ। কিভাবে এড়াবেন লিভারের রোগ, এই প্রতিবেদনে রয়েছে তার সুলুক সন্ধান।

লিভার নানাভাবে শরীরে কাজ করে। এর মূল কাজ হল শরীরের ডিটক্সিকেশন। আবার ফিল্টারের কাজও করে লিভার। আবার কিছু বিশেষ খাবার হজম করতেও সাহায্য করে লিভার। সাধারণত, লিভারে কয়েকটি কমন রোগ হয়ে থাকে। লিভার ফুলে গেলে তাকে বলে হেপাটাইটিস। জল থেকে সংক্রমণ হলে তাকে ভাইরাল হেপাটাইটিস বলে। অতিরিক্ত ফ্যাটি ফুড থেকে সংক্রমণ হলে তাকে ফ্যাটি লিভার বলা হয়। বেশি অ্যালকোহলের জন্য অ্যালকোহলিক লিভার ডিজিজ হতে পারে। এছাড়াও কিছু রেয়ার ডিজিজ হয়। এনজাইমের সমস্যার জন্য উইলসন ডিজিজ হলে লিভারে কপার জমে যায়। আবার অনেক সময় লিভারে অ্যালার্জির মতো সমস্যা হয় যাকে অট্রিউম হেপাটাইটিস বলে।

উইলসন ডিজিজ বা অট্রিউম হেপাটাইটিস হলে উপযুক্ত চিকিৎসা দরকার। কারণ এই দুই রোগের আগাম প্রতিকার সম্ভব নয়। লাইফস্টাইল বা খাদ্যতালিকার উপর নির্ভর করে না। তবে হেপাটাইটিস এ এবং হেপাটাইটিস ই আটকাতে আগাম ব্যবস্থা নেওয়া যায়। দুটি রোগই জল থেকে ছড়ায়। তাই বাইরের জল একেবারেই খাওয়া উচিত নয়। হেপাটাইটিস এ তাও সহজে সেরে যায়। কিন্তু হেপাটাইটিস ই সারতে কয়েকমাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। কারওর একাধিকবার হেপাটাইটিস ই হলে শরীরের অন্যান্য অঙ্গেরও ক্ষতি হতে পারে। ব্রেনে বিলিরুবিন পৌঁছে এনকেফ্যালোপ্যাথি হতে পারে। তাই মনে রাখবেন, খাওয়া-দাওয়ার পরিবেশ পরিচ্ছন্ন হয় যেন। নোংরা পরিবেশের জন্য লিভারের সমস্যা হতে পারে। কৃমির সমস্যাও হতে পারে। কৃমি ব্রেনে পৌঁছে জটিল সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই পরিবেশ পরিচ্ছন্ন নয় বুঝলেই এড়িয়ে চলতে হবে। বাইরের জল, খাবার, ফুচকা, ফলের রস, কিছুই খাওয়া উচিত নয়। নিয়ম না মানলে যে কোনও সময় সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকছে।

হেপাটাইটিস ই হয়েছে কি না কিভাবে বুঝবেন? চিকিৎসকদের মতে, শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। চোখ হলুদ হয়ে যায়। খিদে কমে যায়। কোনও কাজ করার ইচ্ছে থাকে না। পেটের ডানদিকের উপরের অংশে ব্যাথা হয়। লিভারের কাজ রক্ত জমাট বাঁধানো। হেপাটাইটিস ই হলে রক্তপাত বন্ধ হতে চায় না। তাই মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এছাড়া ফ্যাটি লিভারও এখন খুব হচ্ছে। আগে শুধু উন্নত দেশে দেখা যেত। অথচ এখন ভারতে ২০-৩০ শতাংশ মানুষের এই সমস্যা ধরা পড়ছে। এর কারণ হিসাবে চিকিৎসকরা বলছেন, আধুনিক লাইফস্টাইল, বসে বসে কাজ করার মতো নানা কারণে ওবেসিটির হার বেড়েছে। ক্যালরি ক্ষয় হয় না। অথচ খাদ্যতালিকায় ফাস্ট ফুড, ফ্যাটি ফুড, মিস্টি জাতীয় খাবারের পরিমাণ অঢেল। আগে সাধারণত ৪০-৪৫ বছরে ফ্যাটি লিভার হতো। এখন কৈশোরেও হচ্ছে। টিফিনে পাস্তা, ফাস্ট ফুড দিচ্ছেন বাবা-মা। স্কুলে বা টিউশনে যাচ্ছে গাড়ি করে। ফলে ক্যালোরি জমছে কিন্তু বার্ন হচ্ছে না।

ফ্যাটি লিভার হলে লিভারে ফ্যাট জমে। এর ফলে লিভারে ফাইব্রোসিস, সিরোসিস হতে পারে। একবার সিরোসিস হলে লিভার আর আগের মতো সুস্থ হয় না। এর ফলে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে। সিরোসিস হলে লিভারের আকার বদলে যায়। ওষুধ দিয়ে সাময়িক আটকে রাখা যায়। কিন্তু লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট ছাড়া গতি নেই। তবে ফ্যাটি লিভার থেকে বাঁচতে আগাম কিছু ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। তেল জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। তবে আবার একেবারে বন্ধ করে দিলেও হবে না। ব্যালেন্স করে চলতে হবে। ভোজবাড়িতে গিয়ে আচ্ছা করে খাওয়া-দাওয়া করলে ওয়ার্কআউট করে একস্ট্রা ক্যালরি ঝড়িয়ে ফেলতে হবে। সপ্তাহে পাঁচদিন দেড় হাজার পা হাঁটা দরকার। সারাদিন কাজকর্ম সেরে এসে রাতে ভরপেট খেলে চলবে না। রাতে ঘুমোলে খাবারের ফ্যাট শরীরে জমে যায়। তাই ব্রেকফাস্ট করতে হবে পেট পুরে। ব্রেকফাস্ট স্কিপ করা একেবারেই চলবে না। রাতে তাড়াতাড়ি শুতে হবে। সকালে তাড়াতাড়ি উঠতে হবে। বেশি করে ফল ও সবজি খেতে হবে। তাহলে ফাইবার ঢুকবে শরীরে। ফাইবার বাড়লেই ইনটেস্টাইন থেকে আর ফ্যাট টানতে পারবে না লিভার। অতিরিক্ত চা বা কফি বারণ। লিভারের সমস্যা থেকে বাঁচতে অ্যালকোহল এড়িয়ে চলাই ভালো। সপ্তাহে দু’দিন মহিলাদের ২০ মিলি ও পুরুষদের ৩০ মিলি করে অ্যালকোহল নেওয়া যেতে পারে। তার বেশি উচিত নয়।

অফিস থেকে কার পার্কিংয়ে যাওয়ার সময় দ্রুত হেঁটে যেতে হবে। তাহলে বেশি পরিমাণে ক্যালরি বার্ন হবে। লিফট বাদ দিয়ে সিঁড়ি ভেঙে ওঠানামা করতে হবে। মোবাইল নিয়ে খুটখাট না করে বাচ্চারা যাতে বিকালে মাঠে অন্তত আধঘন্টা দৌড়-ঝাঁপ করে সেটা দেখতে হবে। এতে শরীরের অতিরিক্ত ফ্যাট ঝড়ে যাবে। একাদশ শ্রেণিতে পড়া একজন কিশোরের দেখা গেল দিনে পর পর টিউশন। পড়ার চাপ। খেলাধুলোর বালাই নেই। ওজন বেড়ে হয়েছে ৯৫ কেজি। দ্রুত তার ইউএসজি করা দরকার। এরপর ফাইব্রো স্ক্যান করতে হবে। তাহলেই লিভারের সমস্যা ধরা পড়ে যাবে।

সুস্থ থাকতে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের চল দিন দিন বাড়ছে। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের লিভারের ওজন প্রায় দেড় কেজি। তার থেকে তিনশো গ্রাম লিভার দান করতে পারেন যে কেউ। কারণ, সেই অংশটি ধীরে ধীরে ভরাট হয়ে আগের মতো হয়ে যায়। লিভারের সেই অংশ প্রতিস্থাপন করা হয়। আবার কারওর মৃত্যুর পরে লিভার দান করার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করে রোগী সুস্থ হলেও জীবনভর ওষুধ খেয়ে যেতে হবে বলে মত গ্যাস্ট্রোএন্ট্রোলজিস্টদের।

অতএব, দুশ্চিন্তার কিছু নেই। এই প্রতিবেদনে কিভাবে সচেতন হলে বিভিন্ন ধরণের লিভার ডিজিজ থেকে বাঁচা সম্ভব সেকথাই তুলে ধরা হয়েছে। কারণ, আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের মানুষের কাছে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট অত্যন্ত ব্যয়সাপেক্ষ। তাই আগে থেকে সচেতনতাই লিভারের রোগ থেকে বাঁচার মূল চাবিকাঠি।  

aamarvlog

শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, রান্না সহ আরও নানা কিছু। আমার ব্লগ- হাবি জাবি নয়। যোগাযোগ- ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ- 9434312482 ই-মেইল- [email protected]

Feedback is highly appreciated...

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: