How to write a Blog Post

How to write a Blog Post. আজকের আলোচনার বিষয়-‘ব্লগে কিভাবে আর্টিকেল লিখবেন’।

How to write a Blog Post. এর আগের দুটি পর্বে আপনারা জেনেছেন, কি বিষয়ে ব্লগ খুলবেন অর্থাৎ নিশ কি এবং কিভাবে ব্লগ খুলবেন।

এবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আমরা এগোবো। সেটা হল কি লিখবেন অর্থাৎ কনটেন্ট কেমন হবে। কারণ, আপনার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি তো সেই আর্টিকেল বা কনটেন্ট। পাঠক বা ভিজিটরদের ব্লগে টেনে আনা বা সোজা কথায় ব্লগে ট্রাফিক নিয়ে আসার আসল ক্ষমতা তো রয়েছে সেই কনটেন্ট বা আর্টিকেলের হাতে।

How to write a Blog Post. এমন কিছু লিখবেন, যেন পাঠক মনে করেন তিনি নতুন কিছু পেলেন আপনার লেখায়। তাই শর্টকাট নেবেন না। প্রতিদিন আর্টিকেল পোস্ট করার দরকার নেই। সপ্তাহে ৩-৪ টি আর্টিকেল দেবেন। কিন্তু সেগুলি যেন স্ট্যান্ডার্ড হয়। এটা মাথায় রাখবেন সব সময়।

চিন্তার কোনও কারণ নেই। ব্লগে কি লিখবেন, কিভাবে লিখবেন- সবরকম টিপস থাকছে এই আর্টিকেলে। কিভাবে আপনার আর্টিকেল পাঠকের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলা যায়, টিপসগুলি মানলেই নিশ্চিত ফল পাবেন। কাজেই দুশ্চিন্তা মুক্ত হয়ে কাজে নেমে পড়ুন।

১) কোনও আর্টিকেল লেখার আগে সেই বিষয়টি নিয়ে প্রথমে পড়াশোনা ও গবেষণা করুন। তাহলে আপনি সেই বিষয়ের বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠবেন। আপনার আর্টিকেলে আপনাকে নতুন কিছু দিতে হবে। আপনি যে বিষয়েই লিখুন না কেন, জানবেন ইন্টারনেটে আপনার আগে সেই একই বিষয়ে বহু আর্টিকেল ইন্টারনেটে আগে থেকে রয়েছে। তাই খেটে এমন আর্টিকেল লিখুন, এমন ভাবে বিস্তারিত লিখুন যাতে ভিজিটররা আপনার ব্লগকে ভরসা করতে শুরু করেন।

যেমন, ধরা যাক আপনি স্মার্টফোন নিয়ে ব্লগের আর্টিকেল লেখেন। আপনাকে রীতিমতো বিভিন্ন মোবাইল সংস্থার বিষয়ে প্রতিনিয়ত খোঁজ নিতে হবে। কবে কোন সংস্থা কোন স্মার্টফোন লঞ্চ করতে চলেছে, সেই স্মার্টফোনের স্পেশিফিকেশন, দাম সম্পর্কে সঠিক ও যুক্তিযুক্ত ধারণা দিতে হবে আপনার লেখায়। পাঠকের মনে কি কি প্রশ্ন আসতে পারে তা আঁচ করে আগাম তথ্য দিতে হবে লেখায়। অর্থাৎ, প্রতিনিয়ত লেগে থাকতে হবে। মনে রাখবেন, চালাকির দ্বারা কোনও মহৎ কার্য হয় না!

২) ব্লগ লিখবেন সহজ, সরল ও সাবলীল ভাষায়। মনে রাখবেন, ইন্টারনেটে সব ধরণের ভিজিটররা রয়েছেন। আপনাকে সব সময় ভাবতে হবে আম-আদমির কথা। পাঠক যেন একবার পড়েই দ্রুত সব বুঝে নিতে পারেন।

৩) ছোট ছোট বাক্যে লিখবেন। ছোট ছোট প্যারাগ্রাফে লিখবেন। দরকার পড়লে গ্রাফিক্স ব্যবহার করবেন। এর ফলে ভিস্যুয়াল রিলিফ পাবেন পাঠকেরা। সুবিধা হবে আর্টিকেলটি পড়তে।

৪) Heading বা Headline খুব গুরুত্বপূর্ণ। হেডিং খুব খুব আকর্ষণীয়ভাবে লিখতে হবে। ছন্দ মিলিয়েও লেখা যেতে পারে। কোনও প্রবাদ বাক্য ব্যবহার করা যেতে পারে। একটি চমৎকার হেডলাইন অচেনা পাঠকদেরও লেখার মধ্যে টেনে আনতে পারে। হেডিংয়ে বাহুল্য শব্দ ও বিশেষণ বর্জন করতে হবে।

১) হেডিং ৭০ অক্ষরের বেশি লিখবেন না। এর বেশি বড় হলে সেই হেডিং সার্চ ইঞ্জিনে পুরোটা আসবে না। কিছুটা কাটা যাবে। গবেষণায় জানা গিয়েছে, হেডলাইন ৮-১২ শব্দের মধ্যে হলে বেশি শেয়ার পায় টুইটারে। ১২-১৪ শব্দ হলে তা বেশি লাইক পায় ফেসবুকে।

২) বলা হচ্ছে, হেডলাইনে ‘কে’-এর উপর ফোকাস করুন। ‘কেন’-এর উপর নয়। তবেই পাঠক বেশি আকৃষ্ট হবেন।

৩) একই হেডলাইনে বিভিন্ন শব্দ যোগ করে, ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখে নিতে হবে কোনটি ভালো শোনায় ও দেখায়। সঠিক কিওয়ার্ড যে হেডলাইনটিতে বেশি আছে সেটিকে বেছে নিতে হবে।

৪) একটি আর্টিকেলে একটি নয়, কয়েকটি হেডিং ব্যবহার করবেন। মূল হেডিং H1 Bold Heading এবং আর্টিকেলের ভিতরে আরও ২-৩ টি H2, H3 বা H4 heading ব্যবহার করতে হবে। মূল হেডিংটি আকারে বড় হবে। তবে পরের হেডিংগুলি তুলনায় ছোট হবে। এর ফলে আর্টিকেলটি দেখতে আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। পাঠকের পড়তেও সুবিধা হবে।

৫) আর্টিকেলে একটি ‘কি ফ্রেজ’ থাকা জরুরি। সর্বাধিক চারটি শব্দ থাকতে পারে কি ফ্রেজে। মূল হেডিং, লেখার শুরু, ভিতরের হেডিং এবং লেখার মধ্যে সেই কি ফ্রেজ রাখতে হবে। ধরা যাক, আপনি স্কুলছুটদের নিয়ে একটি আর্টিকেল লিখছেন। সেখানে কি ফ্রেজ হতে পারে, ‘School leaving students’। এই ফ্রেজটি মূল হেডিং, লেখার শুরু, ভিতরের হেডিং এবং লেখার মধ্যে রাখতে হবে। এর ফলে ওই আর্টিকেলটির সার্চ ইঞ্জিনে আসার সম্ভাবনা বাড়বে। ‘কি ফ্রেজে’ সেই কিওয়ার্ডগুলিকে ফোকাস করার চেষ্টা করতে হবে যেগুলি সব সময় সার্চ হচ্ছে ইন্টারনেটে। কিওয়ার্ডের জন্য সার্চ ভলিউমের সাহায্য নিতে পারেন।

৬) আর্টিকেলের মধ্যে বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত একাধিক ছবি ব্যবহার করবেন। পড়ার সময় সঙ্গে ছবি থাকলে বিষয়টি পড়তে ও বুঝতে সুবিধা হয়। অনেকে ছবি বিশেষভাবে পছন্দ করেন। তাছাড়া ছবি থাকলে একটানা পড়ার বিরক্তি থেকেও রেহাই মেলে।

৭) এবার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলার আছে। আর্টিকেল লিখতে হবে নিয়মিত ভাবে। এক সপ্তাহে সাতটি লিখলাম। পরের সপ্তাহে আর হল না। এমন করলে কিন্তু হবে না। নিয়মিত আর্টিকেল পোস্ট করতে হবে ব্লগে। কারণ, নিয়মিত ব্লগে পোস্ট না করা হলে ভিজিটর হারাতে হবে।

ইন্টারনেটের সার্চ ইঞ্জিনে জায়গা পেতে হলে নিয়মিত পোস্ট করা জরুরি। তা না হলে পিছিয়ে যেতে হয়। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, প্রথমদিকে সপ্তাহে অন্তত ৩-৪ টি আর্টিকেল ব্লগে পোস্ট করার চেষ্টা করুন। তাহলেই হবে। তবে এর থেকে বেশি পোস্ট করতে পারলে আপনারই ভালো।

৮) পুরনো আর্টিকেলগুলিকে আপডেট করবেন সময়ে সময়ে। নতুন কিছু যোগ করার থাকলে করবেন। আগে লেখা তথ্য এখন যদি বদলে যায় তাহলে সংশোধন করে দেবেন। এভাবে পুরনো পোস্ট নিয়ে নাড়াঘাঁটা করলেও সার্চ ইঞ্জিনে জায়গা পেতে সুবিধা হয়।

How to write a Blog Post. আশা করা যায়, কিভাবে ব্লগে আর্টিকেল লিখবেন সে সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পেয়ে গেলেন এই আর্টিকেলে। এরপরেও যদি কোনও প্রশ্ন থাকে নির্দ্বিধায় জানাবেন। আমি উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব।

প্রথম প্রথম হয়তো একটু অসুবিধা হতে পারে সঠিক নিয়ম মেনে আর্টিকেল লিখতে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সহজ হয়ে যাবে। কাজেই দুশ্চিন্তামুক্ত হয়ে নেমে পড়ুন। কোনও অসুবিধা হলে আমি তো আছি।

পরের লেখায় আমরা আলোচনা করব, ‘ব্লগ থেকে কি কি ভাবে আয় করা যায়’ তা নিয়ে।  

By aamarvlog

শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, রান্না সহ আরও নানা কিছু। আমার ব্লগ- হাবি জাবি নয়। যোগাযোগ- ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ- 9434312482 ই-মেইল- [email protected]

2 thoughts on “How to write a Blog Post. ব্লগে কিভাবে আর্টিকেল লিখবেন ?”

Feedback is highly appreciated...

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: