মহুয়া ভট্টাচার্যের ছবি

ক্যান্সার আক্রান্ত দুস্থ রোগীদের পাশে দাঁড়াতে চুল দান করেছেন দুর্গাপুরের এক শিক্ষিকা।

মহুয়া ভট্টাচার্য্য। থাকেন বিধাননগর গ্রুপ হাউসিংয়ে। একটি বেসরকারি ইংরাজি মাধ্যম স্কুলের শিক্ষিকা। তামিলনাড়ুর একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মাধ্যমে নিজের চুল দান করেছেন তিনি। মঙ্গলবার স্পিড পোস্টে ১৩ ইঞ্চি লম্বা চুলের গোছা পাঠিয়েছেন তিনি। আরও অনেকে তাঁর মতো এগিয়ে আসুন, এমনটাই চাইছেন তিনি।pix of mahua bhattacharya

মহুয়া ভট্টাচার্য্য।

দেখুন ভিডিও- https://youtu.be/olP6fynb9EI

কারওর দান করা চুল কিভাবে কাজে লাগতে পারে ক্যান্সার রোগীদের?

চিকিৎসকেরা জানান, ক্যান্সার রোগীদের কেমোথেরাপি করাতে হয়। কেমোথেরাপি করাতে গিয়ে চুল উঠতে শুরু করে। এক সময় চুল প্রায় উঠেই যায়। নতুন করে চুল গজানোর সম্ভাবনা অতি ক্ষীণ। এই অবস্থায় অনেকেই মানসিক অশান্তিতে ভুগতে শুরু করেন। কারণ অনেকেই মনে করেন, চুল ব্যক্তিত্বের অন্যতম পরিচায়ক। চুল না থাকার হীনমন্যতা থেকে বাঁচতে অনেকেই উইগ ব্যবহার করেন। কিন্তু দুস্থ ক্যান্সার রোগীদের অনেকের উইগ কেনার ক্ষমতা থাকে না। তাঁদের জন্য বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা উইগ তৈরি করে বিলি করে।

মহুয়া জানান, প্রায় আড়াই বছর আগে টিভির খবরে একটি বাচ্চা মেয়েকে ক্যান্সার আক্রান্তদের জন্য উইগ বানাতে নিজের চুল দান করতে দেখেন। উৎসাহিত হয়ে তিনি নিজেও এভাবেই চুল দান করবেন বলে ঠিক করে নেন। নিজের চুল আর কাটবেন না বলে ঠিক করেন। অন্যদিকে কিভাবে চুল দান করা যাবে সে ব্যাপারে খোঁজখবর শুরু করে দেন ইন্টারনেটে।

সম্প্রতি তামিলনাড়ুর একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়। সংস্থাটি জানায়, কোভিড পরিস্থিতিতে চুল দান করতে গেলে সঙ্গে কোভিড টেস্টের রিপোর্ট পাঠাতে হবে। মহুয়া জানান, সম্প্রতি তাঁদের হাউসিংয়ে টেস্টের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তাঁর রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। তিনি রিপোর্ট ও চুল কতটা লম্বা হয়েছে সেই ছবি পাঠিয়ে দেন সংস্থাটির কাছে। সব দেখে সংস্থাটি তাঁকে চুল পাঠাতে বলে।

মঙ্গলবার মহুয়া স্পিড পোস্টে চুল পাঠিয়ে দেন। তিনি বলেন, কারণে-অকারণে আমরা অনেকেই চুল কেটে ফেলি। সামান্য ত্যাগ স্বীকার করে চুল লম্বা করে যদি সেই চুল দান করা যায়, তা যদি ক্যান্সার আক্রান্তদের কাজে লাগে, মন্দ কি! আমি চাই, আমার মতো আরও অনেকে এগিয়ে আসুন। তাঁর চুল দান করার এই উদ্যোগে পাশে দাঁড়িয়েছেন তাঁর স্বামী ডিএসপি কর্মী বাসুদেব ভট্টাচার্য, ছেলে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র দেবাঞ্জন।

By aamarvlog

শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, রান্না সহ আরও নানা কিছু। আমার ব্লগ- হাবি জাবি নয়। যোগাযোগ- ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ- 9434312482 ই-মেইল- [email protected]

Feedback is highly appreciated...

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: