বতক মিঞাঁ! গান্ধীজির জন্মদিনে মনে রাখুন তাঁকেও…

বতক মিঞাঁ! নামটা কখনও শুনেছেন? জানেন ইনি কে?

‘চম্পারণ কে স্বতন্ত্র সেনানি’ (Freedom Fighters of Champaran) বইটা পড়লে আপনি বতক মিঞাঁর কথা জানতে পারবেন।

দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে সরাসরি তিনি অংশ নেননি। তবু ২ অক্টোবর, মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিনে বাপুজির সঙ্গে তাঁকেও স্মরণ করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য, কালের প্রবাহে বহু নামের মতো হারিয়ে গিয়েছে বিহারের মোতিহারি জেলার বতক মিঞাঁ-র নাম।

১৯১৭ সাল। ‘চম্পারণ কে স্বতন্ত্র সেনানি’ বই অনুযায়ী, বিহারের চম্পারণে নীল চাষের বিরুদ্ধে সত্যাগ্রহ আন্দোলন শুরু হয়েছে। মহাত্মা গান্ধীকে বাগে আনতে নীল চাষের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইংরেজ ম্যানেজার আরউইন তাঁকে মোতিহারিতে নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানালেন। রাতে শোওয়ার আগে গান্ধীজিকে এক গ্লাস দুধ দেওয়া হল। সেই দুধে মেশানো ছিল বিষ।

রসুই বতক মিঞাঁর দায়িত্ব ছিল দুধের গ্লাস গান্ধীজির পৌঁছে দেওয়ার। তিনি গ্লাস পৌঁছে দিলেন ঠিকই, কিন্তু ইসারায় যা বোঝানোর, বুঝিয়ে দিলেন গান্ধীজিকে। গান্ধীজি প্রাণে বেঁচে গেলেন। এই ঘটনার সাক্ষী ছিলেন দেশের প্রথম রাস্ট্রপতি ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ। এরপর ইংরেজরা নৃশংস অত্যাচার চালায় বতক মিঞাঁর উপর। তাঁকে জেলে পুরে দেওয়া হয়। তাঁর ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়ে পরিবারটিকে উৎখাত করা হয়।

১৯৫০ সালে রাস্ট্রপতি রাজেন্দ্রপ্রসাদ মোতিহারি সফরে গিয়ে বতক মিঞাঁর পরিবারের জন্য ২৪ একর জমি দেওয়ার নির্দেশ দেন। ১৯৫৭ সালে বতক মিঞাঁ মারা যান। ১৯৫৮ সালে তাঁর পরিবারকে মাত্র ৬ একর জমি দেওয়া হয়। মোতিহারি থেকে ১১০ কিমি দূরে নেপাল সীমান্তে বাল্মিকী টাইগার রিজার্ভ ফরেস্ট এলাকায়। তাঁর ছোট ছেলে মহম্মদ জান আনসারি কোনও উপায় না থাকায় বাড়ি-ঘর ছেড়ে, পরিবার নিয়ে সেখানেই চলে যান।  

হিন্দুস্থান টাইমস-এ প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ২০১০ সালে তাঁর এক নাতি ৫৫ বছরের আলাউদ্দীন আনসারি জানান, সরকারি দফতরে ঘুরে ঘুরে জুতোর শুকতলা ক্ষয়ে গিয়েছে। কিন্তু আর জমি মেলেনি।   

aamarvlog

শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, রান্না সহ আরও নানা কিছু। আমার ব্লগ- হাবি জাবি নয়। যোগাযোগ- ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ- 9434312482 ই-মেইল- [email protected]

Feedback is highly appreciated...

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: