টাকা ওড়ে কলকাতায়, গল্প হলেও সত্যি

কলকাতায় টাকা ওড়ে। এই কথাটা সেই ছোটবেলা থেকে শুনে এসেছে বিহারের দারভাঙ্গার আত্মারাম। পেটের টানে কিশোর বয়সে ঘর ছেড়ে চলে এসেছে কলকাতায়। থাকে ডালহৌসির বেন্টিঙ্ক স্ট্রিটে। এখন তার বয়স প্রায় ৫৫। এতদিন পরে বুধবার যেন ছোটবেলায় শোনা কথাটাই সত্যি হয়ে গেল! সত্যি সত্যিই টাকা উড়তে দেখল সে। ২৭ নম্বর বেন্টিঙ্ক স্ট্রিটের বাড়ি থেকে বান্ডিল বান্ডিল টাকা পড়ছে। বাতাসে উড়ে পড়ছে নীচে। দু’পকেট ভরে টাকা নিয়ে দুরে গিয়ে দাঁড়ালো আত্মারাম। ততক্ষণে পথচলতি আরও অনেকে সেই দৃশ্য দেখতে দাঁড়িয়ে পড়েছে সেখানে। কিছুক্ষণের মধ্যেই চলে এল পুলিশ। এলাকাও সুনসান।

গল্প নয়। বিল্ডিংয়ের উপর থেকে টাকা পড়ার খবর আদ্যপান্ত সত্যি। খবর হয়েছে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে, পোর্টালে। একশো, পাঁচশো, দু’হাজার টাকার নোট। বাড়ির সাততলা থেকে এমন বহু নোট এসে পড়ে নীচে। তবে রাস্তায় নয়। কমপ্লেক্সের মধ্যেই। সিকিউরিটি গার্ডরা তা দেখে অবাক হয়ে যান। নোট কুড়োতে থাকেন। ‘পড়ে পাওয়া চৌদ্দ আনা’ বলে কথা! আত্মারাম কুলির কাজ করে। রোজগার তেমন আহামরি নয়। তার উপর নিয়ম করে প্রতিমাসে বাড়িতে টাকা পাঠাতে হয়। ওই কমপ্লেক্সের পাশ দিয়েই যাচ্ছিল সে। এভাবে টাকা পড়তে দেখে কমপ্লেক্সের খোলা ছোট গেটটি দিয়ে ঢুকে পড়ে ভিতরে। গেটে থাকা সিকিউরিটি গার্ড তো তখন ব্যস্ত নোট কুড়োতে। পকেট ভর্তি টাকা নিয়ে চুপিচুপি বেরিয়ে চলে এল আত্মারাম। উপরি রোজগার হয়ে যাওয়ায় ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিল সে। মনে হচ্ছে, সারা বছরের রোজগার হয়ে গিয়েছে একদিনে!

কিন্তু কি করে এমন হল? আসলে ওই বহুতলটিতে বহু সংস্থার অফিস রয়েছে। তেমন বহু অফিসে বেআইনি অর্থের কারবার লেগেই থাকে। কাছেই আয়কর ভবন। এদিন আয়কর দফতরের অফিসাররা হঠাৎ ওই বহুতলে অভিযান চালাতে ঢুকে পড়েন। তখনই ধরা পড়ার হাত থেকে বাঁচতে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা সরিয়ে দেওয়া হয় এভাবেই। উপর থেকে স্রেফ ফেলে দেওয়া হয় বান্ডিল বান্ডিল টাকা।

পুলিশ এসে সিকিউরিটি গার্ডদের কাছ থেকে টাকা বাজেয়াপ্ত করে। পড়ে থাকা টাকাও বাজেয়াপ্ত করা হয়। সব মিলিয়ে পরিমাণ, কয়েক লক্ষ টাকা। পুলিশ এভাবে টাকাগুলি নিয়ে নিচ্ছে দেখে বিপাকে পড়ে গেল আত্মারাম। তড়িঘরি বাড়ি গেল সে। রাতে রুটি, সবজি খাওয়ার পরে দুশ্চিন্তায় ঘুমই আসতে চাইছে না আত্মারামের। টাকাগুলি রেখে দেওয়া কি ঠিক হবে? টাকার মালিক তো সে নয়। দার্শনিকরা বলেন, দারিদ্র মানুষের নৈতিকতাকে পচিয়ে দেয়’। আত্মারামের নৈতিকতার কাছে বরাবর হার মেনেছে দারিদ্র। এবারও তাই হল শেষ পর্যন্ত। জয়ী হল নৈতিকতা।

বাতাসে হাল্কা শীতের আমেজ। গায়ে একটা চাদর জড়িয়ে সটান থানায় গিয়ে হাজির হল আত্মারাম। ডিউটিতে থাকা পুলিশ কর্মী ভাবলেন, এই রাতে দেহাতি আবার কি ঝামেলা নিয়ে এল কে জানে! চেঁচিয়ে উঠলেন, কি চাই! চাদরের তলা থেকে টাকার বান্ডিল টেবিলে রেখে আত্মারাম বলল, বাবু, এ’টাকা ভুল করে নিয়ে চলে গিয়েছিলাম। ঠিক করিনি। তাই ফেরত দিতে এসেছি। পুলিশ অফিসার আত্মারামের, দেশ, পরিবারের কথা, সব শুনে নীচু গলায় বলে উঠলেন, এই কে আচিস! আত্মারামবাবুকে এক কাপ ঘন দুধের চা দে!

aamarvlog

শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, রান্না সহ আরও নানা কিছু। আমার ব্লগ- হাবি জাবি নয়। যোগাযোগ- ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ- 9434312482 ই-মেইল- [email protected]

Feedback is highly appreciated...

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: