মজে যাচ্ছে দুর্গাপুর ব্যারাজ, ঘনাচ্ছে বিপদ

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটিও সাবস্ক্রাইব করে রাখুন বিভিন্ন আপডেট পাওয়ার জন্য।

দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুরঃ শিয়রে শমন বলে একটা কথা আছে জানেন তো?  ডিভিসির দুর্গাপুর ব্যারাজ কিন্তু শুধু দুর্গাপুর নয়, সমগ্র দক্ষিণবঙ্গের কাছে শিয়রে শমন হতে চলেছে। কারণ, দুর্গাপুর ব্যারাজের জলাধারের জলধারণ ক্ষমতা পলি জমে কমে গিয়েছে প্রায় ৫৯ শতাংশ। অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে জলের চাপে ব্যারাজ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা অনেকেই তাই উড়িয়ে দিতে পারছেন না।

দুর্গাপুর ব্যারাজ

দামোদরের ভয়াবহ বন্যায় অতীতে বহু ক্ষতি হয়েছে। ১৯৪৩ সালের বন্যায় বহু প্রাণহানি হয়, হাজার-হাজার বাড়ি ভেসে যায়, ফসল পচে যায়। সমস্যার সুরাহা করতে পদার্থবিজ্ঞানী মেঘনাদ সাহাকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটি বন্যা রোধে আমেরিকার টেনেসি ভ্যালি অথরিটির মতো একটি সংস্থা গড়ার পরামর্শ দেয়। ১৯৪৪ সালে টেনেসি ভ্যালি অথরিটির ইঞ্জিনিয়ার ডব্লিউএল ভুরডউইন আসেন পরিদর্শনে। তিনি দুর্গাপুর ব্যারাজ গড়ার পরামর্শ দেন। শেষ পর্যন্ত ৩৪ টি গেট যুক্ত ৬৯২ মিটার লম্বা দুর্গাপুর ব্যারাজ গড়ে ওঠে ১৯৫৫ সালে।

মজে যাচ্ছে ব্যারাজ

ব্যারাজ গড়ে ওঠায় যেমন বাঁকুড়া, বর্ধমান, হুগলি, হাওড়া সহ নিম্ন দামোদর রেহাই পায় বন্যার ভ্রুকূটি থেকে, তেমনই ব্যারাজ থেকে ক্যানাল দিয়ে এই সব এলাকায় সেচের ব্যবস্থা করা হয়। এর ফলে কৃষিকাজে প্রভূত উন্নতি হয়। ব্যারাজ থেকে জল নিয়ে তা শোধন করে দুর্গাপুর শহরে পানীয় জল হিসাবে সরবরাহ করা হয়। দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের যাবতীয় শিল্প-কারখানা চলে ব্যারাজের জল নিয়েই। কিন্তু সেই ব্যারাজই এবার দিন দিন শিরঃপীড়া হয়ে উঠছে।

কেন?

বছরের পর বছর পলি জমে ব্যারাজের জলাধারের গভীরতা কমছে। দুর্গাপুরের বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে তিনি অবিলম্বে ব্যারাজ থেকে পলি তোলার দাবি জানিয়েছেন। একই দাবি জানিয়েছেন রাজ্য সরকারের কাছেও। তিনি জানান, ব্যারাজ গড়ে ওঠার সময় জলধারণ ক্ষমতা ছিল ৬.১ মিলিয়ন কিউবিক মিটার। ২০১১ সালের এক সমীক্ষায় জানা যায়,  পলি জমে জমে জলধারণ ক্ষমতা হয়েছে ৩.৩৯৭ মিলিয়ন কিউবিক মিটার। গত কয়েক বছরে আরও পলি জমেছে। তিনি জানান, জলধারণ ক্ষমতা প্রায় ৫৯ শতাংশ কমে গিয়েছে। ফলে অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে জলের চাপ সহ্য করতে না পেরে ব্যারাজ ভেঙে পড়লে নিম্ন দামোদরের বিস্তীর্ণ এলাকা ভেসে যাওয়ার ভয় থাকছে।

বিধায়ক আরও জানান, ব্যারাজে পর্যাপ্ত জল না থাকলে দুর্গাপুর শহরে পানীয় জলের সরবরাহ ব্যাহত হবে। শিল্প-কারখানাও জলের অভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে দুর্গাপুর সহ বিস্তীর্ণ এলাকা চরম বিপাকে পড়বে। ব্যারাজের পলি তোলাই সমস্যা থেকে মুক্তির একমাত্র উপায়, জানিয়েছেন বিধায়ক।

কিন্তু তা হবে কবে, সেই উত্তর আপাতত নেই কারওর কাছে।   

খবরের জন্য যোগাযোগ করুন- 9434312482

aamarvlog

শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, রান্না সহ আরও নানা কিছু। আমার ব্লগ- হাবি জাবি নয়। যোগাযোগ- ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ- 9434312482 ই-মেইল- [email protected]

Feedback is highly appreciated...

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: