লকডাউনে ভোল বদলে গেল জেমুয়া ভাদুবালা বিদ্যাপীঠের

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটিও সাবস্ক্রাইব করে রাখুন বিভিন্ন আপডেট পাওয়ার জন্য।

দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুরঃ শুধু স্কুলের জীর্ণ ভবন সংস্কার করে রং করা নয়। স্কুলে বাগান তৈরি, ল্যাবরেটরি তৈরি, স্কুল চত্বরে বাহারি বাগান গড়ে তোলা, শৌচাগারের পরিকাঠামোর উন্নতি করা, স্কুল যাঁর নামে, সেই ভাদুবালাদেবীর আবক্ষ মূর্তি প্রতিষ্ঠা। লকডাউনের আগে আর পরের জেমুয়া ভাদুবালা বিদ্যাপীঠের ছবি দেখলে মেলানো মুশকিল!

old look of jemua bhadubala bidyapithকয়েক মাস আগে তোলা স্কুলের ছবি

নীচে ভিডিওতে দেখুন স্কুলের নতুন রূপ

গ্রামের কয়েকজন শিক্ষিত যুবকের উদ্যোগে এক সময়ে মাত্র ২৫-৩০ জন ছাত্রছাত্রীকে নিয়ে খড়ের চালের বেড়ার ঘরে শুরু হয় জেমুয়া জুনিয়র স্কুল। মুখ্য ভূমিকা নেন সুবোধ চট্টরাজ, শৈলেন মুখার্জী, মালেক ওস্তার। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন গ্রামের বাসিন্দা শুভ চট্টরাজ এবং গ্রামের এক নিঃসন্তান বাল্যবিধবা ভাদুবালা দেবী। প্রায় ৪৮ বছর আগে ভাদুবালাদেবী স্কুল গড়তে ২২ হাজার টাকা ও এক বিঘা জমি দান করেন। স্কুলের ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ভাদুবালাদেবীর নামে স্কুলের নাম হয় জেমুয়া ভাদুবালা বিদ্যাপীঠ।

১৯৮২ সালে স্কুলটি সরকারি অনুমোদন লাভ করে। ১৯৯৩ সালে মাধ্যমিক পর্যন্ত অনুমোদন পায়। ২০১২ সালে উচ্চমাধ্যমিকে উন্নীত হয় স্কুলটি। বর্তমানে স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় হাজার। এই স্কুল থেকে পঠন-পাঠন শেষ করে সমাজের নানা ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন বহু জন। দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষকের পদ ফাঁকা থাকার পরে ২০১৯ সালে প্রধান শিক্ষক হিসাবে যোগ দেন জইনুল হক। পঠন-পাঠনের মান ও স্কুলের পরিকাঠামোর আরও উন্নয়নে উদ্যোগী হন তিনি। ২০২০ সালে শিক্ষক-শিক্ষিকা সহ সবার আর্থিক সাহায্য দিয়ে প্রায় চার লক্ষ টাকা ব্যয়ে পানীয় জল ও শৌচাগার গড়া হয়।

আরও পড়ুন- সৌরশক্তিতে চলছে ডাঃ বিসি রায় কলেজের ক্যাম্পাস

লকডাউনে স্কুল বন্ধ। এই সময়টাকে কাজে লাগিয়ে প্রায় ১১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে স্কুলের ভোল বদলে ফেলা হয়েছে। প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, যিনি যতটা পেরেছেন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। ভাদুবালাদেবীর মূর্তি প্রতিষ্ঠার জন্য এবং বাগান তৈরির আর্থিক সাহায্য নিয়ে এগিয়ে আসেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র আরই কলেজ মডেল স্কুলের শিক্ষক নুরুল হক। প্রধান শিক্ষক সহ স্কুলের বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষিকারা আর্থিক সাহায্য দিয়েছেন। স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক মৃণাল চট্টোরাজ নিজে কিছু আর্থিক সাহায্য দেন। একই সঙ্গে তিনি, শ্যামাশংকর রায়, আনারুল মন্ডল, আমির হোসেন, কুতুবুদ্দিন মন্ডল প্রমুখ প্রধানশিক্ষকের সঙ্গে বেরিয়ে পড়েন এলাকায় ঘুরে ঘুরে সাহায্য চাইতে।

বহু সহৃদয় মানুষ আর্থিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। রোটারি ক্লাব থেকে দেওয়া হয় স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন, ব্যবহৃত ন্যাপকিন জ্বালিয়ে দেওয়ার মেশিন এবং হাত ধোওয়ার মেশিন। শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ রহমান লাইব্রেরির বই কেনার জন্য অর্থ সাহায্য করেন। প্রধান শিক্ষকের ছেলে, এসবিআইয়ের প্রবেশনারি অফিসার আনন হক একটি কম্পিউটার দেন। স্কুলের ভিতরে রাস্তা তৈরি করে দিয়েছে এডিডিএ। সব মিলিয়ে স্কুলের চেহারা ও পরিকাঠামো আমুল বদলে ফেলা গিয়েছে গত কয়েকমাসে। শনিবার ভাদুবালাদেবীর আবক্ষ মূর্তির আবরণ উন্মোচন করবেন দুর্গাপুরের প্রাক্তন বিধায়ক অপূর্ব মুখার্জী। প্রধান শিক্ষক বলেন, সবার আন্তরিক সহযোগিতায় স্কুলের চেহারা বদলে গিয়েছে।

 

aamarvlog

শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, রান্না সহ আরও নানা কিছু। আমার ব্লগ- হাবি জাবি নয়। যোগাযোগ- ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ- 9434312482 ই-মেইল- [email protected]

Feedback is highly appreciated...

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: