আমলৌকা দিয়ে শুরু হল জিতেন্দ্র তিওয়ারির নতুন ইনিংস

pix of mamc modern addআমাদের ইউটিউব চ্যানেলটিও সাবস্ক্রাইব করে রাখুন বিভিন্ন আপডেট পাওয়ার জন্য।

লাউদোহাঃ প্রায় দুই সপ্তাহ পরে ফের তৃণমূলের সভায় দেখা গেল জিতেন্দ্র তিওয়ারিকে। নিজের বিধানসভা এলাকা পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভার অন্তর্গত দুর্গাপুর-ফরিদপুর ব্লকের আমলৌকা গ্রামে শুক্রবার তিনি তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেন। বিজেপি নিয়ে তিনি কি বলেন এবং কতটা বলেন, সাগ্রহে অপেক্ষায় ছিলেন অনেকেই। এদিন তিনি আগাগোড়া বিজেপির বিরুদ্ধেই বক্তব্য রাখেন। তবু কেউ কেউ তাঁর সেই বক্তব্যে ‘ঝাঁঝ’ খুঁজে পাননি!

টানাপোড়েনের শুরু গত ১৪ ডিসেম্বর। আগের দিন রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে লেখা তাঁর কড়া চিঠি সেদিন প্রকাশ করে দেন আসানসোলের বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। রাজনীতি করতে গিয়ে কেন্দ্রীয় সাহায্য না নিয়ে আসানসোলের উন্নয়ন থমকে দিয়েছে রাজ্য সরকার। এটাই ছিল চিঠির বিষয়। এর পরেই ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে তিনি প্রকাশ্য বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। আসানসোল পুরসভার প্রশাসক এবং দলের জেলা সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। তাঁর বিজেপিতে যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে প্রবল জল্পনা শুরু হয়৷

মুখ্যমন্ত্রী ফোন করার পরেও তিনি ১৭ ডিসেম্বর কাঁকসায় সাংসদ সুনীল মন্ডলের বাড়িতে চলে যান শুভেন্দু অধিকারির সঙ্গে দেখা করতে। তবে ১৮ ডিসেম্বর রাতে মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে বৈঠক সেরে বেরিয়ে তিনি জানান, তিনি তৃণমূলে ছিলেন, আছেন, থাকবেন। এরপর বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো তিনি পুলিশ পাহারা নিয়ে তাঁর বিধানসভা এলাকায় ঢোকেন। তবে কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচী নয়, হরিপুরে সস্ত্রীক রাম-সীতা মন্দিরে পুজো দেন।

শেষ পর্যন্ত শুক্রবার তিনি আমলৌকা থেকে আবার রাজনৈতিক কর্মসূচী শুরু করলেন।  তিনি তাঁর বক্তব্যে বললেন, বিজেপির কোনও কর্মসূচী নেই। বিজেপি নেতা-কর্মীরা মানুষের পাশে থাকেন না। এখন যাঁদের টিভিতে দেখা যায় তাঁদের মানুষ কোনও দিন আন্দোলন করতে দেখেননি। কিন্তু সিপিএম আমলে ধানতলা, বানতলা, সব জায়গায় তৃণমূল কর্মীরা দৌড়েছিলেন মানুষের পাশে থাকতে। তাই তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের দলে টেনে মানুষের  সামনে তুলে ধরতে চাইছে বিজেপি। কারণ, বিজেপির নিজের কর্মীদের কোনও বিশ্বাসযোগ্যতা নেই।

আরও পড়ুন- জিতেন্দ্র তিওয়ারি ডাক পেলেন না কর্মীসভায়

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জিতেন্দ্র তিওয়ারির বক্তব্যে বিজেপি বিরোধিতার সময় আগে যে ঝাঁঝ দেখা যেত, এদিন তা দেখা যায়নি। তাঁদের মতে, দলে ফিরে এলেও তাঁর অবস্থা আর আগের মতো পোক্ত নয়। এখনও তাঁকে কোনও পদ ফিরিয়ে দেয়নি দল। শনিবার পাণ্ডবেশ্বরে দুর্গাপুর মহকুমা মহিলা তৃণমূলের যে সাংগঠনিক বৈঠক ডাকা হয়েছে সেখানেও তাঁকে বক্তা হিসাবে ডাকা হয়নি। সব মিলিয়ে এই পরিস্থিতি।

বিজেপি নেতাদের দাবি, কে কি বলছেন তা নিয়ে ভাবছেন না তাঁরা। মানুষ যে তাঁদের পাশে আছেন সেটা বিধানসভা নির্বাচনেই প্রমাণ হয়ে যাবে। তারপরে তৃণমূলের আর অস্তিত্ব থাকবে না।

 

 

 

aamarvlog

শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, রান্না সহ আরও নানা কিছু। আমার ব্লগ- হাবি জাবি নয়। যোগাযোগ- ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ- 9434312482 ই-মেইল- [email protected]

Feedback is highly appreciated...

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: