কড়ঙ্গপাড়ার কোন্ ঐতিহ্য ভাঙার জন্য ভুল স্বীকার করতে হল বিজেপি প্রার্থীকে?

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটিও সাবস্ক্রাইব করে রাখুন বিভিন্ন আপডেট পাওয়ার জন্য।

দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর, ৫ এপ্রিল ২০২১: সে এক আজব গাঁ! যেখানে রাজনীতির রঙ কখনও ধরা পড়েনি দেওয়ালে, ব্যানারে, পোস্টারে। গ্রামের নাম কড়ঙ্গপাড়া। অভিযোগ, সেখানেই নির্বাচনী প্রচার ঘিরে বিতর্কের মুখে বিজেপি!

বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষ্যে সারা দুর্গাপুর ভরে গিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলির ব্যানার, পোস্টার, হোর্ডিং, দেওয়াল লিখনে। মিটিং-মিছিল লেগেই আছে। সেখানে কড়ঙ্গপাড়ায় পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন, দেওয়াল লিখন নেই। নেই স্লোগান, মিটিং-মিছিল। কড়ঙ্গপাড়া আসলে ‘মরুভূমির মাঝে এক চিলতে মরুদ্যান!’ সেই কড়ঙ্গপাড়াতেই রবিবার বিকালে বিজেপির মিছিলের দুটি গাড়ি ঢুকে পড়ায় বিতর্ক দেখা দেয়। শেষ পর্যন্ত সোমবার লিখিতভাবে ভুল স্বীকার করে নিলেন বিজেপির দুর্গাপুর পশ্চিম কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী লক্ষ্মণ ঘোড়ুই।

ভোটের সময় দেওয়াল লিখন ঘিরে  বিবাদ লেগেই থাকে। কড়ঙ্গপাড়ার বাসিন্দারা অর্ধশতাব্দী আগে দেওয়াল লিখনের বিরুদ্ধে একজোট হয়েছেন। গ্রামের ষোলআনার নির্দেশে সেই নিয়ম মানতে বাধ্য সব রাজনৈতিক দল। রাজনৈতিক মত-পার্থক্য যেন গ্রামবাসীদের মাঝে বিভেদ না গড়ে তোলে। গ্রামের সব বাড়ির দেওয়াল ঝকঝকে। দেখে বোঝার উপায় নেই, বিধানসভা ভোট দোরগোড়ায়। প্রার্থীরা গ্রামে প্রচারে আসেন না এমন নয়। কিন্তু গ্রামে মিটিং-মিছিল নিষিদ্ধ। তাই প্রার্থী আসেন কয়েকজন অনুগামীকে নিয়ে। স্লোগান দেওয়া যায় না। শুধু বাড়ি বাড়ি ঘুরে ভোট প্রার্থনা করে চলে যান প্রার্থী। এই গ্রাম থেকে কেউ যদি জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হন তবু গ্রামে বিজয় মিছিল করা যায় না।

দীর্ঘদিন এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা বিশ্বনাথ পাড়িয়াল। তিনি প্রচার করেছেন গ্রামের নিয়ম মেনেই। বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারেও সেভাবেই গ্রামে প্রচার করেন  বিশ্বনাথবাবু। কাউন্সিলর হোক বা বিধায়ক, নির্বাচিত হওয়ার পরে কখনও বিজয় মিছিল করেননি গ্রামে। সেই গ্রামেই রবিবার বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে দলীয় পতাকা লাগানো প্রচার মিছিলের দুটি গাড়ি ঢুকে পড়ে। বিতর্ক দেখা দেয়। সোমবার ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়, বিজেপির দুর্গাপুর পশ্চিম কেন্দ্রের কনভেনার অভিজিৎ দত্ত প্রমুখের উপস্থিতিতে কড়ঙ্গপাড়া গ্রাম উন্নয়ন সমিতির সভাপতি সূর্য কেশের হাতে মার্জনাপত্র তুলে দেন লক্ষ্মণ ঘোড়ুই। তিনি জানান, বেনাচিতি থেকে আসা দুটি প্রচারের গাড়ি শ্যামপুর যাওয়ার রাস্তায় পথ ভুলে গ্রামে ঢুকে পড়ে। পুরো বিষয়টি হয় অনিচ্ছাকৃতভাবে।

aamarvlog

শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, রান্না সহ আরও নানা কিছু। আমার ব্লগ- হাবি জাবি নয়। যোগাযোগ- ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ- 9434312482 ই-মেইল- [email protected]

Feedback is highly appreciated...

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: