অনলাইন প্রতারণার ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। কিভাবে বাঁচবেন বিপদ থেকে? কয়েকটি টিপস মেনে চললে হয়তো কেউ আপনাকে ঠকাতে পারবে না।

বিপদ বেশি কার্ড থেকেই

১) পিন তো দূরের কথা, ক্রে়ডিট কার্ড, ডেবিট বার্ড বা ইএমআই কার্ডের কোনও তথ্য যেমন কার্ড নম্বর, মেয়াদ শেষের তারিখ, সিভিভি নম্বর ভুল করেও কাউকে জানানো যাবে না। কারণ, বেশ কিছু ওয়েবসাইট আছে যেখান থেকে অনলাইন কেনাকাটা করতে গেলে কার্ডের নম্বর, মেয়াদ শেষের তারিখ ও ‘সিভিভি’ নম্বর দিলেই চলে। ‘পিন’ বা ‘ওটিপি’ ছাড়াই সে সব সাইটে কেনকাটা করা যায়। তাই কার্ডের তথ্য জানা থাকলেই কেল্লা ফতে। আপনার অ্যাকাউন্ট সাফ করে দিতে সময় লাগবে না দুষ্কৃতীদের। এমন ওয়েবসাইট থেকে দূরে থাকবেন।

২) অনলাইনে কেনাকাটা করতে হলে কম্পিউটার বা মোবাইলে উন্নত অ্যান্টি-ভাইরাস সফ‌টওয়্যার থাকা জরুরি। সন্দেহজনক ওয়েবসাইটকে অ্যান্টি-ভাইরাস আটকে দেয়।

৩) কোনও ওয়েবসাইট দেখার সময় বহু রকম লিঙ্ক আসতে থাকে। বিশেষ করে পর্ন সাইট দেখার সময়। অনলাইনে কেনাকাটা করার সময়েও তেমন লিঙ্ক আসে। সেই সব লিঙ্ক থেকে দূরে থাকতে হবে। কারণ, সেই সব লিঙ্কের মাধ্যমে ভাইরাস ঢুকিয়ে দেয় হ্যাকাররা। যেমন ট্রোজান ভাইরাস। মনে রাখার জন্য নিজের কম্পিউটারে বা মোবাইলে অনেকেই কার্ডের নম্বর, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নম্বর, কার্ডের পিন নম্বর ‘সেভ’ করে রেখে দেন। তাছাড়া অনলাইন কেনাকাটার জন্যও এসব তথ্য দিতে হয়। এই ধরণের ভাইরাস কম্পিউটার বা মোবাইলে থাকা যাবতীয় তথ্য হাতিয়ে নেয়। অনেক ওয়েবসাইট লোভনীয় অফারের হাতছানি দিয়ে ক্রেতাদের টানে। তা থেকে দূরে থাকতে হবে। তাছাড়া অপরিচিত এবং সন্দেহজনক ওয়েবসাইট এড়িয়ে চলাই ভাল।

৪) অনেকেই দোকান, শপিং মল, রেস্তোঁরায় কার্ড ‘সোয়াইপ’ করে বিল মেটান। সেই সময় কড়া নজর রাখা উচিত। কার্ডের তথ্য হাতানোর জন্য দুষ্কৃতীরা সোয়াইপ মেশিনের মতো হুঁবহু দেখতে একটি বিশেষ যন্ত্র যাকে কার্ড কপিয়ার বলে, তা ব্যবহার করে থাকে। সেই যন্ত্রে কার্ডটি একবার ঘষে দিলেই কার্ডের যাবতীয় তথ্য ভিতরে ঢুকে যায়। সেই তথ্য ব্যবহার করে কার্ডের হুঁবহু প্রতিলিপি তৈরি করা যায় যাকে বলে ‘ক্লোনিং’ বা ‘স্কিমিং’। এরপর তা আসল কার্ডের মতোই ব্যবহার করা সম্ভব। তাই বিল মেটানোর সময় সতর্ক থাকুন।

৫) আজকাল অনেকেই ইএমআই কার্ড ব্যবহার করেন। দুষ্কৃতীরা প্রথমে কোনও ভাবে ইএমআই কার্ডের তথ্য হাতিয়ে নেয়। এরপর ওই কার্ডের সঙ্গে যুক্ত গ্রাহকের মোবাইল নম্বর বদলে অন্য নম্বর যোগ করে দেয়। এবার কেনাকাটার সময় ‘ওটিপি’ বা ‘মেসেজ’ গ্রাহকের কাছে আসে না। চলে যায় নতুন নম্বরে। ফলে গ্রাহক জানতেও পারেন না তাঁর কার্ড ব্যবহার করে কেনাকাটা চলছে। যখন ঋণের কিস্তি মেটানোর ই-মেল আসে তখন মাথায় হাত পড়ে গ্রাহকের।

By aamarvlog

শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, রান্না সহ আরও নানা কিছু। আমার ব্লগ- হাবি জাবি নয়। যোগাযোগ- ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ- 9434312482 ই-মেইল- [email protected]

3 thoughts on “অনলাইন প্রতারণা থেকে বাঁচবেন কি করে?”

Feedback is highly appreciated...

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: