উস্থির মহামিছিল বন্ধ করতে করুণাময়ীতে ব্যাপক ধড়পাকড়

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটিও সাবস্ক্রাইব করে রাখুন বিভিন্ন আপডেট পাওয়ার জন্য।

দুর্গাপুর দর্পণ, কলকাতাঃ প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন কাঠামোয় নানাবিধ বৈষম্য ও বঞ্চনা দূর করার দাবিতে শুক্রবার ১৯ ফেব্রুয়ারি করুণাময়ী বাসস্ট্যান্ড থেকে বিকাশ ভবন পর্যন্ত মহামিছিল করার পরিকল্পনা করেছিল উস্থি ইউনাইটেড প্রাইমারি টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন। মিছিল বন্ধ করতে পুলিশ করুণাময়ীতে গিয়ে প্রাথমিক শিক্ষকদের ব্যাপক ধড়পাকড় শুরু করে। জমায়েতই করতে দেয়নি। সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক ভাস্কর ঘোষ বলেন, “এদিন যা ঘটেছে তার নিন্দার ভাষা নেই। অত্যন্ত অগণতান্ত্রিকভাবে আমাদের আন্দোলন বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে। এবার আরও বড়সড় আন্দোলন হবে। তার প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গিয়েছে।”

চলছে ধরপাকড়

শিক্ষক সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, বৈষম্য ও বঞ্চনা দূর করতে ও অন্যায়ভাবে বদলি হওয়া শিক্ষকদের ফিরিয়ে আনার দাবিতে ২০১৯ সালের ১২ জুলাই থেকে ২৬ জুলাই পর্যন্ত ওয়াই চ্যানেলে টানা অনশন করেন তাঁরা। শেষ পর্যন্ত রাজ্য সরকার বেতন কাঠামোয় পরিবর্তন আনে। ২৬ জুলাই সরকারি নির্দেশনামা (জিও) প্রকাশিত হয়। অভিযোগ, এতদিন কার চলে আসা নিয়ম মানা হয়নি। সাধারণ নিয়মে বর্ধিত বেতন চালু হওয়ার কথা ছিল ২০০৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। কিন্তু তা চালু করা হয় ২০১৯ সালের ১ আগস্ট থেকে। এর ফলে নতুন শিক্ষকদের সঙ্গে পুরানো শিক্ষকদের বেতনের বৈষম্য তৈরী হয়।

ওই সরকারি নির্দেশনামা অনুযায়ী, ২০১৯ সালের আগষ্ট মাসের আগে যাঁরা ১৮ বছর শিক্ষকতা পেরিয়ে এসেছেন তাঁদের গ্রেড পে আজীবন ৩৬০০ টাকা থেকে যাবে। কোনও দিন বাড়বে না। আগষ্ট থেকে বা তার পরে যাঁরা ১৮ বছর অতিক্রম করবেন তাঁদের গ্রেড পে ৩৯০০ টাকা করা হয়। অর্থাৎ, নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী, ২০১৪ সালে যিনি শিক্ষকতা শুরু করেছেন তাঁর যা গ্রেড পে, ২০১৭ সালে যিনি যোগ দিয়েছেন, দু’জনেরই গ্রেড পে এক। আবার, মাদ্রাসা বোর্ড ও রাজ্য সরকারের সাধারণ বোর্ডের প্রাথমিক শিক্ষকদের মধ্যেও বেতনক্রমে বৈষম্য রয়েছে। শিক্ষকদের আরও অভিযোগ, জিও প্রকাশিত হলে একটা ক্লারিফিকেশন দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে তাও দেওয়া হয়নি। সব মিলিয়ে বিস্তর গন্ডগোলের সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাঁদের।

অবিলম্বে জিও-র সঠিক ক্লারিফিকেশন প্রকাশ করা, বেতন বৈষম্য দূর করা, ২০২০ সালের আগে যাঁরা প্রাথমিক শিক্ষকতায় ১৮ বছর পেরিয়ে এসেছেন তাঁদের বেতনের সঠিক মূল‍্যায়ন, প্রধান শিক্ষকদের বেতনে অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্ট, শিক্ষকদের ট্রান্সফারে দূরত্বকে গুরুত্ব দেওয়া, চাকরিরত শিক্ষকদের NIOS থেকে NC সমস্যা এবং B.Ed সহ ছয় মাসের ট্রেনিং সংক্রান্ত সমস্যার দ্রুত সমাধানের দাবিতে বহু ডেপুটেশন দেওয়া হলেও কোনও লাভ হয়নি বলে জানান সংগঠনের পদাধিকারিরা।

গত ২৮ জানুয়ারি উস্থি ইউনাইটেড প্রাইমারি টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বে কলকাতার রাজপথে মিছিল করেন রাজ্যের বিভিন্ন জেলার প্রাথমিক শিক্ষকেরা। কমিশনার, স্কুলশিক্ষা দফতরের কাছে গিয়ে সংগঠনের প্রতিনিধিরা কথা বলেন। সংগঠনের দাবি, কমিশনার এ-বিষয়ে বিশেষ ফাইল তৈরি করে তা সরকারের নির্দিষ্ট দফতরে পাঠানোর আশ্বাস দেন।

সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক ভাস্কর ঘোষ সেদিন বলেছিলেন, “আমরা অনন্তকাল অপেক্ষা করতে পারব না। আমরা দশদিন অপেক্ষা করব। তার মধ্যে যদি ফল না পাই, তাই আপনারা এখন থেকেই প্রস্তুতি নিন যে আমাদের আবার পথে নামতে হবে। সরকারকে বুঝিয়ে দেওয়া দরকার যে কোনও রকম সময় কেনার ফন্দি যদি সরকার করে থাকে, আমরা তাতে ভুলছি না। যা হওয়ার ভোটের আগে হতে হবে।”

সংগঠনের দাবি, কমিশনার সেই বিশেষ ফাইল তৈরি করে সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো হলেও তা চাপা পড়ে গিয়েছে। প্রতিবাদে শুক্রবার করুণাময়ী বাসস্ট্যান্ড থেকে বিকাশ ভবন পর্যন্ত মহামিছিল করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। করুণাময়ীর অলি-গলিতে দৌড়ে দৌড়ে প্রাথমিক শিক্ষকদের আটক করে পুলিশ। প্রতিবাদে থানায় অনশন শুরু করেন তাঁরা। শেষ পর্যন্ত পুলিশ কয়েক ঘন্টা পরে তাঁদের ছেড়ে দেয়।

সংগঠনের তরফে শুভাশীষ মন্ডল বলেন, “আমাদের সভাপতি সন্দীপ ঘোষকে জোর করে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। আমি ও সম্পাদক ভাস্কর ঘোষ এর প্রতিবাদ করায় আমার তলপেটে আঘাত করা হয়। অশ্লীল গালিগালাজ করা হয়। এরপর আমাদের তিনজনকেই আটক করা হয়।” তাঁর আরও অভিযোগ, শিক্ষিকাদের আটক করে পুরুষ পুলিশ কর্মীরা। সংগঠনের সদস্য রাজীব ঘোষ বলেন, “আমাদের ছেড়ে দেওয়ার পরে এক জায়গায় চা খেতে গেলে সেখানেও পুলিশ গিয়ে গালিগালাজ করে আমাদের সরিয়ে দেয়। এদিন অত্যন্ত নিন্দনীয় আচরণ করে পুলিশ।”  পুলিশের অবশ্য দাবি, যা করার তা করা হয়েছে নিয়ম ও আইন মেনেই।

আরও পড়ুন- ফের কলকাতার রাজপথে আন্দোলনে উস্থি, মিলল আশ্বাস

 

aamarvlog

শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, রান্না সহ আরও নানা কিছু। আমার ব্লগ- হাবি জাবি নয়। যোগাযোগ- ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ- 9434312482 ই-মেইল- [email protected]

Feedback is highly appreciated...

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: