Breaking…এবার রাজু ঝা-কে তোলা হল দুর্গাপুর আদালতে, হেফাজতে নিল সিআইডি

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটিও সাবস্ক্রাইব করে রাখুন বিভিন্ন আপডেট পাওয়ার জন্য।

দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর, ১৯ মার্চ ২০২১ঃ বাঁকুড়ার মেজিয়া থানায় দায়ের হওয়া বেআইনি কয়লা কারবারের ১৬ বছরের পুরনো মামলায় ১৫ মার্চ বাঁকুড়া কোর্টে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছিলেন রাজু ঝা। ১৪ দিনের জেল হাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। শুক্রবার তাঁকে দুর্গাপুর আদালতে তোলা হল পুরনো আরও কয়েকটি মামলায়। রাজুর দাবি, বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। এভাবে বিজেপিকে দমিয়ে দেওয়া যাবে না। শাসক দল এর পিছনে রয়েছে বলে রাজুর অভিযোগ। তৃণমূল অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে।

দেখুন ভিডিও

রাজুর বিরুদ্ধে দ্য কোল মাইনস (ন্যাশনালাইজেশন) অ্যাক্ট ১৯৭৩, চুরি, চোরাই মাল নিজের কাছে রাখা, চোরাই মাল লুকিয়ে রাখায় সাহায্য করার মতো অভিযোগ রয়েছে। এদিন তাঁকে দুর্গাপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে সাত দিনের সিআইডি হেফাজতের নির্দেশ দেন। বিধানসভা ভোটের আগে তিনি আদৌ ছাড়া পাবেন কি না তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের রাজনীতিতে। কয়েকদিন আগে কয়লাকান্ডে অণ্ডালের কাজোড়া থেকে সিআইডি গ্রেফতার করেছে রণধীর সিংকে।

দুর্গাপুরের বিধাননগরের বাসিন্দা রাজেশ ওরফে রাজু ঝা। অভিযোগ, মেজিয়া থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগের মামলায় বাঁকুড়া কোর্টে নিজের জায়গায় অন্য একজনকে পাঠিয়েছিলেন রাজু ঝা। আদালতের বিচারক তা ধরে ফেলেন। তিনি রাজুর বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করেন। ১৫ মার্চ রাজু বাঁকুড়া এসিজেএম অরুণকিরণ ব্যানার্জীর এজলাসে গিয়েছিলেন আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানাতে।  কিন্তু বিচারক জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেন।

গত ২১ ডিসেম্বর রাজু ঝা দুর্গাপুরের পলাশডিহার মাঠে ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিংহ এবং বিজেপির আসানসোল জেলা সভাপতি লক্ষ্মণ ঘোড়ুইয়ের হাত থেকে বিজেপির পতাকা নিয়ে দলে যোগ দেন। মঞ্চের ঘোষক তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেন বিশিষ্ট সমাজসেবী হিসাবে। মাঠ জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা হাতে ও গলায় ‘আমরা রাজুদাদার অনুগামী’ লেখা প্লাকার্ডধারীরা তখন তুমুল চিৎকারে ভরিয়ে দেন পলাশডিহার মাঠ।

দেখুন সেই ভিডিও

বাম আমলে কয়লার বেআইনি কারবারের অধিপতি যাঁরা ছিলেন তাঁদের অন্যতম ছিলেন রাজু ঝা। রাজ্যে সরকার বদলেছে। রাজু ঝাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। জামিনে ছাড়া আছেন তিনি। এখন রাজু বিভিন্ন ব্যবসায় মন দিয়েছেন। কিন্তু অতীত পিছু ছাড়ে না! বাম আমলে বরাবর বাম নেতাদের সঙ্গে সখ্যতা বজায় রেখে কারবার চালিয়েছেন। তৃণমূল আসার পরে বিপাকে পড়েন। তারপরে এতদিন তিনি নিজেকে গুটিয়ে রেখেছিলেন খোলসের মধ্যে।

রাজু সরাসরি রাজনীতি কখনও করেননি। তাহলে হঠাৎ তিনি বিজেপিতে যোগ দিতে গেলেন কেন? ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, রাজ্যে যদি বিজেপির সরকার হয় তাহলে ফের তিনি কারবার শুরু করবেন। কিন্তু এখন আর আগের মতো পরিস্থিতি নেই। যতদিন যাচ্ছে, রাজনীতি আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে যাচ্ছে সব কিছুতেই। বলা হয়ে থাকে, সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকাটা এখন নাকি রক্ষাকবচ হিসাবে কাজ করে! কেন্দ্রীয় সংস্থার হানা থেকেও নাকি বাঁচতে সাহায্য করে! তাই তিনি সরাসরি বিজেপিতে নাম লেখান। দুর্গাপুরের একটি কেন্দ্রে বিজেপি তাঁকে প্রার্থী করতে পারে বলেও শুরু হয় জল্পনা!

aamarvlog

শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, রান্না সহ আরও নানা কিছু। আমার ব্লগ- হাবি জাবি নয়। যোগাযোগ- ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ- 9434312482 ই-মেইল- [email protected]

Feedback is highly appreciated...

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: