Incredible benefits of neem leaves. স্বাস্থ্য থেকে সৌন্দর্য, সবেতেই উপকারী নিমপাতা

Incredible benefits of neem leaves. নিমগাছ নেই এমন কোনও গ্রাম নেই। শহরেও আপনি যদি খুঁজতে থাকেন, ঠিক নিমগাছ পেয়ে যাবেন। কেন বলছি? নিমপাতার ভেষজ গুণাগুণ যে অবিশ্বাস্য। ঘরের পাশে এমন এক ওষধিগাছ থাকা সত্বেও আমরা গুরুত্ব দিই না এতটুকু। অবশ্য, এটাই তো আমাদের চিরাচরিত রীতি। যা আছে সেটা নিয়ে মাথা ঘামাই না। যা নেই, সেটা নিয়েই যত মাতামাতি।

এক নজরে

Incredible benefits of neem leaves. আসুন আলোচনা করা যাক, নিমপাতার উপকারিতা নিয়ে।

Incredible benefits of neem leaves. নিমপাতার গুনাগুন ও উপকারিতা। ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিমের কার্যকর ভূমিকা রয়েছে। ইমিউনিটি বাড়াতেও এর জুড়ি মেলা ভার। আয়ুর্বেদ অনুযায়ী, প্রতিদিন খালি পেটে একমুঠো নিমপাতা চিবিয়ে বা নিমপাতার জুস করে খেলে বহু উপকার পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তির অন্যতম উপায় হল শরীরের ইমিউনিটি সিস্টেমকে আরও জোরদার করে তোলা। নিমপাতা সেক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়-

Incredible benefits of neem leaves. নিম পাতা খাওয়ার উপকারিতা। ইমিউনিটি সিস্টেম জোরদার করতে নিমপাতার জুড়ি নেই। নিমপাতা কুচি করে এক গ্লাস জলের সঙ্গে মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে খালিপেটে খেতে পারেন। তা না হলে একমুঠো নিমপাতা চিবিয়ে বা নিমপাতার জুস বা নিম পাতার বড়ি খেতে পারেন। এতে শরীরে রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা বাড়বে। গবেষণায় জানা গিয়েছে, নিম এর মধ্যে থাকা অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান শরীর থেকে যে কোনও রোগ জীবাণুকে দূরে রাখতে সাহায্য করে। নিম গাছের পাতায় রয়েছে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি ফাঙ্গাল এবং অ্যান্টি ভাইরাল উপাদান। তাই নিমপাতা যে কোনও ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে-

ডায়াবেটিসে নিম পাতা। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও নিমপাতা খুব উপকারী। নিয়ম করে প্রতিদিন নিমপাতা খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকবে। যাঁদের রক্তে সুগার নেই, তাঁদের ডায়াবেটিসের সম্ভবনাও কমবে। রক্তে সুগারের পরিমাণ কমাতে নিমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই ডায়াবেটিক রোগীদের নিম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান হিসাবে কাজ করে থাকে।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে-

Incredible benefits of neem leaves. অত্যাধিক রক্তচাপের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে নিম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে থাকে। দৈনিক নিম পাতা খেলে রক্ত চলাচলের পথ প্রশস্ত হয় এবং উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা নিয়ন্ত্রিত হয়। অনেকের তেতো স্বাদ ভালো লাগে না। তাঁরা এক কাপ জলে নিমপাতার রস ও মধু মিশিয়ে নেবেন। সকালে খালি পেটে খেলে এটি শরীরের রক্ত চলাচল বাড়ায়।

বদহজম দূর করে-

পেটের সমস্যা হলেও নিমপাতা খেলে উপকার পাবেন। গ্যাস, বদহজমের রোগে নিম খুব ভালো কাজে আসে। বদহজম, বুক জ্বালা, অ্যাসিডিটি আমাদের অনেকেরই রোজকার সমস্যা। এগুলির সমাধানে নিম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। নিমের মধ্যে হজমের সহায়ক এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা বদহজমের সমস্যাকে কমাতে এবং হজমে সাহায্য করে। নিমপাতার গুঁড়ো বা নিমের নির্যাস ব্যবহার করা যেতে পারে। বদহজম, অ্যাসিডিটি, গ্যাস, বুক জ্বালার মতো সমস্যাগুলিকে যদি দূরে রাখতে চান, নিয়মিত নিম পাতা খাওয়া দরকার। নিম পাতায় থাকা ইনফ্লেমেটরি উপাদানগুলি গ্যাস্ট্রিকের এবং হজম সংক্রান্ত সমস্যাগুলির সমাধান করে থাকে। বদহজমের সমস্যা মিটে যাওয়ায় পেটে ফাঁপা ভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য প্রভৃতি সমস্যাগুলি দূর হয়ে যায়।

পেটের আলসারের সমস্যা থেকে মুক্তি-

Incredible benefits of neem leaves. আলসারের চিকিৎসায় নিমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যে কোনও ধরনের পেটের রোগ, আলসার কিংবা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় নিম খুব কার্যকরী ভূমিকা নিয়ে থাকে। নিম গাছের ছাল গুঁড়ো করে যদি দৈনিক জলে মিশিয়ে খাওয়া যায় তাহলে পেটের আলসারের সমস্যার সমাধান হতে পারে। গবেষণায় আরও দেখা গিয়েছে, নিয়মিত নিমপাতা ব্যবহার করার ফলে আলসারের মতো সমস্যার সমাধান হয়েছে।

কোলেস্টেরল কমাতে নিম পাতার ভূমিকা-

বলা হয়, গবেষণায় দেখা গিয়েছে, রক্তের কোলেস্টেরল কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে নিম পাতা। যাঁরা কোলেস্টেরলের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁরা দৈনিক নিমপাতার রস খেলে উপকার পাবেন।

ত্বকের ছোপ দাগ দূর করে নিমপাতা-

ত্বকের যত্নে নিম পাতার উপকারিতা। মুখে কালো ছোপ নিয়ে অনেকেই বিব্রত হয়ে পড়েন। ছোপের উপরে নিমপাতা বাটা লাগিয়ে নিন। দ্রুত ফল পাবেন। এছাড়াও ত্বকের যে কোনও রোগে কাঁচা হলুদ ও নিমপাতা একসঙ্গে বেটে তা লাগালে উপকার পাবেন। ত্বকে যে কোনও ধরণের চুলকানি হলে নিম পাতা ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি চোখের ডার্ক সার্কেল দেখা দিলে সেক্ষেত্রেও নিমপাতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। চোখের ডার্ক সার্কেল কমাতে নিম পাতা কাজ দেয়।

ব্রণ দূর করতে কাজ করে নিমপাতা-

খাদ্যতালিকায় একটু এদিক-ওদিক হলে অনেকেরই মুখে ব্রণ বা ফুসকুড়ি দেখা যায়। বিশেষ করে যাঁরা তৈলাক্ত ত্বকের অধিকারী, তাঁদের ক্ষেত্রে একটি বড় সমস্যা হল ব্রণ। আবার শরীরের ভিতরের অন্যান্য সমস্যার জন্যও মুখমন্ডলে ব্রণ, হোয়াইট হেডস, ব্ল্যাক হেডস, পিম্পলস প্রভৃতি সমস্যা দেখা দেয়। এর সমাধান হল নিম পাতা। নিম পাতা এবং হলুদের পেস্ট নিয়মিত ব্যবহার করার ফলে মুখে ব্রণের দাগ কমে যায়। ত্বক উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। এর পাশাপাশি নিমের মধ্যে থাকা ময়েশ্চারাইজিং বৈশিষ্ট্য ত্বকের ভারসাম্য রক্ষা করে, অতিরিক্ত তৈলাক্ততা বা শুষ্কতা থেকে ত্বককে মুক্তি দেয়।

ত্বকে কিভাবে নিমপাতার ব্যবহার করবেন?

নিম পাতার ওষধি গুণ ত্বকের যত্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ত্বকে ব্যাকটেরিয়া জনিত সমস্যা দূর করতে বা ব্রণ সহ অন্যান্য সমস্যা দূর করতে নিম যুক্ত ফেসপ্যাক ব্যবহার করা যেতে পারে। আবার দরকার হলে বাড়িতেও নিমপাতা দিয়ে ঘরোয়া প্যাক তৈরি করে তা ব্যবহার করা যেতে পারে। নিম পাতার মধ্যে থাকা ভিটামিন ই ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া, নিম পাতা সিদ্ধ করে সেই জল প্রতিদিন ত্বকে লাগালে ত্বক সুস্থ থাকে।

নিম পাতা জলে ফুটিয়ে নিয়ে সেই জল টোনার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। ব্রণের দাগ এবং পিগমেন্টেশন দূর করার জন্য নিম পাউডার জলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্রণের বা দাগের উপর ব্যবহার করতে পারেন। নিম তেলও ব্যবহার করতে পারেন। ব্ল্যাক হেডস বা হোয়াইট হেডস এর সমস্যা থাকলে ২-৩ ফোটা নিম তেল জলের সঙ্গে মিশিয়ে মুখে মেখে মিনিট পনেরো রেখে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

নিম পাতা, তুলসী এবং চন্দন কাঠের গুঁড়ো ভালো করে পেস্ট করে নিয়ে গোলাপজল দিয়ে মিশিয়ে তা ব্যবহার করতে পারেন। মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে মিনিট কুড়ি অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলতে হবে। এতে ব্রণর সমস্যার সমাধান হবে। দাগ দূর করতে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে নিম পাতার গুঁড়ো গোলাপজলে মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে মুখে লাগান। ত্বক যদি খুব শুষ্ক হয় তাহলে এই মিশ্রনে সামান্য পরিমাণ মধু এবং দই যোগ করতে পারেন। এছাড়া, স্নানের পরে নিমপাতা ভিজানো জল গায়ে ঢালতে পারেন। এতে যে কোনও ধরণের ত্বকের সমস্যা দূর হবে।

দাঁত ও মাড়ির সুরক্ষায়-

গ্রামের দিকে অনেকেই নিম ডাল দিয়ে দাঁত মাজেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দাঁত ও মাড়ির ইনফেকশন হলে, মুখে দুর্গন্ধ হলে নিম ডাল দিয়ে দাঁত মাজুন। তাহলে উপকার পাবেন। নিম গাছের ডালে রয়েছে অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল উপাদান। এটিও যে কোনও ব্যাকটেরিয়া এবং জীবাণুকে মেরে ফেলতে সাহায্য করে। দাঁতের সমস্যার সমাধানে নিম ডাল কাজে আসে। অনেকে তাই নিম ডাল দাঁতন হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, দাঁত এবং দাঁতের মাড়ির বিভিন্ন সমস্যার প্রতিকারে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে নিম। নিম তেল দাঁতের মাড়ির যে কোনও সমস্যার সমাধান করতে পারে। নিমের নির্যাসযুক্ত মাউথ ওয়াশ ব্যবহারে মুখে সমস্যা সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার হাত থেকে মুক্তি মেলে। অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল উপাদান হিসেবে নিম তেল ব্যবহার করা হয়ে থাকে বিভিন্ন টুথপেস্টে।

মুখে নিম পাতা দেওয়ার উপকারিতা। নিম পাতার রস দাঁতের যে কোনও ধরনের সমস্যা, মাড়ির সমস্যা, দাঁতের ক্ষয় রোধ করতে সাহায্যে করে। এছাড়া নিম গাছের ডাল দিয়ে যদি দাঁত মাজা যায় বা নিম গাছের ছাল চিবানো যায়, তাহলে দাঁত মজবুত থাকে। দাঁতের ব্যথা দূর করতে, দাঁত পরিষ্কার করার জন্য নিমের ডাল ব্যবহার করা হয়। নিম পাতায় থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান মাঁড়ি ও দাঁতের টিস্যুগুলোর মধ্যে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে যা মুখের ক্যানসার প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা নিতে পারে।

কাটা বা পুড়ে যাওয়ায় নিমপাতা-

শরীরে কোনও জায়গা কেটে গেলে, পুড়ে গেলে বা পোকার কামড় খেলে ক্ষতস্থানে নিম পাতার রস বা নিমপাতা বাটা লাগালে উপকার পাওয়া যায়। ইনফেকশন হয় না। ক্ষত দ্রুত শুকিয়ে যায়। নিম পাতা জলে ফুটিয়ে নিয়ে সেই জল তুলো দিয়ে ভিজিয়ে ক্ষতস্থানে লাগানো যেতে পারে। এছাড়া নিম পাউডার জলের সঙ্গে মিশিয়ে তাও লাগানো যাতে পারে। নিম তেলও ব্যবহার করতে পারেন।

চুল পড়া বন্ধ করে নিমপাতা-

চুলে নিম পাতার উপকারিতা। ত্বকের পাশাপাশি চুলের পরিচর্যাতেও দারুণভাবে কাজ দেয় নিম পাতা। নিম পাতার সঠিক ব্যবহারে চুলের যাবতীয় সমস্যার সমাধান হতে পারে। সুস্থ চুল চাইলে নিমপাতার উপযুক্ত ব্যবহার জানা জরুরি। নিম পাতার মধ্যে থাকা অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল এবং ইমিউন বুস্টিং বৈশিষ্ট্যগুলি চুলকে সুস্থ রাখে ও চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। নিম পাতা চুল পড়া রোধ করে। নিম তেল দিয়ে মাথার ত্বকে ম্যাসাজ করলে মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায় ফলে চুলের বৃদ্ধির হার বাড়ে। নিম তেলের সঙ্গে নারকেল তেল মিশিয়ে চুলে লাগানো যেতে পারে। এছাড়া, নিম পাতার পেস্ট মাথায় লাগাতে পারেন যা চুলকে জীবাণুমুক্ত রাখে ও সবল করে তোলে। মাথার শুষ্ক ও রুক্ষ্ম চুলে নিম আর্দ্রতা প্রদান করে থাকে। যাঁদের চুলের অকালপক্কতা বা টাক পড়ে যাচ্ছে, নিম পাতা তাঁদের ক্ষেত্রে খুব কাজে আসতে পারে। কারণ, নিম পাতা চুলকে শক্তিশালী করে তোলে। নিমপাতা চুল পড়া বন্ধ হওয়া এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করায় টাক পড়া আটকানো যায়।

মাথার খুসকি দূর করে নিমপাতা-

খুশকির সমস্যাও দূর করে নিমপাতা। প্রথমে নিমপাতা জলে সেদ্ধ করুন। জলের রং সবুজ হলে নামিয়ে ঠান্ডা করে নিন। শ্যাম্পু করার পরে ওই জল দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। এছাড়া নিম গুঁড়োর সঙ্গে শিকাকাই গুঁড়ো, লেবুর রস ও পরিমাণ মতো জল দিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে শ্যাম্পু করার আধঘন্টা আগে চুলে লাগাতে হবে। এর ফলে চুলের আর্দ্রতা বজায় থাকবে।

এক বাটি জলে ১০-১২ টি নিম পাতা নিয়ে ভালো করে সিদ্ধ করে নিন। এবার জল ঠাণ্ডা করে শ্যাম্পু করার সময় এই জল দিয়ে ভাল করে চুলে মাসাজ করে নিন। সপ্তাহে দু’দিন এটি করুন। দেখবেন খুশকি দূর হয়ে যাবে। এছাড়াও, নিমপাতা ভাল করে বেটে নিয়ে চুলের গোড়ায় ভালো করে লাগিয়ে এক ঘণ্টা রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন। চুল পড়া কমবে, পাশাপাশি খুশকির সমস্যাও দূর হবে। আবার, মধু এবং নিম পাতার রস একসঙ্গে মিশিয়ে সপ্তাহে তিন দিন আগাগোড়া চুলে লাগালে দেখবেন চুল চকচক করবে। এছাড়াও, আমলকির রস, নিম পাতার রস, লেবুর রস এবং টকদই দিয়ে মিশ্রন বানিয়ে সপ্তাহে দু’দিন তা চুলে লাগিয়ে শ্যাম্পু করে নিন। এটি চুলে কন্ডিশনারের কাজ করবে।

উকুন নিয়ন্ত্রণে নিমের ব্যবহার-

অনেকেরই মাথায় মূর্তিমান সমস্যা হয়ে দেখা দেয় উকুনের উৎপাত। দিন রাত দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। রাতে ঘুম উধাও হয়ে যায় চোখ থেকে। নিমপাতার ব্যবহারের ফলে চুলে উকুনের সমস্যা দূর হয়। নিমের মধ্যে থাকা তেতো ভাব এবং অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য উকুন তাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

নিম পাতার পেস্ট তৈরি করে মাথার তালুতে ভাল করে মাখিয়ে নিন। এবার শাওয়ার ক্যাপ দিয়ে দু-তিন ঘণ্টা ঢেকে রাখুন। তারপর ভাল করে শ্যাম্পু করে ফেলুন। শ্যাম্পু করার পর সরু চিরুনি দিয়ে মাথা আঁচড়ে নিন। সপ্তাহে দু-তিনবার করে টানা দু’মাস এভাবে চালিয়ে যান। দেখবেন চুল থেকে পুরোপুরি উধাও হয়ে গিয়েছে উকুন কূল। আবার, নারকেল তেলের সঙ্গে নিমপাতা ভালো করে সেদ্ধ করে নিন। যতক্ষণ না পাতার রং বিবর্ণ হচ্ছে ততক্ষণ নারকেল তেলে ভাল ভাবে ফুটিয়ে নিন। এরপর তেল ঠাণ্ডা করে মাথায় লাগিয়ে দু’ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। তারপর শ্যাম্পু করে ফেলুন। এবার সরু চিরুনি দিয়ে মাথা আঁচড়ে নিন। সপ্তাহে তিন দিন এভাবে একমাস করতে পারলেই দেখবেন, উকুন হাওয়া!

মশার উপদ্রব কমায় নিম-

মশা তাড়াতে নিমতেল খুবই কার্যকরী। মশার প্রকোপ বাড়লেই বাড়িতে নিম তেল ছড়িয়ে দেন। মশা পালাবে। মশার জন্য ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু লেগেই থাকে। মশার মাধ্যমে এই রোগের জীবাণু শরীরে প্রবেশ করে। শরীর দুর্বল হয়ে যায়। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে থাকে। বলা হয়ে থাকে, নিম পাতার নির্যাসে থাকা এক ধরণের বিশেষ উপাদান শরীরে ম্যালেরিয়ার জীবাণুর বাহককে ধ্বংস করতে সাহায্য করে। তাই মশা তাড়ানোর পাশাপাশি শরীরে ম্যালেরিয়ার নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা নেয় নিম পাতা।

শরীরে নিমপাতার অন্যান্য প্রভাব-

Incredible benefits of neem leaves. গায়ের দুর্গন্ধ এবং ঘামের দুর্গন্ধ দূর করতে নিমপাতার রস খুব কার্যকরী। চোখ জ্বালা করলে বা চোখ লাল হয়ে গেলে নিমপাতা জলে সেদ্ধ করুন। জল ঠান্ডা হলে, তা দিয়ে চোখ ধুয়ে নিন। দেখুন চোখ ঠিক হয়ে যাবে। লিভার ভাল রাখতে কার্যকরী ভূমিকা নিয়ে থাকে নিম। ফলে জন্ডিস সহ লিভারের যে কোনও সমস্যাতে উপকার পাওয়া যায়।

বলা হয়ে থাকে, অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে নিমের ভূমিকা রয়েছে। নিম গাছের ফল এবং বীজ থেকে পাওয়া নিম তেল হাঁপানির চিকিৎসায় সহায়তা করে। প্রতিদিন কয়েক ফোঁটা নিম তেল খেলে অ্যাজমা বা হাঁপানির সমস্যা থেকে দূরে থাকা যায়। ক্যান্সার নিরাময়েও নিমের ভূমিকা রয়েছে বলে বলা হয়ে থাকে। নিম পাতায় থাকা বিশেষ উপাদান আমাদের রক্তে ক্যান্সার এবং টিউমারেরর কোষকে ধ্বংস করতে সাহায্য করে। নিম শরীরের ইমিউনিটি সিস্টেম উন্নত করে। কোষ বিভাজন এবং প্রদাহ জনিত সমস্যাগুলিতে বাধা দিয়ে ক্যান্সার চিকিৎসায় নিম পাতা সাহায্য করে থাকে। নিমপাতায় থাকে অন্য একটি বিশেষ রোগ প্রতিরোধক উপাদান শরীরে ক্যান্সারের জীবাণু ধ্বংস করতে এবং তার চিকিৎসা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

নিম পাতার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। নিম পাতার ক্ষতিকর দিক

নিমের কত উপকার। এতক্ষণ ধরে আমরা সে’কথাই আলোচনা করে এসেছি। এবার দেখা যাক, নিমের খারাপ গুণ কি কি আছে!

দিনে দুটির বেশি নিমপাতা একবারে খাওয়া উচিত না। বেশি পরিমাণে নিম পাতা খেলে উপকারের বদলে অপকার হবে। এছাড়া আপনার শরীরে আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী টানা কত দিন নিম পাতা খাওয়া যেতে পারে তা বিশেষজ্ঞের কাছে জেনে নেবেন। টানা নিমপাতা খেলে শরীরের ক্ষতি হতে পারে।

খালি পেটে নিম পাতার রস খেলে কি হয় দেখা যাক। গবেষকরা বলেন, খালি পেটে নিম পাতা বেশি দিন খাবেন না। এতেও উপকারের বদলে অপকার হবে। এছাড়া, নিমপাতা নেওয়ার পরে যদি বমি ভাব, ডায়েরিয়া বা মাথাব্যথার মতো সমস্যা হয়,  সেক্ষেত্রে সঙ্গে সঙ্গে নিম পাতার ব্যবহার বন্ধ করে দিতে হবে।

বাচ্চারা নিম তেল খেলে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসেবে বমি ভাব, দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। সময়ে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে বাচ্চার মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে নিম পাতা অপকারী। তাই প্রসূতি মহিলাদের নিমপাতা থেকে দূরে রাখা উচিত। নিম অনেক সময় বন্ধ্যাত্বের কারণ হতে পারে। তাই যাঁরা সন্তান ধারণের পরিকল্পনা করছেন, তাঁরা নিম থেকে দূরে থাকুন।

যাঁরা নিম্ন রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছেন তাঁরা নিমপাতা ব্যবহার করবেন না। কারণ, নিমপাতা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। এর ফলে রক্তচাপ আরও কমে যেতে পারে। তাই যাঁদের নিম্ন রক্তচাপ রয়েছে তাঁরা নিমের ব্যবহার থেকে দূরে থাকুন।

যদি আপনার অটো ইমিউন থেকে থাকে তাহলে নিম পাতা ব্যবহার করবেন না। কারণ, নিম পাতা শরীরের রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থা আরও সক্রিয় করে তোলে। ফলে অটো ইমিউন রোগে আক্রান্তদের সমস্যার পড়তে হতে পারে।

তাহলে জেনে নিলেন, নিম পাতা কিভাবে আমাদের শরীর সুস্থ রাখতে কার্যকরী ভূমিকা নিয়ে থাকে। আর দেরি করবেন না। বাজারের কেমিক্যাল যুক্ত নানান প্রসাধনী সামগ্রী ব্যবহারের বদলে বরং প্রাকৃতিক উপায়ের উপরে ভরসা রাখুন কিছুদিন। তফাৎটা না হয় নিজেই দেখে নিন! Incredible benefits of neem leaves.

আরও পড়ুন- কিভাবে সহজে টবে কাঠগোলাপ বড় করে তুলবেন

aamarvlog

শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, রান্না সহ আরও নানা কিছু। আমার ব্লগ- হাবি জাবি নয়। যোগাযোগ- ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ- 9434312482 ই-মেইল- [email protected]

One thought on “Incredible benefits of neem leaves. স্বাস্থ্য থেকে সৌন্দর্য, সবেতেই উপকারী নিমপাতা

  • March 16, 2021 at 11:23 AM
    Permalink

    যেভাবে বাড়িতেই তৈরি করবেন এলোভেরা জেল

    ত্বক ও চুলের যত্নে অ্যালোভেরা জেল এর কোন তুলনা নেই। ত্বক ও চুল ভালো রাখতে খুব উপকার করে। বিশেষ করে ত্বকে ব্রণ, ব্রণের দাগ, বয়সের ছাপ সব ক্ষেত্রেই অ্যালোভেরা জেল ভালো কাজ করে। তবে বাজারে যে সকল পাওয়া যায় সেগুলোর দাম যেমন বেশি তেমন এতে থাকে অনেক ধরনের রাসায়নিক উপকরণ। তবে ঘরে তৈরি করে নিলে আপনি কম খরচে তৈরি করতে পারবেন, তাই আসুন জেনে নেই কিভাবে ঘরে তৈরি করবেন অ্যালোভেরা জেল।

    Reply

Feedback is highly appreciated...

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: