‘জন গণ মন’ কেন বার বার বিতর্কের কেন্দ্রে?

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটিও সাবস্ক্রাইব করে রাখুন বিভিন্ন আপডেট পাওয়ার জন্য।

দুর্গাপুরঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা দেশের জাতীয় সঙ্গীতে বদল নিয়ে ফের বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই প্রথম নয়, মাঝে মাঝেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে জায়গা করে নেয় এই প্রসঙ্গটি। কেন বিতর্ক, বিতর্কের আদৌ সারবত্তা আছে কিনা, আসুন একটু খোঁজ-খবর করা যাক।

জাতীয় সঙ্গীতে বদল চেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে সাড়া পেয়ে খুব খুশি বিজেপির সাংসদ সুব্রহ্মণ্যম স্বামী। বলা বাহুল্য, বিতর্ক শুরু হতে দেরি হয়নি বিন্দুমাত্র। খবরে প্রকাশ, সুব্রহ্মণ্যম স্বামীর আপত্তির অন্যতম শব্দটি হল জাতীয় সঙ্গীতে ‘সিন্ধু’ শব্দটির ব্যবহার।

সিন্ধু শব্দটি নিয়ে আপত্তি কিন্তু এই প্রথম নয়। ‘সিন্ধু’ শব্দ বদলে  ‘কাশ্মীর’ শব্দটি জোড়ার দাবি ওঠে ২০০৫ সালে। যুক্তি ছিল, ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর সিন্ধু প্রদেশ চলে গিয়েছে পাকিস্তানে। বিরোধীরা পাল্টা যুক্তি দেন, ‘সিন্ধু’ শব্দটি শুধু সিন্ধু প্রদেশ নয়, সিন্ধু নদ ও ভারতীয় সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ সিন্ধি ভাষা ও সংস্কৃতির পরিচায়ক। সুপ্রিম কোর্ট এই যুক্তি মেনে নিয়ে জাতীয় সঙ্গীতের কোনও রকম বদলের বিপক্ষে মত দেয়।

রবীন্দ্রনাথের লেখা জাতীয় সঙ্গীতের শব্দ বদলে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর আজাদ হিন্দ ফৌজের (আইএনএ)-র গাওয়া ‘জন গণ মন’র আদলে লেখা অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় সঙ্গীতকে দেশের জাতীয় সঙ্গীত করার পক্ষে সওয়াল করেছেন সুব্রহ্মণ্যম স্বামী। আজাদ হিন্দ ফৌজের জাতীয় সঙ্গীতেও কিন্তু ‘সিন্ধু’ শব্দটি রয়েছে!

আসলে, স্বাধীন দেশে জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে রবীন্দ্রনাথের ‘জন-গণ-মন’ এর যাত্রাপথ শুরু থেকেই তেমন সুগম ছিল না। Our National Songs, Publication Division, Ministry of Information and Broadcasting, Government of India সহ বিভিন্ন বইপত্র থেকে জানা যায়, ১৯৪৭ সালের ১৫ অগস্ট স্বাধীনতার পরে আর ‘গড সেভ দ্য কিং’ সেনাবাহিনীতে বাজানো যেত না। সংবিধান সভার মাধ্যমে জাতীয় সঙ্গীত নির্দিষ্ট করা দরকার। অথচ অর্কেস্ট্রা ও ব্যান্ডে বাজানোর উপযোগী জাতীয় সঙ্গীতের কোনও সুর হাতের কাছে ছিল না।

দেশে আজাদ হিন্দ ফৌজ সরকারের সামান্য রদবদল করা জন গণ মন-এর সুর বেশ জনপ্রিয় ছিল। ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘের সাধারণ সভায় ভারতের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে জাতীয় সঙ্গীত চাওয়া হয় বাজানোর জন্য। তাঁরা তখন জন গণ মন রেকর্ড করে অর্কেস্ট্রার অনুশীলনের জন্য দিয়ে দেন। যখন তা সম্মেলনে বাজানো হয়, বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা তার ভূয়ষী প্রশংসা করেন। জন গণ মন-এর সেই অর্কেস্ট্রার রেকর্ড ভারতে আনা হয়। সেনা বাহিনীতে এই সুরটিই বাজতে শুরু করে। বৈদেশিক দূতাবাসেও এই সুর বাজতে শুরু করে। জনপ্রিয় হতে থাকে জন গণ মন।

সেই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহেরু সব রাজ্যের গভর্নরদের চিঠি দিয়ে জন গণ মন বা অন্য কোনও গান জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে নির্বাচনের ব্যাপারে তাঁদের মতামত জানতে চান। একটি রাজ্য বাদে সবাই জন গণ মন-এর পক্ষে মত দেন। ক্যাবিনেটে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যতদিন না সংবিধান সভা কোনও সিদ্ধান্তে উপনীত হচ্ছে, ততদিন সাময়িকভাবে জন গণ মন ব্যবহৃত হবে।

শেষ পর্যন্ত ১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি সংবিধান সভা এই গানটিকে জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে গ্রহণ করে। সভাপতি ডক্টর রাজেন্দ্র প্রসাদ বলেন, “জন গণ মন গানটি কথা ও সুর সহযোগে ভারতের জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে সরকারিভাবে গীত হবে। কোনও নির্দিষ্ট কারণ উপস্থিত হলে সরকার এই গানের কথায় যে কোনও রকম পরিবর্তন আনতে পারবে…।”

রাজেন্দ্র প্রসাদের বক্তব্যের দ্বিতীয় বাক্যটিকেই হাতিয়ার করে এগোতে চাইছেন সুব্রহ্মণ্যম স্বামী! কেন্দ্রের মোদি সরকার তাঁর মতে মত দেয় কি না, সারা দেশ তাঁর মত মেনে নেবে কি না, সেটাই এখন দেখার!

(খবর ভালো লাগলে শেয়ার করবেন)

https://durgapur24x7.com/gandhi-and-tagore-are-true-friends-and-intellectual-rivals/

aamarvlog

শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, রান্না সহ আরও নানা কিছু। আমার ব্লগ- হাবি জাবি নয়। যোগাযোগ- ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ- 9434312482 ই-মেইল- [email protected]

Feedback is highly appreciated...

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: