করোনায় মৃতের সৎকারে দিতে হবে ১৫ হাজার! তদন্তে দুর্গাপুর মহকুমা প্রশাসন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটিও সাবস্ক্রাইব করে রাখুন বিভিন্ন আপডেট পাওয়ার জন্য।
দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর, ১২ মে ২০২১: সকাল থেকে দুর্গাপুর সরগরম! সব খবরের চ্যানেল, নিউজ পোর্টালে বীরভানুপর শ্মশানে করোনায় মৃতের দেহ সৎকারে কিভাবে পরিবারের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে, নানা বাক-বিতন্ডা, পুলিশের হস্তক্ষেপ তারপর শেষ পর্যন্ত ৪ হাজার টাকায় রফা, এই খবর দেখানো হয়েছে সব জায়গায়। এই ঘটনা নিয়ে এক পরিবারের দায়ের করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রশাসন উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেছে। দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারপরেও সংশয় কাটেনি। সত্যিই কি এই ঘৃণ্য প্রবণতা বন্ধ হবে বীরভানপুর শ্মশানে?

মঙ্গলবার সকালে দাদা অদীপ মিত্রের (৪৪) মৃত্যু হয়েছে করোনায়। রাতে সেই দেহ নিয়ে শ্মশানে গিয়েছিলেন ভাই রঞ্জন ও তাঁর সঙ্গীরা। সেখানে শববাহী গাড়ি থেকে শ্মশানের চুল্লি পর্যন্ত দেহ পৌঁছে দেওয়ার জন্য কয়েকজন এসে ১৫ হাজার টাকা দাবি করে। তারা নিজেদের শ্মশানের ডোম বলে পরিচয় দেয়। মৃতের পরিবারের লোকজন পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে তাদের এসব বন্ধ করতে বলে। এরপর পুলিশ চলে যায়। তারপরে শেষ পর্যন্ত ৪ হাজার টাকায় রফা করতে হয় তাঁদের। তবেই দেহ দাহ করা যায়। রাত ৩ টার সময় এই ঘটনা যখন ঘটছে তখন লাইনে আরও ৫ টি দেহ। অথচ রফা করার জন্য চুল্লি বন্ধ থাকে ঘন্টাখানেকেরও বেশি সময়।

এত দাপট কি করে হয় শ্মশানের ডোমেদের? তারা কি সত্যিই শ্মশানের ডোম না কি ডোম সেজে আসা অন্য কেউ? প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে এই কঠিন পরিস্থিতিতে করোনায় মৃতদের দেহ দাহ করতে আসা পরিবারগুলিকে মানসিক চাপ দিয়ে মোটা টাকা আদায়ের একটি চক্র কাজ করে চলেছে। সেই টাকা কার কার কাছে যাচ্ছে, সরকারি দফতরের কেউ জড়িত না থাকলে এত সাহস কি করে হয়, এসব প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সবার মনে।

শুধু তাই নয়। রাতে ঝামেলার সময় ডোম পরিচয় দেওয়া ওরা, একজনকে ফোন করে। তাদের দাবি, তিনি একজন ডব্লিউবিসিএস অফিসার, তিনি একজন ম্যাজিস্ট্রেট। তিনি তাঁদের সঙ্গে আছেন। এমনকি সেই সময় শ্মশানে হাজির থাকা পুলিশও বুঝতে না পেরে তাকে ফোন করে ‘স্যার’ বলেই সম্বোধন করে। সকালে জানা যায়, সে আসলে শ্মশানের অস্থায়ী কর্মীদের দেখভালের দায়িত্বে থাকা একজন সাধারণ সুপারভাইজার ছাড়া আর কেউ নয়! ডোমেরা তাকেই ডব্লিউবিসিএস অফিসার সাজিয়ে ফোন করছিল। তাহলে সর্ষের মধ্যে ভূত না থাকলে তার এত সাহস হতে পারে?

মঙ্গলবার মাঝ রাতে ওই ঘটনা যাঁদের সঙ্গে তাঁদের আত্মীয় হিসাবে শ্মশানে হাজির ছিলেন দু’জন সাংবাদিক। তাঁদের পরিচয়ও কোনও কাজে আসেনি। সাংবাদিক শুনেও পিছু হঠেনি তারা। তবে বুধবার মহকুমাপ্রশাসন লিখিত অভিযোগ পেয়েই জানিয়ে দেয়, দোষীদের ছাড়া হবে না। এই অতিমারি পরিস্থিতিতে মানুষের চরম পরিণতির সময় যারা এভাবে পকেট ভরছে তাদের রেয়াত করা হবে না। সন্ধ্যায় অতিরিক্ত জেলা শাসক, মহকুমা শাসক, পুলিশ, পুরসভার প্রতিনিধিদের নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়, এমন ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য প্রশাসনের তরফে সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু শুধু সামনে থাকা দু’একজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে কি আদৌ এই ঘৃণ্য রেওয়াজ বন্ধ করা যাবে? পিছনে যারা রয়েছে তাদের মুখোশও খুলে দিতে হবে। এই দাবিতেই দুর্গাপুর প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকেও একটি আলাদা অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের কাছে।

https://durgapur24x7.com/raid-in-a-factory-conducted-by-district-administration-in-durgapur/

aamarvlog

শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, রান্না সহ আরও নানা কিছু। আমার ব্লগ- হাবি জাবি নয়। যোগাযোগ- ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ- 9434312482 ই-মেইল- [email protected]

Feedback is highly appreciated...

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: