pix of girl students

(এখানে ক্লিক করে আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটিও সাবস্ক্রাইব করুন নিয়মিত আপডেট পেতে)

সোশ্যাল মিডিয়া। আধুনিক যুগে এই মিডিয়া বিপ্লব এনেছে। সংবাদ মাধ্যমেরও এই মিডিয়ার অংশ হয়ে উঠেছে। সমাজের সর্বস্তরের মানুষ করোনাকালে এই সোশ্যাল মিডিয়ার সঙ্গে ভীষণভাবে একাত্ম হয়ে উঠেছে। ২০১৯ সালের আগেও হাতে থাকা মোবাইলের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছিল। কিন্তু করোনাকালে দীর্ঘ সময়ের অবসরে এই মিডিয়া জীবনের অন্দরমহল পর্যন্ত তার শিকড় ছড়িয়েছে।

ফলে প্রতিভা বিকাশের অন্যতম মাধ্যমে হয়ে উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়া। বাড়ির কফি তৈরী থেকে রাস্তার ধারে ফুচকাওয়ালার ফুচকা স্থান পেয়েছে হাতে থাকা মোবাইলটিতে। তা ভালো কথা। সংবাদ মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়া রেঁনেসা। বহুজন নিজের লাইক পেজ খুলে ফেলেছে। আরও আরও মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়ার জন্য নেটওয়ার্কের টিমকে রীতিমতো মাসমাইনে দিয়ে বহাল করেছে। কারণ যত বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়া যাবে, তত রোজগার করা যাবে।

বহু ভালোর হাত ধরে খারাপও এসেছে। কিন্তু – ইদানিং  ‘মম চিত্তে নিতি নৃত্যে’ দিয়ে যে ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল- তা যেন ‘ভালোবেসে, সখী, নিভৃতে যতনে’- তেও থামতেই চাইছে না। এদিকে রাজ্যের শিক্ষা প্রশ্নের মুখে। প্রায় ১৮ মাস শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ। পড়াশুনার সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি ছেলেমেয়ে বিপদে। সমীক্ষা বলছে- প্রাথমিকের পড়ুয়ারা অক্ষর ভুলতে বসেছে। আপার প্রাইমারির বহুজন বিভিন্ন কাজ করছে। মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক স্তরে বহু মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। ছেলেরা নানান কাজে যোগ দিয়েছে। এই বিষয়গুলো নিয়ে জোকস নজরে আসে। কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ চোখে আসে না। বেসরকারি স্কুলে অনলাইন ক্লাস হচ্ছে। বহু অভিভাবক নিশ্চিত, আমারটা তো শিখছে। প্রশ্ন, কি শিখছে?

১) মিথ্যে কথা বলতে শিখছে- কারণ প্রত্যেকটি বাচ্চা অনলাইন ক্লাসে চ্যাট করছে নতুবা গেম খেলছে নতুবা অন্য কিছু করছে। বাবা- মা জানতে চাইলে মিথ্যে বলছে – পড়ছি।
২) ধৈর্য্য হারাচ্ছে- কম্পিউটার মোবাইল টিভির সঙ্গে বেশির ভাগ সময় কাটিয়ে, খিটখিটে হয়ে উঠছে। দোষ করছে, শাসন করলে উল্টে রাগ, চেঁচামেচি করছে।
৩) সহবত শিখছে কই? নিয়মিত স্কুলে নানান ঘটনার মধ্যেই দিয়ে পড়াশুনার পাশাপাশি জীবনে চলার নানান শিক্ষা সংগ্রহ করে। সেই শিক্ষা থেকে রাজ্যের প্রত্যেকটি পড়ুয়া বঞ্চিত। বাইরে বহুদেশ সহ আমাদের দেশের বহু রাজ্যে স্কুল খুলেছে। কিন্তু আমাদের রাজ্যে পুজোর পর স্কুল খুলবে বলে জানা যাচ্ছে।

বাচ্চাদের নাচ, গান, আবৃত্তি, অনুষ্ঠান, বেড়াতে যাওয়া সহ নানান উপলক্ষে বাড়ি থেকে বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হলেও স্কুলে যেতে দেওয়া হবে না কেন? আমার মনে হয় ‘পৃথিবী বদলে গেছে’ এই ভিডিও শেয়ার না করলেও জীবন চলবে। হাসি মজা একটু কম করলে, বোধহয় কোনও ক্ষতি হবে না। কিন্তু পড়ুয়ারা স্কুল, কলেজে, বিশ্ববিদ্যালয়ে না গেলে সমাজ এক ধাক্কায় কয়েক বছর পিছিয়ে যাবে। কেউ কিছুই শিখছে না। সরকারি কি বেসরকারি ! সবটাই ফানুস। প্রত্যেক নাগরিকদের কাছে অনুরোধ। স্কুল খোলার অনুরোধের ঝড় তুলুন নিজের ফেসবুকের দেওয়ালে। কারণ, নগর পুড়লে দেবালয় বাঁচে না!

By aamarvlog

শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, রান্না সহ আরও নানা কিছু। আমার ব্লগ- হাবি জাবি নয়। যোগাযোগ- ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ- 9434312482 ই-মেইল- [email protected]

Feedback is highly appreciated...

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: