যাঁদের দু’বেলা দু’মুঠো আহার জোটাতেই দিন কেটে যায় এ’লেখা তাঁদের জন্য নয়। আমার-আপনার আশপাশে তেমন মানুষের সংখ্যা তো অগুণতি। এ’লেখা তাঁদের জন্য, যাঁরা কি খাবেন আর কি খাবেন না তা ঠিক করতেই দিন কাটিয়ে দেন। আমি, আপনি তাঁদের দূর থেকেই দেখি। কারণ, তাঁরা আমাদের মতো আম-আদমি নন। কিন্তু তাঁদের অনেকেই সঠিক ডায়েট ঠিক করতে না পেরে নানা শারীরিক সমস্যায় ভোগেন। এমনকি মৃত্যুও ডেকে আনে অনেক সময়।

খবরে প্রকাশ, সম্প্রতি আমেরিকার ফ্লোরিডায় অপুষ্টিতে দেড় বছরের শিশু সন্তানের মৃত্যুর জন্য পুলিশ বাবা ও মাকে গ্রেফতার করেছে। তারা বাচ্চাটিকে ফল ও সবজি ছাড়া আর কিছু খেতে দিতেন না। কারণ পরিবারটি ভেগান ডায়েট মেনে চলে। এই ডায়েটে কোনও প্রাণিজ খাবার খাওয়া যায় না। ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গিয়েছে এই খবর। অনেকেই বিশ্বাস করতে পারছেন না, চোখের সামনে এভাবে তিল তিল করে কিভাবে সন্তানের মৃত্যু তাঁরা দেখেছেন। কেন তাঁরা কোনও ডাক্তারের শরণাপন্ন হননি! নিজেদের খাদ্যাভ্যাস তাঁরা কি এভাবে জোর করে একরত্তি সন্তানের উপর চাপিয়ে দিতে পারেন? বিতর্ক চলছে। এবং, শুরু হয়েছে, ভেগান ডায়েটের অপকারিতা নিয়ে আলোচনা।

পুলিশকে ওই দম্পতি জানিয়েছে, মারা যাওয়ার আগে এক সপ্তাহ ধরে বাচ্চাটি কিছু খায়নি। শুধু বুকের দুধ খেয়েছে। প্রতিদিনের মতো সেদিনও ভোরে শিশুকে বুকের দুধ খাইয়ে শুইয়ে দেন। দুপুরে ঘুম ভাঙাতে গিয়ে দেখেন, বাচ্চার শরীর ঠান্ডা হয়ে গিয়েছে। ময়না-তদন্তের রিপোর্টে জানা গিয়েছে, বহু দিন ধরে অপুষ্টির শিকার শিশুটি। শরীরে জল ছিল না। ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় অর্ধেক হয়ে গিয়েছিল। দম্পতির আরও দুই সন্তানের শরীরও ভালো নয় বলে পুলিশ জেনেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কোনও রকম ডায়েটারি সাপ্লিমেন্ট ছাড়া শুধু ভেগান ডায়েটের উপরে নির্ভরশীলতাই এই বিপদ ডেকে এনেছে। শরীরে খনিজ পদার্থের পরিমাণ কমে গিয়েছে। কমে গিয়েছে ইমিউনিটি ক্ষমতা।

চলুন দেখা যাক, ভেগান ডায়েট কি?

খাদ্যতালিকায় মাছ, মাংস, ডিম, দুগ্ধজাত দ্রব্য— প্রাণিজ কিছুই থাকে না। এমনকি মধুও বাদ। ভরসা শুধু ফলমূল ও শাক সবজি। সারা বিশ্বে পশুহত্যার বিরোধী অনেকেই এই ডায়েট মেনে চলেন। দেশে বিদেশের বহু সেলিব্রিটি নাকি ভেগান ডায়েট মেনে চলেন। আবার অনেকে শরীর থেকে টক্সিন বার করে দেওয়ার জন্য কিংবা রোগা হওয়ার উপায় হিসেবে কিছুদিনের জন্য ভেগান ডায়েট মেনে চলেন। কারণ, কোনও রকম মাংস, মাছ, ডিম এবং দুগ্ধজাত জিনিস শরীরে না ঢোকায় এগুলো থেকে যে ফ্যাট আসে তা শরীরে ঢুকতে পারে না। তাই বহু রোগব্যাধি শরীর থেকে দূরে থাকে। আবার অনেকে শুধু যে এই ডায়েট মেনে চলেন তাই নয়, প্রাণীজাত কোনও কিছুই তাঁরা ব্যবহার করেন না। চামড়ার ব্যাগ, পশুর লোম থেকে তৈরি পোশাক, এসবও তাঁরা বাদ দেন।

ভেগান ডায়েট নিয়ে বিতর্ক

তবে ডায়াটেশিয়ানদের মতে, এই ডায়েটে কিছু সমস্যাও রয়েছে। ফলমূল বা শাক সবজি থেকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় উপাদান শরীর পায় না। তাই প্রয়োজনীয় সাপ্লিমেন্ট নেওয়া জরুরী। কিন্তু অনেকেই তা নেন না। ফলে নানা ধরণের শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ডায়েটের অন্যতম অপকারিতা হল ঠিকমতো প্রোটিন শরীরে প্রবেশ না করা, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড বা ভিটামিন বি ১২ এর মতো প্রাণিজ ফ্যাটের অভাব। তাই বাড়ন্ত বাচ্চারা কতটা ভেগান ডায়েটের উপযোগী তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। আবার ভেগান ডায়েটে খাদ্যগুণের অভাব পূরণের জন্য যে সাপ্লিমেন্টগুলি জরুরী, সাধারণ মানুষের পক্ষে এই সব সাপ্লিমেন্টের খরচ জোগানোও মুশকিল। তাই তো শুরুতেই বলেছিলাম, এ’লেখা আম-আদমির জন্য নয়!

By aamarvlog

শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, রান্না সহ আরও নানা কিছু। আমার ব্লগ- হাবি জাবি নয়। যোগাযোগ- ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ- 9434312482 ই-মেইল- [email protected]

Feedback is highly appreciated...

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: