তবু মেসির থেকে মারাদোনাই এগিয়ে রইলেন

সূর্যশেখর দাস।

আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির নামটা বর্তমানে বিশ্ব ফুটবলে এক অপার মুগ্ধতার জন্ম দেয়। ফুটবল যে জোগো বোনিটো বা বিউটিফুল গেম, তার অকাট্য প্রমাণ মেসির ফুটবল শৈলী। তাই মেসি বা এমএল টেন যখন ষষ্ঠবারের জন্য ব্যালন ডি অর খেতাব জিতেছিলেন তখন সমগ্র ফুটবল-বিশ্ব জুড়ে আনন্দের স্রোত বয়ে গিয়েছিল। প্রাক্তন ইংরেজ ফুটবলার গ্যারি লিনেকার থেকে ব্রাজিলের রোনাল্ডো-প্রায় সবার কাছেই মেসি ভেরি স্পেশাল।

মেসিকে নিয়ে আলোচনা করলেই যাঁর নামটা অবধারিতভাবে উঠে আসে তিনি হলেন দিয়েগো মারাদোনা। মারাদোনা মাত্র কয়েকদিন আগেই, ৩০ অক্টোবরে জীবনের ৬০টি বসন্ত পূর্ণ করলেন। উনি জন্মদিন পালন করার ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন! ওঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে। তাই মারাদোনা আবার খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন। যিনি কার্যত একক দক্ষতায় ১৯৮৬-র মেক্সিকো বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন। আর্জেন্টিনার সিনিয়র দলের হয়ে মেসি এখনও পর্যন্ত কোনও বড় খেতাব জেতেননি! এদিকে করোনার কারণে খেলাধুলার জগৎ রীতিমতো বেসামাল।

কোপা আমেরিকা এক বছর পিছিয়ে গেল। ২০২২ সালে কাতারে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে মেসি কি খেলবেন? তখন মেসির বয়স ৩৫ হবে। ওই বয়সে ক্লাব ফুটবলের চূড়ান্ত ধকল সহ্য করে কাতার বিশ্বকাপে উনি কি নিজের সেরাটুকু দিতে পারবেন?

দিয়েগো মারাদোনা আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেসের একঘিঞ্জি বস্তিতে জন্মগ্রহণ করেন। এ এমনই এক বস্তি যেখানে কোনও মানুষের পক্ষে সুস্থভাবে বেঁচে থাকাটাই প্রায় অসম্ভব। এ এমন এক বস্তি যা সমাজবিরোধীদের আদর্শ চারণভূমি। জন্ম থেকেই মারাদোনাকে দারিদ্র দিনের পর দিন কিং কোবরার মতো ছোবল মেরে গিয়েছে। দিয়েগোর বাবা ছিলেন এক চূড়ান্ত মদ্যপ। দিয়েগোদের পরিবারে দারিদ্রের ঘন অন্ধকারে ছিল একটাই সূর্য-ছোট্ট মারাদোনার সহজাত অথচ অপূর্ব ফুটবল দক্ষতা। মাত্র ১৫ বছর বয়স থেকেই দিয়েগো ফুটবল খেলে তার পরিবারের সদস্যদের আর্থিক নিরাপত্তা দিতে শুরু করে।

মেসির জন্ম আর্জেন্টিনার রোজারিওতে। মেসির বাবা যখন উপলব্ধি করলেন যে ছেলে বিস্ময়কর ফুটবল প্রতিভা নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছে তখন তিনি সপরিবারে স্পেনে পৌঁছে গেলেন। বাবার দূরদর্শিতা এবং নিজের প্রতিভার বিস্ময়কর স্ফুরণের দৌলতে ১৩ বছরের ছোট্ট মেসি পৃথিবীর অন্যতম সেরা ফুটবল অ্যাকাডেমি বার্সেলোনার লা মাসিয়া-য় জায়গা করে নেয়। যে লা মাসিয়া থেকে মেসি ছাড়াও পুয়োল, ইনিয়েস্তা, ফাব্রেগ্যাস,  পিকে কিংবা জাভির মতো স্বনামধন্য ফুটবলাররা উঠে এসেছেন। আর ১৩ বছর বয়সে দিয়েগো কি করছিল? সে তো তখনও অভাবের অন্ধকূপ খুঁড়েই যাচ্ছিল!

মারাদোনা ১৯৮২-র বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বাতিস্তাকে লাথি মেরে লাল কার্ড দেখে বিশ্বকাপ থেকে চোখের জলে বিদায় নিতে বাধ্য হন। অবশ্য তার আগে ওই বিশ্বকাপেই বিপক্ষ খেলোয়াড়রা কার্যত ইচ্ছেমতো দিয়েগোকে ফাউল করেন! অথচ রেফারি সেক্ষেত্রে আশ্চর্য রকম ভাবে নীরব থাকেন! ইতালি মারাদোনাকে ২৩ বার ফাউল করেছিল-একটি ম্যাচের সাপেক্ষে এটা এখনও পর্যন্ত বিশ্বকাপে রেকর্ড!

১৯৮২-র ফকল্যান্ড যুদ্ধে ব্রিটিশ বাহিনীর কাছে আর্জেন্টিনার লজ্জাজনক পরাজয় মারাদোনাকে বিষণ্ণ করে তুলেছিল। অবশ্য আর্জেন্টিনীয়দের সবচেয়ে বেশি রক্তাক্ত করেছিলেন লাতিন আমেরিকার হিটলার নামে পরিচিত মারাত্মক স্বৈরাচারী শাসক স্বদেশীয় ভিদেলা। উনি বহু নিরীহ, নিরপরাধ আর্জেন্টিনীয়কে মেরে ফেলেছিলেন। ইলেকট্রিকের শক দেওয়া,  মেরে হাত-পা গুঁড়ো করে দেওয়া, ধর্ষণের পর খুন করে লাশ গায়েব করে দেওয়া-নরপিশাচ ভিদেলার এসব অত্যন্ত প্রিয় বিষয় ছিল। উনি টানা পাঁচটা বছর (১৯৭৬-১৯৮১) সমগ্র আর্জেন্টিনার সমাজকে কার্যত দুমড়ে-মুচড়ে দিয়েছিলেন।

ফকল্যান্ড যুদ্ধে আর্জেন্টিনার পরাজয়, বিরাশির বিশ্বকাপে নিজের ব্যর্থতার বোঝা মাথায় নিয়ে মারাদোনা ছিয়াশির বিশ্বকাপে খেলতে এসেছিলেন। নব্য হিটলার ভিদেলার অত্যাচারে পিষে যাওয়া স্বদেশবাসীর মর্মন্তুদ ছটফটানি মারাদোনার সংবেদনশীল দৃষ্টি নিশ্চয়ই এড়িয়ে যায়নি।

ওদিকে ছিয়াশির বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি, ইংল্যান্ড-প্রায় প্রত্যেকটি দলই মারাদোনার জন্য আদর্শ কসাইখানা খুলে রেখেছিল। মেক্সিকো বিশ্বকাপে মারাদোনা অজস্র বার ফাউলের শিকার হয়েছেন- সেটাও কিন্তু একটা রেকর্ড। মেক্সিকোতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে হাত দিয়ে (হ্যান্ড অফ গড) গোল করার জন্য যেমন মারাদোনার সমালোচনা প্রাপ্য,  তেমন এটাও মনে রাখা উচিত যে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে রক্তাক্ত ফুটবলারের নামও দিয়েগো মারাদোনা!

বর্তমান সময়ে রেফারিরা কিন্তু মেসির মতো বল প্লেয়ারদের অনেক নিরাপত্তা দেন, যেটা মারাদোনা পাননি। বিপক্ষের খেলোয়াড়রা দিয়েগোকে লাথি, ঘুষি মেরে ক্রমশ থেঁতলে দিয়েছেন; এরই মধ্যে উনি ফুটবল নিয়ে একটার পর একটা অবিশ্বাস্য শিল্পকর্ম সৃষ্টি করে আমাদের সামনে রেখে গিয়েছেন! ইতালি এবং বেলজিয়ামের ডিফেন্স ভেঙে মারাদোনার সেই অপূর্ব গোলগুলো কখনই ভোলা যাবে না। যেমন, ভোলা যাবে না নিজেদের অর্ধ থেকে বলটাকে ধরে ৬০ মিটার দৌড়ে হাফ ডজন ইংরেজ খেলোয়াড়কে কাটিয়ে সেই মহাজাগতিক গোলটার কথা-যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সেরা গোল। ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির বিরুদ্ধে দিয়েগো কার্যত কাঁটা-কম্পাসে মাপা পাস বাড়িয়ে বুরুচাগার গোলের রাস্তা খুলে দেন- যে গোল আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয় সুনিশ্চিত করে। উনি বিশ্বকাপের সেরা ফুটবলার নির্বাচিত হন।

ফুটবল দলগত খেলা হলেও ওঁর কার্যত একক দক্ষতার দৌলতে আর্জেন্টিনা দ্বিতীয়বারের জন্য বিশ্বকাপ জিতে নেয়। এভাবেই ফকল্যান্ডের যুদ্ধে পর্যুদস্ত আর্জেন্টিনা আবার নতুন করে বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেন পায়; নরখাদক ভিদেলার অত্যাচারে নিষ্পেষিত আর্জেন্টিনীয়রা আবার নব উচ্ছাসে জেগে ওঠে। ছিয়াশির বিশ্বকাপে মারাদোনার এই অনন্য সাফল্য ফুটবল ময়দানের গণ্ডি অতিক্রম করে তীব্র মানসিক যন্ত্রণায় ভুগতে থাকা সমগ্র একটি জাতিকে বেঁচে থাকার ভাষা যুগিয়েছিল।

মেসি বিশ্বকাপ জেতার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন ২০১৪ সালে। ২০১৪-তে আর্জেন্টিনা তুলনামূলকভাবে সহজ গ্রুপে পড়েছিল। ইরান, বসনিয়া অ্যান্ড হারজেগোভিনা এবং নাইজেরিয়া হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করলেও মেসির জাদুর কাছে তারা হার মানতে শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে সুইজারল্যান্ড মেসির মুহূর্তের ম্যাজিকে ম্লান হয়ে যায়। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামে বিরুদ্ধে এবং সেমি ফাইনালে ডাচদের সামনে মেসির টাচ অনেকটাই ফিকে হয়ে গিয়েছিল। সেমি ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার মাসচেরানো নিজের অবিশ্বাস্য খেলাটা না খেললে আর্জেন্টিনার ভরাডুবি নিশ্চিত ছিল।

আর্জেন্টিনার সমর্থকরা ভেবেছিলেন এমএল টেন গত দুটি বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে আর্জেন্টিনার হারের বদলা নিয়ে বিশ্বকাপটা বুয়েনোস আইরেসে নিয়ে আসবেন। কিন্তু মেসি ফাইনালের একশো কুড়ি মিনিটেও জার্মান ডিফেন্সকে ভাঙতে পারলেন না! মারাদোনা কিন্তু ছিয়াশির বিশ্বকাপে পশ্চিম জার্মানির ডিফেন্সকে ভেঙেছিলেন, ০-২ গোলে পিছিয়ে থাকা পশ্চিম জার্মানরা যখন দুর্দান্ত খেলে ম্যাচের ফল ২-২ করে ফেলেছে, তখনই মারাদোনার বিখ্যাত বাঁ পা আবার ঝলসে উঠেছিল। তাই বিশ্বকাপ বার্লিনের বদলে বুয়েনোস আইরেসে গিয়ে পৌঁছেছিল। ওদিকে চিরলড়াকু জার্মানরা ২০১৪ সালে মেসির বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নকে ধুলিস্যাৎ করে চতুর্থবারের জন্য বিশ্বকাপ জিতেছিল। ২০১৪-র বিশ্বকাপের সেরা ফুটবলার নির্বাচিত হয়েছিলেন মেসি অথচ তৎকালীন ফিফা প্রেসিডেন্ট সেপ ব্লাটার ওই বিশ্বকাপে এমএল টেনের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছিলেন! মূলত কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে মেসির ম্লান হয়ে যাওয়াটা খুব সম্ভবত তৎকালীন ফিফা প্রেসিডেন্টেরও নজর এড়িয়ে যায়নি!

বার্সেলোনা ফুটবল ক্লাব যেমন মেসির সব অর্থেই মৃগয়াভূমি, মারাদোনা তেমনই দক্ষিণ ইতালির নেপলসের নাপোলি ক্লাবে নিজের চারণভূমিকে খুঁজে নিয়েছিলেন। মারাদোনা যে অকথ্য দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বড় হয়ে উঠেছিলেন সেই দুঃসহ দারিদ্রই বেঁধে রেখেছিল নেপলসকে। সেই সময় নেপলস ছিল ইতালির দরিদ্রতম শহর। দিয়েগো ১৯৮৪ সালে নাপোলিতে যোগ দেন। ১৯৮০ সালের এক ভয়ংকর ভূমিকম্পে নেপলস লন্ডভন্ড হয়ে যায়। সেই সুযোগে ক্যামোরা নামক নৃশংস মাফিয়া সিন্ডিকেট নেপলসের কার্যত টুঁটি চেপে ধরে। সেই সময় উত্তর ইতালির এসি মিলান, ইন্টার মিলান কিংবা জুভেন্টাসের মতো ধনী ক্লাবগুলি ইতালির ফুটবলে নিরঙ্কুশ দাপট দেখাত। নাপোলির মতো তুলনামূলকভাবে গরিব দক্ষিণ ইতালির ক্লাব, আর্থিক ভাবে সম্পন্ন এসি মিলান কিংবা জুভেন্টাসের সমর্থকদের কাছে চূড়ান্ত অপমান এবং অবজ্ঞার শিকার হতো। তাই বিশ্রীভাবে লাঞ্ছিত নাপোলি সমর্থকদের কাছে ফুটবল নিছকই একটা খেলা ছিল না, বরং ফুটবলই তাঁদের বেঁচে থাকার মাধ্যম ছিল। চূড়ান্ত হতাশা এবং ব্যর্থতায় ডুবে থাকা দক্ষিণ ইতালির ওই ক্লাবকে যথারীতি একক দক্ষতায় মারাদোনা দুবার তৎকালীন পৃথিবীর অন্যতম সেরা লিগ ইতালীয় লিগে (সেরি এ) চ্যাম্পিয়ন করেন।

নাপোলির গায়ে লেগে থাকা অপমানের থুতু সাফল্যের বৃষ্টিতে ধুয়ে যায়। কিন্তু মারাদোনা নাপোলিতে আসার আগে পর্যন্ত ওই ক্লাব কখনই ইতালীয় লিগে সাফল্য পায়নি। আবার উনি চলে গেলে ওই ক্লাবের লিগ থেকে দ্রুত অবনমন ঘটে! ব্রিটিশ পরিচালক আসিফ কাপাডিয়া মারাদোনার উপর চমৎকার একটি তথ্যচিত্র তৈরি করেছেন। আসিফ কাপাডিয়া যথার্থই বলেছেন যে মারাদোনার নাপোলিতে খেলার তুল্যমূল্য হতে পারত যদি মেসি প্লাইমাউথের মতো অখ্যাত কোন ক্লাবে খেলতেন!

বাস্তবিকই, ক্লাব ফুটবলে মেসি প্রশ্নাতীত সাফল্য পেলেও বার্সেলোনাতে ওনার সতীর্থ ছিলেন/ হলেন ইনিয়েস্তা, পুয়োল, জাভি, সুয়ারেজ কিংবা নেমারের মতো বিখ্যাত ফুটবলাররা যাঁরা ওনাকে নিরন্তর সাহায্য করে গিয়েছেন। মারাদোনার মতো এমএল টেনকে কার্যত একক দক্ষতায় ক্লাবকে টানতে হয়নি!

মেসি যে ষষ্ঠ বারের জন্য ব্যালন ডি অর পুরস্কার জিতেছেন সে বিষয়ে কোনও নেতিবাচক প্রশ্ন তোলার সুযোগই নেই। মেসির দক্ষতা প্রশ্নাতীত। কিন্তু ফুটবলের মতো একটি দলগত খেলায় মারাদোনা যেভাবে একার হাতে আর্জেন্টিনার মতো একটি মাঝারি মানের দলকে এবং অখ্যাত নাপোলি ক্লাবকে শ্রেষ্ঠত্বের চূড়ায় নিয়ে গিয়েছিলেন তা এক কথায় অবিশ্বাস্য এবং ফুটবল জগতের এক অপরূপ দিগন্তের উন্মোচন করেছে।

তাই মারাদোনা মেসির থেকে বেশ খানিকটা এগিয়েই রইলেন।

(বিষয় বা মতামত একেবারেই লেখকের ব্যক্তিগত। তার দায় দুর্গাপুর দর্পণ কর্তৃপক্ষের নয়।)

দুর্গাপুর দর্পণ- যোগাযোগ- 9434312482

https://durgapur24x7.com/stuart-broad-a-real-fighter/

aamarvlog

শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, রান্না সহ আরও নানা কিছু। আমার ব্লগ- হাবি জাবি নয়। যোগাযোগ- ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ- 9434312482 ই-মেইল- [email protected]

Feedback is highly appreciated...

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: