জিতেন্দ্র প্রার্থী হওয়ায় পাণ্ডবেশ্বরে কি ‘ওয়াকওভার’ পেয়ে গেল তৃণমূল?

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটিও সাবস্ক্রাইব করে রাখুন বিভিন্ন আপডেট পাওয়ার জন্য।

দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর, ২০ মার্চ ২০২১: জিতেন্দ্র তিওয়ারি প্রার্থী হওয়ায় পাণ্ডবেশ্বরে কি ‘ওয়াকওভার’ পেয়ে গেল তৃণমূল? তৃণমূলের একটা অংশ এমনটাই মনে করছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে আগাম অভিনন্দনও জানাতে শুরু করে দিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীকে। জিতেন্দ্র তিওয়ারি একবার তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিতে না পেরে ফের তৃণমূলে ফেরা। শেষ পর্যন্ত বিজেপিতে যোগ দেওয়া। এবং, তিনি পাণ্ডবেশ্বরের টিকিট পেলে নির্দল প্রার্থী দেওয়ার হুমকি বিজেপি কর্মীদের।

তবু  তাঁকেই পাণ্ডবেশ্বরের প্রার্থী করেছে বিজেপি। প্রতিবাদে রাস্তা অবরোধ, টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ, প্রার্থী বদলের দাবি, দলের জেলা সভাপতি লক্ষ্মণ ঘোড়ুইয়ের বিরুদ্ধে স্লোগান, উত্তেজনার শেষ নেই পাণ্ডবেশ্বরে। বিজেপির কর্মীদের একাংশের অভিযোগ, জিতেন্দ্র তিওয়ারি বিজেপির বহু কর্মীর উপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করেছেন। ঘর ভেঙেছেন। অনেকে ঘরছাড়া। কোনও ভাবেই তাঁকে তাঁরা মানতে পারবেন না। আর, এই পরিস্থিতিতে নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর লড়াই অনেকটাই সহজ হয়ে গিয়েছে বলে মনে করছেন তৃণমূলের অনেকে।

তৃণমূলে থাকার সময় শুরু থেকেই পাণ্ডবেশ্বরের ব্লক সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর সঙ্গে জিতেন্দ্র তিওয়ারির বিবাদ ছিল। জিতেন্দ্র জেলা সভাপতির পদ থেকে আচমকা ইস্তফা ও দলত্যাগের পরে জিতেন্দ্র তিওয়ারির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যেই তোপ দেগেছিলেন নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। বলেছিলেন, এবার পাণ্ডবেশ্বরে ঢুকলে ঠ্যাং ভেঙে দেওয়া হবে। পরে দলে ফিরে পাণ্ডবেশ্বরে গিয়ে হুঁশিয়ারি দেন জিতেন্দ্র তিওয়ারি,  বাড়াবাড়ি করলে বাড়ি থেকে বেরোতে দেওয়া হবে না। পাড়ায় গিয়ে সমাধান করা হবে।

তবে ২ মার্চ জিতেন্দ্র বিজেপিতে যোগ দেওয়া এবং ৫ মার্চ তৃণমূল প্রার্থী হিসাবে নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর নাম ঘোষণার পরে পরিস্থিতি বদলে যায় দ্রুত। একদিকে, জিতেন্দ্রকে বিজেপির প্রার্থী করা  হলে নির্দল প্রার্থী দাঁড় করানোর হুমকি দেন বিজেপির একাংশ। অন্যদিকে প্রচারে ব্যাপকভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েন নরেন্দ্রনাথ। পাণ্ডবেশ্বর ও লাউদোহা, দুটি ব্লকের প্রায় সর্বত্র দেওয়াল লিখন শেষ হয়ে গিয়েছে। নিয়মিত কর্মীসভা হচ্ছে। বাড়ি বাড়ি প্রচার চলছে। সেখানে, বিজেপির প্রচার এখনও সেভাবে শুরুই হয়নি। তাই অনেকেই মনে করছেন পাণ্ডবেশ্বরে এগিয়ে রয়েছে তৃণমূলই।

কিন্তু সত্যিই কি তাই?  তৃণমূলেরই অন্য অংশের মতে, লড়াই এত সহজ হবে না। কারণ, নতুন করে তৃণমূলে ফেরার পরে পাণ্ডবেশ্বরে কয়েক হাজার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে রোড শো করে জিতেন্দ্র প্রমাণ করে দিয়েছিলেন, তাঁর সঙ্গে রয়েছেন তাঁর অনুগামীরা। তিনি বিজেপিতে গেলে তাঁরা যে স্বাভাবিকভাবেই তাঁর পক্ষেই থাকবেন তা বলাই বাহুল্য। তাছাড়া বিধায়ক হিসাবে তিনি গত পাঁচ বছরে নানা ভাবে এলাকার মানুষের পাশে থেকেছেন। লকডাউনে খাবারের ব্যবস্থা করেছেন, পুজোয় শাড়ি দিয়েছেন, ধুপ বিলি করেছেন। বিজয়ায় শুভেচ্ছা জানিয়ে মিষ্টির প্যাকেট পাঠিয়েছেন। ফলে জিতেন্দ্র প্রার্থী হওয়ায় বাড়তি সুবিধা রয়েছে বিজেপির। ইভিএমের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কে জয়ী হয় সেটাই দেখার!

আরও পড়ুন- ঘরের মেয়ে অগ্নিমিত্রা প্রার্থী হওয়ায় খুশি আসানসোল দক্ষিণের বিজেপি কর্মীরা

 

 

 

aamarvlog

শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, রান্না সহ আরও নানা কিছু। আমার ব্লগ- হাবি জাবি নয়। যোগাযোগ- ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ- 9434312482 ই-মেইল- [email protected]

Feedback is highly appreciated...

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: